অনেক দিন ধরে ব্লগ পড়ি।কিছু দিন আগে রেজিস্ট্রেশান করলাম।অনেক বিষয় নিয়ে লিখতে চেয়েও লিখা হইনি।তার কারন আমি চেয়েছিলাম ভাল একটা বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করব।কিন্তু আজকের ব্যাপারটা এড়াতে পারলাম না।আগেই দুঃখিত যদি কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকি।
রোজ জিইসি মোড়ে সন্ধ্যায় আড্ডা দেয়া হয় বন্ধুদের সাথে। গতকাল ও আড্ডা দিচ্ছিলাম।আম্মু ফোন করে বলল ঔষধ নিয়ে যেতে।গেলাম ফার্মেসীতে।এই সময় এমনিতেই একটু ভিড় থাকে।আমি দাঁড়িয়ে আছি, সামনে মাঝ বয়সী
একটা লোক ঔষধ নিচ্ছে। একটু পর দেখলাম আমার পাশে একটা আমার আম্মুর বয়সী মহিলা আসলেন।উনাকে আমি খেয়াল করলাম উনার উচ্চবাক্য শুনে।দেখলাম উনি আমার সামনে দাঁড়ানো লোকটার সাথে জগড়া করছেন। একটু অবাক হলাম। এইমাত্র আসল মহিলা্টি।কি এমন ঘটলো যে আমি পাশে থাকা সত্ত্বেও খেয়াল করলাম না। তারপর মহিলার কথা শুনে বুঝলাম যে আমার সামনে থাকা লোকটা নাকি ওই মহিলাকে নাকি ইচ্ছা করে সামনে দাঁড়াতে দিচ্ছে না।মেয়েদের সম্মান দেই না ব্লা ব্লা ব্লা, হেন তেন আজে বাজে বলা শুরু করল।
লোকটি আশ্চর্যিত হল কারন সে দোকানদার এরদিকে ফিরে ঔষধ নিচ্ছিল তখন।একটা লোক এর যদি না পিছনে চোখ থাকে, সে জানবে না পিছনে কে আছে।
তারপর লোকটা অনেক করে বুজাতে চাইল মহিলাকে। সে জানত না, এর জানলেও সে নিজে ঔষধ না নিয়ে কেন ই বা মহিলাকে সামনে দিবে।
আমি তখন ভাবছিলাম, কত সময় আমরা এমনিতেই নষ্ট করি, কিন্তু আমরা কত অসহনশীল যে ২টা মিনিট অপেক্ষা করতে পারি না।
দোকানদার ও আমার মত ব্যাপারটি লক্ষ করলযে মহিলাটি ফালতু বারাবারি করছে।তবুও লোকটিকে অনুরোধ করল চুপ করে থাকতে। কিন্তু মহিলাটি নারীবাদী লেকচার দিয়েই যাচ্ছে।সবাই চুপ করে আছে, আমিও।
এরপর দেখলাম ৩-৪ টা লোক এসে ইভটিজিং বলে আজে বাজে কথা বলতে শুরু করলো। দেখলাম একটা জটলার সৃষ্টি হল। কি অদ্ভুধ মহিলা, বলছে না যে ব্যাপারটি ওরকম কিছু না।
আমি একটু প্রতিবাদ করতে চাইলাম, আবার ভাবলাম আমাকেও না আবার লেকচার দেয়া শুরু করে।
দোকানদার এগিয়ে এলো তারপর।তার হস্তক্ষেপে মানুষগুলো আর বেশী কিছু বলল না।
দোকানদার মহিলাটিকে ঔষধ দিয়ে বিদায় করলো। আর ওই লোকটি খুবই লজ্জিত হল।
যাওয়ার সময় আমাকে বলল- বাবা, দিন কাল অনেক খারাপ। সাবধানে চলাফেরা করো। এখন নতুন নতুন হয়রানি শুরু হইছে। আমরাই মান সম্মান নিয়ে চলতে পারি না। তোমাদের কি আর বলব।
লোকটি যাওয়ার পর আমার খারাপ লাগলো
জানি সবসময় ঘটনার প্রেক্ষাপট এরকম থাকে না।পথে ঘাটে আমাদের মা -বোন নানাভাবে ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। তাও বলব-
আমাদের আরও একটু সহনশীল আচরন করা প্রয়োজন।(মহিলারটির , সাধারন পথচারী আচরণ- এই ঘটনাই)
উদ্ভূত পরিস্থিথিতে আমাদের প্রয়োজনীয় ভুমিকা রাখা দরকার(যেটা আমি করিনি, আমি চুপ করে দেখলাম ।হয়ত আমি যদি ঘটনার শুরু তে আমার ভুমিকা পালন করতাম, আমার বাবার বয়সী লোকটাকে অপমানিত হতে হত না আর আমার ও এখন আপসোস করতে হত না
আর কোন নারীর উচ্চবাক্য শুনা মানে সে ইভটিজিং এর শিকার তা ঠিক নয়। আর হাজার কারন থাকতে পারে। আমাদের আগে ঘটনা টা জানা জরুরি।( সাধারন পথচারী দের বলছি)
আজ থেকে আমিও ব্লগার হয়ে গেলাম:
ও. আমি এখন সেফ ব্লগার--
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



