somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মৌমাছি ও একজন পুরুষ মানুষ (পর্ব-৮)

১৮ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ভাল-মন্দ আমি সৃষ্টিকর্তার চরণে সঁপে দিয়েছিলাম তখন। সে কারণে বোধ করি কোন কষ্ট হয় নি আমার মনের গোপন বাসনার কথা অকপটে আমার স্ত্রীকে জানাতে। ওর সাথে আমার সম্পর্ক ছিল মানবিক এবং যৌক্তিক। তবে কোথাও আটকে গেলে অযৌক্তিক হতে পারতাম আমি। মেয়ে মানুষের মন সব সময় যুক্তি বোঝে না। পরে অবশ্য যুক্তির কষ্টি পাথরে নিজেকে ঘষে নিতাম। ওর নারী জীবনের সব যন্ত্রণার কথা আমাকে বলতো, আর আমি মনোযোগ দিয়ে ওর কথা শুনতাম। ও আমাকে বলতো, ওর জীবনের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির কথা, স্বপ্নের ভাঙ্গা-গড়ার কথা, জীবন আর যৌবনের কথা। যেহেতু ওর কোন ভাই-বোন ছিল না, সেহেতু ওর মা-বাবার সম্পূর্ণ বুক জুড়ে স্থিতিশীল থাকতো ওর অবস্থান।

দীর্ঘদিনের প্রেমানলে পুড়ে আমি আমার পৌরুষের যে অবমাননা করেছি, তা ধীরে ধীরে কেটে যেতে লাগলো। এক সময় যেতেতু লাইলী আমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ জুড়ে ছিল এবং তাকে একান্তে আমি পাই নি কোন দিন, সেহেতু নূপুর ছিল আমার জন্য অন্য রকম এক ভালবাসার নাম। যেখানে আশার আশা ভেঙে পড়ে না। ভালবাসা মানুষের খুব সহজ এক প্রবৃত্তির নাম। আমি ভালবাসার কাঙাল। আমি ভালবাসতে ভালবাসি। কারণ, যে ভালবাসতে জানে না, সে শুধু ঘৃণা করতে শেখে। ঘৃণা হলো এক মানসিক বিকারের নাম। আমি কাউকে ঘৃণা করতে শিখি নি। নূপুরের ক্ণ্ঠস্বর আমার কাছে নূপুরের মতই বাজতো। খুব সুন্দর ছিল ওর হাসি। ওর চলার ভঙ্গী আর চিন্তার গভীরতা আমাকে মুগ্ধ করতো। এক সময় বিরহের আঘাতে যেমন জ্বালিয়েছি নিজেকে ঠিক তেমনি মিলনের আদরে নিজেকে সম্পূর্ণ করতে থাকলাম আমি।

আমি যখন নূপুরকে স্পর্শ করতাম তখন হৃদয়ে অন্য এক কম্পন খেলা করতো। এই কম্পনে ভয় ছিল, ব্যর্থ হবার আশঙ্কা ছিল, যৎসামান্য বিরক্তিও ছিল। নূপুর আমার মন থেকে লাইলীর স্মৃতি মুছে দিতে চায় নি। এটা ছিল ওর বদান্যতা। ওর সাথে লাইলীর বিষয়ে তেমন কোন আলোচনা কখনো করি নি। শুধু বলেছি আমি তাকে একতরফা ভালবাসতাম কিন্তু ও বুঝতে পেত আমার ভালবাসা। কি করলে বুঝতো আমাকে? তবে নূপুর আমাকে বারবার বোঝাতে চাইতো- একটি মেয়ের মুখ কি আরেকটি মেয়েতে নেই?

ওর সাথে আমার যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত গভীর এবং নিগূঢ়। আমরা অনেক সময় জানতেই পারি না যে, দুটি হৃদয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হলে একে অপরের কাছে তারা যা চায়, তাই তারা পায়। মানুষের ভাব-রস-বোধের জগৎ কতই না মধুময়!

-তুমি কি আমার মধ্যে তোমার স্বপ্নকে খুঁজে পেয়েছ?
খুব মায়াবী স্বরে ও আমাকে প্রশ্ন করেছিল। আমি হতবাক হয়ে সেদিন ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এই মেয়েটি আমার জন্য এতটা তরল হলো কি করে?
মুচকি হেসে জবাব দিয়েছিলাম,
-তোমার মাঝে আমি আমার জীবনের বাস্তবতাকে খুঁজে পেয়েছি- যে বাস্তবতা অনন্ত নক্ষত্রবীথির মতো স্বপ্নময়।
আমাকে জড়িয়ে ধরে ও সেদিন অনেক্ষণ কেঁদেছিল। আমাকে অনুরোধ করে বলেছিল, আমি যেন ওকে খুব সহজ করে কিছু বলি, কারণ আমার কথা ওকে ওর ক্লান্তিকর জীবন থেকে পরিত্রাণ দেয়। ওর ক্লান্ত থাকতে ভাল লাগে না। আমি ওর চোখের ভাষা সেদিন বুঝতে পারি নি। ও আসলে সেদিন লাইলীর কার্বন কপি হতে চেয়েছিল!

মৌমাছিটি আমার বাসর ঘরে সারারাত উড়াউড়ি করেছিল। সে আমাকে বারবার ইশারা করেছিল, আমি যেন ঘুমিয়ে না পড়ি। অন্য কারো কথা ভেবে আমি যেন জেগে থাকি। যেহেতু দীর্ঘ এক বছর আমি স্মৃতিহীন অবস্থায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, সুতরাং আমি শুধু স্বপ্ন দেখতে চাইতাম। ঘুমিয়ে গেলেই আমি লাইলীকে স্বপ্নে পেতাম। আমি ওর সাথে হাঁটতাম, সাঁতার কাটতাম, পাহাড়ে উঠতাম। সুতরাং আমার পুরুষ হৃদয় তৃপ্তির আশায় চোখ বন্ধ করতেই বেশি পছন্দ করতো এবং সেটাই যৌক্তিক ছিল।

এত কিছুর মধ্যেও কর্তব্যে আমি অবহেলা করি নি, তাই বলে! পেশাগত দায়িত্ব পালন শুরু করি ২০১১ সালের আগস্ট মাসের ১ তারিখে। বনলতা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলাম। এটি ছিল গুলশান-২ এ অবস্থিত। অতি আধুনিক কর্পোরেট লোকজনের আড্ডা ছিল সেখানে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগঃ সবুজের মিতালী মনে আনে প্রশান্তির ঢালি

লিখেছেন নিয়াজ সুমন, ২৪ শে জুন, ২০২১ সকাল ৯:৩৯


মেঘের বাড়ি
স্থানঃ সাজেক ভ্যালি, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি।

কংলাক পাহাড় সাজেক ভ্যালির সর্বোচ্চ চূড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেটার লেইট দেন নেভার - অবশেষে ছবি ব্লগে !

লিখেছেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, ২৪ শে জুন, ২০২১ সকাল ৯:৫৩

ছবি ব্লগ অনেক জমে উঠেছে। কিছুটা দেরি করে ফেললাম বলেই মনে হচ্ছে, তারপরও বেটার লেইট দেন নেভার। পোস্ট করছি আমার তোলা প্রিয় কিছু ছবি। জল, স্থল ও অন্তরীক্ষের মধ্যে জলই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু ছবি কিছু কথা

লিখেছেন হাবিব স্যার, ২৪ শে জুন, ২০২১ সকাল ১০:৪১


ছবি: ভালুকা ডাকঘরের সামনে স্থাপিত ডাকবাক্স, ময়মনসিংহ।

(১) একলা জীবন

প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে ডাকবাক্সের
এখন আর খোলা হয়না রোজ বারোটায়
দেহ জুরে তার বেঁধেছে বাসা মরিচিকা
হলদে রঙের খামে তোমার চিঠিখানা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগঃ কিছু ছবি কিছু স্মৃতি (৩)

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৪ শে জুন, ২০২১ সকাল ১১:৩৩

প্রিয় ব্লগার ভাই ও বোনেরা,

আমি আবারও এলাম আপনাদের মাঝে আমার তোলা কিছু ছবি নিয়ে । নিশ্চয় সবাই ভালো আছেন?আমিও ভালো আছি। ছবিগুলো আপনাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে শিক্ষিত বেয়াদব ধান্দাবাজ লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৪ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১২:৫১




আমাদের দেশে শিক্ষিত বেয়াদব ধান্দাবাজ লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। সত্যি চিন্তার বিষয়।।

নওম চমস্কি পৃথিবীর অন্যতম জীবিত দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী, বলা যায়, উনি একটি প্রতিষ্ঠান।
এত বড় একজন মহামানবকে যে সাক্ষাৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×