- গুরুজী!
: বলো বৎস! কী সমস্যা তোমার?
- আমার অনেক দুঃখ যে!
: এতো দুঃখ কিসের?
- সেটাই তো সমস্যা বাবা, সবই আছে, অথচ দুঃখ যাইতেছে না!
: অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষা সব আছে?
- প্রচুর।
: মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ?
- সেগুলাও আছে, সকলই লেটেস্ট মডেলের।
: তাহা হইলে ঘটনা অতি সাধারণ। তোমার সবই আছে, কিন্তু জ্ঞান নাই। গুরুজনেরা বলিয়াছেন, অজ্ঞতাই দুঃখের কারন।
- তাহা হইলে প্রচুর জ্ঞানার্জন করিলে দুঃখ দূর হইবে?
: নিশ্চয়ই, কিন্তু তুমি জ্ঞানের কথা বলিতেছ? দুঃখ দূর হইলে শূন্যতা আসিবে। উহাকে সুখ দ্বারা পূর্ণ না করিলে চলিবে কি প্রকারে? সুখ আনিবার জ্ঞানই প্রকৃত জ্ঞান বৎস।
- তাহা হইলে উপায়?
: শোন নাই, 'ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ'?
- শুনিয়াছি বটে।
: তবে বিলম্ব কেন? দূরে দানপাত্র দেখা যাইতেছে, উহাতে ঐ সকল আবর্জনা ত্যাগ করিয়া গৃহে ফিরিয়া যাও। সুখ আসিবে নিশ্চয়।
দানপাত্র ভরিয়া উঠিল। বড় শহর, দুঃখী মানুষের অভাব নাই। তাহাদের ত্যাগের সুবিধার্থে দানপাত্র একাধিকবার খালি করিয়া রাখা হইল, ততধিকবার তাহা দুঃখী মানুষের ত্যাগে ভরিয়া উঠিল।
শহরবাসীর দুঃখের খবর জানা যায় নাই, কিন্তু গুরুজীর দুঃখ দূর হইল বটে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৬ রাত ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



