somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মৌমাছি ও একজন পুরুষ মানুষ (র্পব-১)

০৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একজনকে চিনতাম, যে সারাক্ষণ হাসতে পারতো। যার বুকে গুলি লেগেছিল, তবু সে হাসি বন্ধ করেনি। হাসতে হাসতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল সে। পৃথিবীতে একই চেহারার অনেক মানুষ থাকে। আমি জানি, আমার মতো সবাই মানুষে মানুষে মিল খুঁজে বেড়ায়। মানুষেরা নাকি মরে যায় নিজের ইচ্ছের কাছে। ইচ্ছামৃত্যুর এই ধারণা খুবই যৌক্তিক। ইচ্ছামৃত্যুর আরেক নাম আত্মহত্যা। এতে কোন কষ্ট থাকে না। কিন্তু বেঁচে থাকার প্রচণ্ড আকুতি নিয়ে যদি কেউ মরে যায়, তাতে অনেক বেশি যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকে। হাসতে হাসতে যে মৃত্যু- তাতে কোন কষ্ট নেই। তাতে সারা জীবনের ইচ্ছের একটা সমন্বয় থাকে। এই দলের লোকেরা তাদের থেকে আলাদা লোকেদের পছন্দ করে না। কারণ তারা চিরদিন হেসেখেলে কাটাতে চায়। যদিও হাসি ব্যাপারটা আপেক্ষিক। মানুষ কখন হাসছে আর কখন হাসছে না সেটা নির্ণয় করা খুবই কঠিন। হয়তো তার বাহিরটা হাসছে, কিন্তু বুকের ভেতর অশ্রুপাত হচ্ছে। সুতরাং হুটহাট এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক না।

আমি ছোটবেলায় খুব হাস্য রসিক ছিলাম। যখন কেউ হাসতো তখন আমি হাসতাম; যখন কেউ কাঁদতো তখনো আমি হাসতাম। হাসির মাঝে একটা পৈশাচিক আনন্দ পাওয়া যায়। আমি সেই আনন্দ তখন উপভোগ করতে চাইতাম। এখন আমি যেভাবে বেঁচে আছি, সেভাবে তখন বাঁচতে ইচ্ছে হতো না। আমি এখন হাসতে পারি না; মনটা ভারী হয়ে থাকে। কপালে সব সময় সরু একটা অমোচনীয় ভাঁজ রেখে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বুকের ভেতর কিসের যেন ভীষণ আর্তনাদ। খুব অল্প বয়স থেকেই এটা শুরু হয়েছিল। যখন লায়লীর সাথে প্রথম দেখা হলো, তখন থেকে চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারের মতো মনটা সব সময় এক ধারায় প্রবাহিত হতো। সেই ক্যালেন্ডারের মতোই দুলতো আমার মন। সব সময়। লাইলীর সাথে দেখা হবার আগে জীবনটা খুব অন্য রকম ছিল। তখন আমি হাসতাম। এখন আর আমি হাসতে পারি না। হাসতে গেলে গলায় কাঁটার মতো বেঁধে। কারণ এখন আমি জানি লাইলী নামের একটি মেয়ে আমাকে ভালোবাসে না। আমি তার ভালোবাসার উপযুক্ত না। কেউ আমাকে দূর থেকে লক্ষ্য করে না। আমাকে দেখে কেউ মুগ্ধ হয় না। কারো বুকে স্বপ্নের জাল তৈরী হয় না আমাকে দেখে।

লায়লী আমাকে ভালবাসে নি কেন? আমি দেখতে সুন্দর নই তাই? আমি মেধাবী নই তাই? আমি নাচতে বা গাইতে পারি না, তাই? ব্যংকে আমার আমার কোটি কোটি টাকা জমা নেই তাই? ভালবাসতে হলে খুব সৎ হতে হয় কিন্তু আমি সৎ নই, তাই? আমার মধ্যে কী এমন নেই, যা থাকলে লায়লী আমাকে ভালবাসতো? ভাবতে ভাবতে ভাবনারা ক্লান্ত হয়ে আমার দিকে ফিরে আসে। কিন্তু সেসব প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাই না। আমি এখন আর জীবনবাদী নই। আমি হতাশাবাদী। কাব্যের মতো বিষন্ন হয়ে যাচ্ছি আমি। কারণ, আমার জীবনে লায়লী নেই, ছিল না, থাকবে না। তাই আমার জীবনটা একাকীত্বে ঘেরা।

আমি কেন লায়লীকে দেখে মুগ্ধ হলাম? কি ছিল ঐ লায়লী নামক বালিকার মুখে? মাত্র ১০/১২ বছর বয়স ছিল ওর। মেয়ে মানুষের দেহেই কি তার সবকিছু লুকিয়ে থাকে? তা না হলে ওকে দেখলেই কেন আমার সারা দেহে কম্পন সৃষ্টি হতো? এটা কি শুধুই জৈবিক প্রক্রিয়া, নাকি অন্য কিছু? এতে কি সত্যিই মানুষের কোন হাত নেই? এটা শুধুই একটি প্রাকৃতিক ঘটনা? পৃথিবীর সব ছেলেই না কি, যে কোন মেয়ের ব্যাপারে ভেতর থেকে একটা দূর্বলতা বোধ করে। আমি কি ধরে নেব লাইলীর প্রতি আমার এই আকর্ষণও একটা গড়পরতা জৈবিক অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই নয়? যদি তাই হয়, তবে আমি কেন এটা মেনে নিতে পারি নি এতটা দিন? কেন আমার মনে হতো আমার জন্ম হয়েছে শুধু লায়লীকে ভালবাসবার জন্য?

আমার সারাটি জীবন কেটেছে লাইলীর প্রেমে মগ্ন অবস্থায়। আমার প্রেমই আমার একমাত্র নিয়তি! আমি শুধু দুর্ভাগ্যকে বরণ করে নিয়েছি আমার এই যাপিত জীবনে! তবে এভাবে শুধু দুঃখকে বরণ করা আমার নিয়তি হতে পারে না। যেহেতু আমি হতে চাই প্রেমিক; হতে চাই সৌভাগ্যের দূত। আমি আমার বুকে শুধু ভালবাসা জমাতে চাই আমার প্রেমিকার জন্য। লাইলী লাইলী বলে চিৎকার করাটাই আমার কর্ম নয়। যেহেতু লাইলীর কাছে আমার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করা এখনও অনেক বাকি। আমি লাইলীর কাছে সত্যিকারের আমাকে প্রকাশ করতে চাই। তবেই সে বুঝতে পারবে আমার ভেতরকার হাহাকার!

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০২৩ রাত ২:২৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×