নামটা গোপন রাখলে কেমন হয়? আচ্ছা গোপন রাখলাম।
কেন গোপন রাখব? না এটা সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা, এটায়
লোক লজ্জার ভয় আছে। এটা অতীব গোপনীয়।
মাসটা মনে হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি হবে। একটি ডকুমেন্টারি
ফিল্ম নির্মানের জন্য আমারা ফরিদপুর শহর চষে বেড়াচ্ছি।
আমরা বলতে আমি, ডিরেক্টর, ক্যামেরাম্যান ও ক্রু সহ প্রায়
দশ জন। সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ। যে বিষয়ের
উপরে ভিডিওটি নির্মান করতে ছিলাম সেটা আপনাদের বলা হয়নি।
সেটাও এখানে বলা কপিরাইট আইনে আমার জন্য হারাম।
শুধু এটুকু বলতে পারি Bill Gates foundation এর অর্থায়নে
আমরা সে কাজটি দেশের একটি National level এর NGOর
জন্য করছিলাম।
আমি আপনাদের বস্তাপচা গল্প শোনানোর জন্য লিখছিনা।
আমি লিখছিনা আমার জীবনি। আমার চোখে যে সত্য ধরা
পরে সেগুলি আমি সযতনে সাজিয়ে রাখি। রাখার ভান্ডার
পূর্ণ হয়ে গেলে দম আটকে আসে। নিঃশ্বাস নেবার চেষ্টা করি।
দ্বিতীয় দিনের কাজ শেষ। খাবার হোটেল থেকে আমরা যখন বেরোলাম
তখন রাত সোয়া এগারোটা। সবাই রাত্রিযাপনের হোটেলে ফিরে যেতে
আমাদের গাড়িতে উঠব এমন সময় আমার এক সহকর্মী আমাকে বলল
যে চলেন দাদা একটু ঘুরে আসি। তার প্রস্তাব ফেলার মত ছিলনা আবার
পরের দিন ভোরে কাজ সেটিও মাথায় ছিল। ফলে একটা সিদ্ধান্তহীনতায়
ভুগছিলাম। এড়িয়ে যাবার জন্য বললাম দাদা রাগ করবে। কিন্তু সহকর্মীই
দাদাকে বলে বসল যে আমাকে নিয়ে আধাঘন্টা ঘুরে আসবে। দাদা দ্বিমত প্রকাশ
না করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে বলে সবাইকে নিয়ে চলে গেল হোটেলে।
আমি আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। তবে সেটা ভুল ছিল। খাবার হোটেলে বসে
সে আমার কাছ থেকে একহাজার টাকা নিয়েছিল। আমি মনে করেছিলাম হয়তো
মদ খাবে। কিন্তু যখন রিকশায় উঠে রিকশাওয়ালাকে বলল যে পাড়ায় নিয়ে চল
তখন বিষয়টা আমার কাছে জলের মত পরিষ্কার হয়ে গেল। আমার গা গুলোতে লাগল।
হাত পা কাঁপতে লাগল।
একটা দোকান থেকে সিগারেট কিনে রিকশা বিদায় করে আমরা ঢুকে পরলাম পাড়ায়।
উনি দর দাম করে ঢুকে পরল একটা ঘরে। আমি একটা দোকানের বেঞ্চিতে বসে একটার
পর একটা গোল্ডলিফ টেনে যাচ্ছি। কেউ আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছেনা। ছোট্ট দোকানটিতে
বিভিন্ন বয়সি মেয়েরা আসছে। কেউ সিগারেট নিচ্ছে, কেউ সেম্পু বা সাবান নিছ্ছে। কেউ
আবার ধারের টাকা শোধ দিচ্ছে। সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে। কেউ ইশারা করছে আবার
কেউ শিষ দিচ্ছে। আমি ঘামছি শুধূ। হাত পা ক্রমশ অবশ হয়ে আসছে। সিগারেটের সাদা
ধোয়ার মাঝে দেখতে পাচ্ছি আমার বৌকে। দেখতে পাচ্ছি আমার বোনকে। কতগুলো ক্ষুধার্ত
মুখ যেন আমাকেই খেয়ে নেবে।
হুশ ফিরল সহকর্মীর ডাকে।
যান আপনি------আমার হয়ে গেছে।
আমারও হয়ে গেছে চলেন।
গেছিলেন কোন ঘরে?
না।
তাইলে যান।
না আমার কাছে টাকা নেই।
আমি দিচ্ছি--যান।
না চলে যাব।
আচ্ছা---চলেন
রিকশায় যেতে যেতে সে আমায় একটিই প্রশ্ন করেছিল-----কেন গেলেননা?
উত্তর দিয়েছিলাম.........আমি মানুষ আপনিও মানুষ কিন্তু পার্থক্য আমার লোভ সম্বরন করার ক্ষমতা আছে। আপনার নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



