somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবেক যেখানে শূন্য, জীবন সেখানে অবান্তর

০৩ রা জুন, ২০১৬ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'পরের দিন ছুটি আছে, চল কোথাও ঘুরে আসি'- এক বন্ধুর প্রস্তাবে বাকি দু'জন রাজি হয়ে গেল। ঠিক হল তারা নেত্রকোনার বিরিশিরি যাবে। কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়ে, হাওর এক্সপ্রেস। তারা টিকেট কেটে ট্রেনে চেপে বসলো।

ট্রেন লোকারণ্য, কোথাও তিল ধারনের জায়গা নেই। বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন থামামাত্র দরজা তো আছেই, জানালা দিয়েও একের পর এক লোক ঢুকতে লাগলো। এক ভদ্রমহিলার কোলে শিশুসন্তান ছিল, জানালা দিয়ে এক লুঙ্গি পরিহিত লোক এসে সেই ভদ্রমহিলার গায়ের উপর পড়ল, কেউ দেখার নেই, কেউ থামাবার নেই। যাত্রীদের একজন প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মা-বোন তুলে গালাগাল করা হল, একজন বোধহয় যৎসামান্য চড়থাপ্পরও মেরে বসলো। এর মধ্যে ঐ বগিতে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। বুকে প্রচণ্ড ব্যাথা, দরদর করে ঘামছেন, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে- এরকম পরিস্থিতি। সেই তিন বন্ধুর একজন ছিলেন চিকিৎসক, তিনি দেখে হৃদরোগ সন্দেহ করলেন এবং রোগীর সঙ্গীকে দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিতে বললেন। রোগীর স্বজন তাদের সহায়তা চাইলে তারাও তৎক্ষণাৎ যাত্রা বাতিল করে উনাদের সঙ্গে নেমে যেতে সম্মত হলেন, প্রমোদভ্রমণের চেয়ে জীবনের আহ্বান অনেক বড়।

কিন্তু ভাগ্য এতোটাই সুপ্রসন্ন যে, জানালা দিয়ে অনর্গল লুঙ্গিপড়া-অর্ধউলঙ্গ মানুষ টপটপ করে ভেতরে এলেও সেই রোগীটিকে ট্রেন থেকে বের করা গেল না। ডাক্তার ও তার বন্ধুগণ চিৎকার করে 'ভাই মরণাপন্ন রোগী আছে, প্লিজ একটু রাস্তা ছাড়েন' বলেও লাভ হয়নি, সবাই ভিড়ে নিজের জায়গা রক্ষায় ব্যস্ত। কেউ একজন মন্তব্য করলেন, 'রোগী লইয়া ট্রেনে উঠছে ক্যান, প্লেনে গেলেই পারে।' যথাস্থান হলে এমন মন্তব্যের যথাযথ প্রত্যুত্তর দেয়া যেত, কিন্তু তখন সে অবস্থা নেই। ট্রেন চলতে শুরু করেছে, অনেক ধাক্কাধাক্কি করেও যখন পথ করা গেল না, তখন ট্রেনের শিকল খোঁজা হল, সেটা টানলে নাকি ট্রেন থামানো যায়। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, ট্রেনের শিকলটি বোধহয় জন্মলগ্ন থেকেই বিকল। রোগী, তার স্বজন, এবং ঘটনাক্রমে জড়িয়ে পড়া সেই বন্ধুত্রয় অবাক হয়ে দেখল, পুলিশের এক কনস্টেবল বগিতে ঢুকছে আর সবাই তাকে পথ করে দিচ্ছে। যে জনতা রোগীকে বের হতে দেয়নি, সেই ভিড়ের মধ্য দিয়ে কী অনায়েসে সেই পুলিশ সদস্যের জন্য জায়গা হয়ে গেল!

তারা যখন রাত দেড়টায় জয়দেবপুর স্টেশনে নামলো, রোগী ততক্ষণে প্রায় সংজ্ঞাহীন। শুধু জনবহুল নয়, বিবেকহীন মানুষে পূর্ণ একটি দেশে জন্মানোই ছিল ওই রোগীর আজন্ম পাপ। প্রমোদভ্রমণে বের হওয়া তিন বন্ধুর জন্য এটা হয়ে গেল শিক্ষাসফর, যে দেশকে তারা ভালোবেসে বড় বড় বুলি ছেড়ে এসেছে এতকাল, সেদেশের আপামর জনসাধারণের এই অসাধারণ আচরণ না দেখলে তাদের শিক্ষাটাও অসম্পূর্ণ রয়ে যেত।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×