somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

না বলা কথা

২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামটা গোপন রাখলে কেমন হয়? আচ্ছা গোপন রাখলাম।
কেন গোপন রাখব? না এটা সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা, এটায়
লোক লজ্জার ভয় আছে। এটা অতীব গোপনীয়।

মাসটা মনে হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি হবে। একটি ডকুমেন্টারি
ফিল্ম নির্মানের জন্য আমারা ফরিদপুর শহর চষে বেড়াচ্ছি।
আমরা বলতে আমি, ডিরেক্টর, ক্যামেরাম্যান ও ক্রু সহ প্রায়
দশ জন। সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ। যে বিষয়ের
উপরে ভিডিওটি নির্মান করতে ছিলাম সেটা আপনাদের বলা হয়নি।
সেটাও এখানে বলা কপিরাইট আইনে আমার জন্য হারাম।
শুধু এটুকু বলতে পারি Bill Gates foundation এর অর্থায়নে
আমরা সে কাজটি দেশের একটি National level এর NGOর
জন্য করছিলাম।
আমি আপনাদের বস্তাপচা গল্প শোনানোর জন্য লিখছিনা।
আমি লিখছিনা আমার জীবনি। আমার চোখে যে সত্য ধরা
পরে সেগুলি আমি সযতনে সাজিয়ে রাখি। রাখার ভান্ডার
পূর্ণ হয়ে গেলে দম আটকে আসে। নিঃশ্বাস নেবার চেষ্টা করি।

দ্বিতীয় দিনের কাজ শেষ। খাবার হোটেল থেকে আমরা যখন বেরোলাম
তখন রাত সোয়া এগারোটা। সবাই রাত্রিযাপনের হোটেলে ফিরে যেতে
আমাদের গাড়িতে উঠব এমন সময় আমার এক সহকর্মী আমাকে বলল
যে চলেন দাদা একটু ঘুরে আসি। তার প্রস্তাব ফেলার মত ছিলনা আবার
পরের দিন ভোরে কাজ সেটিও মাথায় ছিল। ফলে একটা সিদ্ধান্তহীনতায়
ভুগছিলাম। এড়িয়ে যাবার জন্য বললাম দাদা রাগ করবে। কিন্তু সহকর্মীই
দাদাকে বলে বসল যে আমাকে নিয়ে আধাঘন্টা ঘুরে আসবে। দাদা দ্বিমত প্রকাশ
না করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে বলে সবাইকে নিয়ে চলে গেল হোটেলে।

আমি আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। তবে সেটা ভুল ছিল। খাবার হোটেলে বসে
সে আমার কাছ থেকে একহাজার টাকা নিয়েছিল। আমি মনে করেছিলাম হয়তো
মদ খাবে। কিন্তু যখন রিকশায় উঠে রিকশাওয়ালাকে বলল যে পাড়ায় নিয়ে চল
তখন বিষয়টা আমার কাছে জলের মত পরিষ্কার হয়ে গেল। আমার গা গুলোতে লাগল।
হাত পা কাঁপতে লাগল।

একটা দোকান থেকে সিগারেট কিনে রিকশা বিদায় করে আমরা ঢুকে পরলাম পাড়ায়।
উনি দর দাম করে ঢুকে পরল একটা ঘরে। আমি একটা দোকানের বেঞ্চিতে বসে একটার
পর একটা গোল্ডলিফ টেনে যাচ্ছি। কেউ আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছেনা। ছোট্ট দোকানটিতে
বিভিন্ন বয়সি মেয়েরা আসছে। কেউ সিগারেট নিচ্ছে, কেউ সেম্পু বা সাবান নিছ্ছে। কেউ
আবার ধারের টাকা শোধ দিচ্ছে। সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে। কেউ ইশারা করছে আবার
কেউ শিষ দিচ্ছে। আমি ঘামছি শুধূ। হাত পা ক্রমশ অবশ হয়ে আসছে। সিগারেটের সাদা
ধোয়ার মাঝে দেখতে পাচ্ছি আমার বৌকে। দেখতে পাচ্ছি আমার বোনকে। কতগুলো ক্ষুধার্ত
মুখ যেন আমাকেই খেয়ে নেবে।

হুশ ফিরল সহকর্মীর ডাকে।
যান আপনি------আমার হয়ে গেছে।
আমারও হয়ে গেছে চলেন।
গেছিলেন কোন ঘরে?
না।
তাইলে যান।
না আমার কাছে টাকা নেই।
আমি দিচ্ছি--যান।
না চলে যাব।
আচ্ছা---চলেন
রিকশায় যেতে যেতে সে আমায় একটিই প্রশ্ন করেছিল-----কেন গেলেননা?
উত্তর দিয়েছিলাম.........আমি মানুষ আপনিও মানুষ কিন্তু পার্থক্য আমার লোভ সম্বরন করার ক্ষমতা আছে। আপনার নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×