somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তন্দ্রাকুমারী
আমি হাসান সাখাওয়াত..

একটি মৌমাছি ও একজন পুরুষ মানুষ (পর্ব-৫)

১০ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন চেতনা ফিরে এলো, তখন আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটি হাসপাতালের বেডে। আমার মন খুব বিক্ষিপ্ত ছিল এবং পুরানো কোন কথা মনে করতে পারছিলাম না। আমি চেখের সামনে একজন সুন্দরী ডাক্তারকে দেখতে পেয়েছিলাম। মূলত ডাক্তারটি ছিল লায়লা। তাকে আমার খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছিল, কিন্তু কোনভাবেই স্মৃতির আঁকড় দিয়ে লেখা পুরাতন বেধের চিহ্ন আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যেহেতু সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম, সেহেতু ঐ রাতের পরের জীবন ছিল আগের জীবন থেকে একদম আলাদা। আমার বন্ধু-বান্ধবী এবং আত্মীয়-স্বজনেরা একের পর এক নতুনভাবে পরিচিত হতে লাগলো। এদের মধ্যে কে আমার বেশি ঘনিষ্ট আর কে আমার অপছন্দের- সে সম্পর্কে যেহেতু আমার কোন ধারণা নেই, সেজন্য পরিচিত, অপরিচিত কারো সাথেই আমি বেশিক্ষণ সময় কাটাতে চাইতাম না। আমি চোখ দিয়ে ভাবের আদান প্রদান করতাম। আমি সে সময় কোন কাজ করতে পারতাম না, সারাক্ষণ হাসপাতালের বেডেই শুয়ে থাকতাম। দীর্ঘ এক বছর আমাকে শুয়ে কাটাতে হয়েছিল।

মৌমাছিটি সে রাতের পর থেকে আমার মাথার সামনে উড়াউড়ি করতো এবং আমার পায়ের সামনে পিঁপড়াটি হাঁটতো। আমি শত চেষ্টা করেও কাউকে বোঝাতে পারি নি ব্যাপারটা। প্রাণী দুটিকে দূরে সরাতে পারি নি। এরপর থেকে সকালে, দুপুরে রাতে মৌমাছিটি আমকে কামড়াতে লাগলো। মৌমাছিটি ছিল অদৃশ্য; অর্থাৎ আমি ছাড়া আর কোন মানুষ ওটাকে দেখতে পেত না। অপর দিকে প্রথম কামড়ের পরে পিঁপড়াটি আর কোন কামড় আমাকে দেয় নি। পিঁপড়াটিও ছিল শুধু আমার জন্য দৃশ্যমান।

মৌমাছিটি আমার সাথে কথাও বলতো। প্রথম যেদিন কথা বললো, সে দিনটি ছিল আমার দিন বদলের দিন। আমি তখন খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। উঠে বসতে পারতাম না, নিজে নিজে খেতে পারতাম না- তার ওপর আমার সারা শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল, শুধুমাত্র শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি আর ঘ্রাণশক্তি ছিল। আমাকে হুইল চেয়োরে করে টয়লেটে যেতে হতো। মৌমাছিটি এবং পিঁপড়াটি আমার সাথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সব সময় থাকতো। লায়লীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আমার চিকিৎসা এগিয়ে যেতে থাকলো। যেখানে আমার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল, সেখানে আমার মতই আরো অনেক প্যারালাইসড রোগী ছিল। আমি কিছু বলতে পারতাম না, তবে চিন্তা করতে পারতাম। মৌমাছিটি আমার চিন্তাগুলো বুঝতে পারতো এবং সে ভাবেই আমাদের কথপোকথন হতো। প্রথম দিন সে এসে আমার কপালে বসলো, যেখানে সে আমাকে প্রতিনিয়ত কামড় দিয়ে যাচ্ছে। তারপর সে বলতে শুরু করলো।

- তোমার সব কষ্টের ভার নিতে এসেছি আমি। আমি এবং তোমার পায়ের কাছের পিঁপড়াটি ফব্লিও নামক নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণরত টোমেগা নামক গ্রহ থেকে এসেছি। লাইলীর প্রতি তোমার গভীর ভালোবাসা এক মহাজাগতিক তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে আমাদের মহাবিশ্বে। আমি যদি তোমার জীবনকে হাসি আনন্দে ভরিয়ে তুলতে ব্যর্থ হই তবে আমাদের মহাবিশ্ব অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।
- লাইলী কে? আমিতো লাইলী নামে কাউকে চিনি না!
- যে ডাক্তার তোমার চিকিৎসা করছে তার নাম লায়লী। তাকে তুমি ভালবেসেছ দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে। তাই আমি তোমাকে তার সংস্পর্শে এনেছি।
- আমার কিছুই মনে পড়ছে না।
- আমি তোমকে ওর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছি। এখন আর কোন দিন তুমি বুঝতে পারবে না, কত ভাল তুমি তাকে বাসতে।
- ও কি আমাকে চিনতে পেরেছে?
- না, ও তোমার বাল্যকালে তোমায় চিনতো। এখন আর ও তোমায় চেনে না।
- তুমি আমাকে কেন সাহায্য করছো?
- কারণ, তোমাকে সাহায্য না করলে তুমি মারা যেতে। আর যেহেতু আমি তোমাকে ভালবাসি, সেহেতু আমি তোমাকে মরতে দিতে পারি না।
- কেন তুমি আমাকে ভালবাসো?
- কারণ, একমাত্র তুমিই আমার গ্রহকে বাঁচাতে পার । আমি তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি। তবে তার জন্য আরো ১০বছর সময় লাগবে। তারপর তুমি আমার সাথে আমার মহাবিশ্বে চলে যাবে।

আজ সেই ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। আজকের তারিখ হলো ২১ জুন, ২০২০। গত ১০ বছরে অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের কাছে এক একে বলে যেতে চাই। আমার জীবনে গভীর সংকট থেকে কিভাবে আমি মুক্তি পেলাম, কিভাবে আমি প্রতিটি মুহূর্ত হাসতে হাসতে কাটালাম, সেসব অবিজ্ঞতা আমি আপনাদের জানাবো।


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৮
২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×