somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গন্তব্য

২৩ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তদন্তের কাজে বেরিয়েছি।ইদানিং আমার দিনকাল বেশ ভালই কাটছে বলা যায়।একটা শেষ না করতেই আরেকটা হাতে চলে আসে।আর এভাবেই থাকতে পছন্দ করি।নিজের মস্তিষ্ককে বেশিক্ষণ বিশ্রাম দিয়ে ফেললেই উসখুস শুরু হয়ে যায়।



আমি যাচ্ছিলাম কাজে।কান্দিরপাড়ের মোড়ে এসেছি ঠিক এমন সময় রাস্তায় মিসির আলির সাথে দেখা।উনি দেখি দোকান থেকে কি কিনছেন।আমি এড়িয়ে যেতে চাইছিলাম কিন্তু উনি দেখে ফেললেন।কি আর করা অগত্যা কিছু আজাইরালাপ করলাম।ওনার কথা শুনে আমার কাছে মনে হচ্ছিলো একজন গর্দভের সাথে আলাপ আলোচনা করছি।কি সব আজগুবি কাহিনী শুনাচ্ছেন।ভুত প্রেত আরকি।ভদ্রলোক বিয়ে করেননি।একা থাকতে থাকতে পাগল হয়ে যাচ্ছেন।

যাহোক কোন রকম পাশ কাটিয়ে এসেছি ওনাকে সামনে আরেক বিপদ এসে হাজির।তিন ছোকরা গল্প করতে করতে যাচ্ছে।শখের গোয়েন্দাগিরি করে।জিজ্ঞেস করলাম,''কি অবস্থা?গোয়েন্দাগিরি কেমন চলছে?"

দাঁত কেলিয়ে কিশোর বললো "বেশ চলছে।আমরা তো শখের গোয়েন্দা।সমাধান করতেই হবে এমন কোন কথা নেই।তাই নিশ্চিন্ত থাকা চলে।"
এই কেস সেই কেস নিয়ে গল্পগুজব করতে করতে কাজের কথা বেমালুম ভুলতে বসেছিলাম।

আর দেরি করা চলে না।যত দ্রুত সম্ভব যেতে হবে।দ্রুত হাঁটছি সামনে চায়ের দোকান চোখে পড়লো।এককাপ চা খাওয়া চাই।চায়ের দোকানে ঢুকেই দেখি কিঢ়িঢি রায় বসে চা বিড়ি ফুঁকছেন।দেখা হতেই বাণি শুনিয়ে দিলেন,
"যদি কোন দিন এই শহরে কোন perfect murder হয় তাহলে জানবেন সেটা আমি করেছি"
বলালাম বেশ বেশ।আগে হোক তারপর দেখা যাবে।সেখানে আরো ২ ঘন্টা কাটানোর আগে উঠতেই পারলাম না।

আমার গন্তব্যের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি।আর কারো সাথে যেন দেখা না হয় মনে মনে তাই বলছিলাম।দেখা হলেই সবাই খালি খাজুইরা আলাপে মেতে ওঠে যখন দেখে আমি তার ক্যাটাগরির লোক।ঠিক তখনই আবারো আরেকজন।

ইনি ব্যোমকেশ বোক্সী।তার ডায়লগ,
"আমি গোয়েন্দা নই।আমি একজন সতেন্বেশী।গোয়েন্দা শব্দটা কেমন যেন মেকি মেকি লাগে"

আমি বেরিয়েছি সকাল ১০ টায় শার্লক হোমস জরুরি তলব করেছিল।এখন দুপুর ৩ টে।আমার গন্তব্যে এসে গেছি।221B Baker street.শার্লকের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি তার ঘরের সাড়ে ৩২ টা বেজেছে।ভেতরের আসবাব পত্র সব চুরমার।চারদিকের দেয়ালের আস্তর খসে পড়েছে।উপড়ে ছাদ ভেঙে গিয়েছে।কিন্তু শার্লক তার আগের অবস্থানেই ঠিক আগের মতই গভীর মনসংযোগে চিন্তা করে যাচ্ছে।তার হৃদয়ভেদী সূক্ষ দৃষ্টি নিয়ে এখনও তাকিয়ে আছে সে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃযদি ইতিহাসের সকল গোয়েন্দাদের একসময়ে একজায়গায় এনে দেয়া হয় তাহলে একটি সকাল যেভাবে শেষ হবে তার হাল্কা একটা ইঙ্গিত দেওয়া হল আরকি।এখানে শুধু বাঙালি গোয়েন্দাদের নিয়েছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:১৬
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×