somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত দেখার গল্প ! :-&

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একটা পোর্টে কাজ করি। অফিস থেকে বাসা পেয়েছি। এই ছোট্ট শহরটার একপাশে। আর জিমনেশিয়ামটা হলো শহরের আরেক পাশে। তখন আমার নাইট শিফট চলছিলো। সে রাতটাতে কোন শীপিং ও ছিলো না। আমার বাসায় কলিগদের সাথে আড্ডা মারছিলাম। শেষ হতে হতে রাত সাড়ে নটা হয়ে গেলো। দশটার দিকে গাড়ি বের করে জিমে হাজিরা দিতে গেলাম। যথারীতি তখন ব্যায়ামাগারে কেউ ছিলো না। টিভি দেখতে দেখতে ট্রেডমিলে দৌড়ালাম ৪০ মিনিট। স্ট্রেসিং আর সব রুটিন শেষ করতে করতে দেখি রাত পৌনে বারোটা।

জিম থেকে ফেরার সময় নিজেকে বেশ পালোয়ান-পালোয়ান লাগে। তাই বোধ হয়, বাসায় ফেরার সময় কি যে মাথা আসলো জানি না। পয়েন্ট স্যামসন-রোবর্ন রাস্তাটার স্পিড লিমিট ১১০ কিমি। কেন যেন মনে হলো ওখান থেকে ঘুরে বাসায় যাবো। এই পথে কখনও যাই না মানে যাওয়া হয় না। অনেকটা নতুন রাস্তা। হেডলাইট ছাড়া কোন রাস্তার লাইটও নাই। তারপরও কোন রকম ভয় লাগা ছাড়া হাইওয়ে তে উঠলাম।
আপনাদের অনুধাবনের জন্য জায়গার ম্যাপ দিলাম।


পয়েন্ট স্যামসন হাইওয়ে থেকে বামে উইকহ্যাম ড্রাইভে ঢুকবো... এমন সময় দেখি একজন আদিবাসি ভদ্রমহিলা রাস্তার ঐ পাড়ে দাড়ায়ে। বয়েস্কা একজন। ৫০+ হবে। মনে হলো কাদতেছেন। গাড়ি থামায়ে জানালার কাঁচ নামায়ে জানতে চাইলাম উনি ঠিক আছেন কিনা........ দেখলাম আস্তে আস্তে রাস্তা পার হয়ে গাড়ির কাছে চলে আসলেন। শব্দ করে কাদতে কাদতে....

এমনি তেই এখানকার আদিবাসিরা একটু কদাকার (আল্লা মাফ করুন !) আর কান্নাভেজা মুখ আরো বেশী বিভৎস লাগছিল। হটাৎ দেখি উনার চোখটা যেন মরা মানুষের চোখ। ততক্ষনে উনি একদম জানালার কাছে চলে আসছেন। এসে হাত বাড়ায়ে দিলেন.... মনে হলো আমার গলা চেপে ধরবেন.....

দ্যাস ইট ! হটাৎ চরম ভয় আমাকে ঘিরে ধরলো। আতংকের মুহুর্তে ক্লাচ ছেড়ে এক্সিলেটার চাপ দিলাম। টান দিয়ে উইকহ্যাম ড্রাইভে ৫০মিটার ঢুকলাম।
কয়েক সেকেন্ডে মাথা ঠান্ডা হতে লজ্জা লাগলো। তিন বছর ধরে এখানে থাকি। মোটামুটি এখানকার সবাই আমাকে চেনে।
যাই হোক, ইউটার্ন করে ঘুরায়ে ফিরে গেলাম। ভাবলাম দুর থেকে দেখি। তারপর পুলিশ কে কল দেবো। উনার হয়তো সাহায্য লাগবে। হয়তো আসলেই বিপদে পড়ছেন...

গাড়ি ঘুরায়ে গেলাম। গিয়ে দেখি উনি নাই। একদম উধাও। যেন বাতাসে মিলায়ে গেছেন। আসে-পাশে একদম খালি জায়গা। লুকানোর কোন স্পট নাই! ভালো করে আবার দেখলাম। বার বার দেখলাম .... নাই ....

কলিগদের সাথে আলোচনা করে জানলাম আদিবাসিরা চরমভাবে স্পিরিট/ আত্মায় বিশ্বাস করে। ঐ জায়গা আর ঘোস্ট গুম স্ট্রিট (ম্যাপে দেখতে পারেন) এ অনেকেই নাকি দেখছে।

এর পর অনেক বার ঐ জায়গাগুলাতে রাতে গাড়ি চালাইছি। কিন্তু আর কখনও কাউকে দেখি নাই।
এখনো বিশ্বাস করতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয় হয়তো আমার তখন হ্যালোসিনেশন হইছিল, ভুল দেখছি। জানি না....


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০১
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×