পারুল বলেছিল, আমি নাকি বড্ড বেয়ারা।
খাওয়া ঘুমের ঠিক নেই, ঠিক নেই বাড়ি ফেরার সময়ের,
ঠিক নেই আমার আকাশে মেঘ, ঠিক নেই মেঘের আড়ালে রোদ্দুর,
পারুল বরই খেতে ভালোবাসতো।
আমি অফিস থেকে ফেরার পথে মগবাজারের মোড়ে
হেঁটে হেঁটে বরই খুঁজতাম, না পেলে জামরুল,
কখনো কখনো খালি হাতে ফিরতাম। পারুলের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়-
একটু জলদি ফিরে আসি, শ্রাবণের দিনে বৃষ্টির ধারা
যেন আমায় অক্ষত রেখে ভাসিয়ে নেয় সবকিছু।
কত যত্নে আমার ব্যাগটাতে নীল ফোল্ডিং ছাতাটা গুঁজে দিত,
আর আমি? ধুলোর শহরে ঝড়ো হাওয়া শেষে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করেছে,
আনমনা হেঁটে চলা আমার দৃষ্টি খুঁজে বেড়াতো একটা শাপলা কিংবা টগর,
ভুলে যেতাম, মহানগরীতে ফুল নেই, নেই স্বপ্ন দেখার বিলাস।
নীল ছাতাকে শুকনো রেখে কাকভেজা আমি ফিরতাম,
পারুলের সে কী রাগ! তোয়ালে হাতে মাথা মুছিয়ে দেয়ার ফাঁকে
কত অনুযোগ! কত অভিমান! গাল ফুলিয়ে বসে থাকা আমার পারুল।
আমার অনিয়মে অবহেলায় অনিরুদ্ধ আবেগে আগলে রাখা আমার পারুল।
পারুল কী জানে, আমি একদিন ঠিক শুধরে গিয়েছিলাম?
বাড়ি ফেরার সবটুকু তাড়া শেষ করে, অফুরন্ত বিশ্রামে
বৃষ্টির জল থেকে বেশ দূরে, শান্ত আমি নিয়ম মেনে চলেছি,
পারুল কী জানে, শান্ত এই মাটির ঘরে কেন শান্তি নেই?
নেই আমার হারিয়ে যাওয়া সাদাকালো পারুলরাঙা দিনগুলি?
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


