somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুদর্শণ ও আমি

২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে কথা বলা হয়নি আপনাদের।অনেক দিন চেপে রেখেছি মনের অন্ধ কুঠরীতে। আজ মনে হয়েছে সেকথা আপনাদের জানা দরকার। সুদর্শন বালকের অত্যাচারে যখন আমি অতিষ্ঠ তখন তাকে আমি একদিন উত্তম মধ্যম দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেই। প্রায় চার মাশ আগের কথা। তারপর থেকে সেও আমার মুখ দর্শ্ন করেনা আমিও না। পাশাপাশি হেটে গেলে কেউ কারো সাথে কথা বলিনা।

কিন্তু একসময় তার প্রচন্ড অভাব বোধ করতে লাগলাম। কারন অন্য কিছু নয়। বিশ্বাস করুন আর না করুন তার প্রেমে আমি ছিলাম মাতোয়ারা। কেমন যেন অভাব বোধ করতে লাগলাম। কেউতো আমার কাছে এখন আর প্রশ্ন করেনা। কেউতো আমাকে দিন ভর জ্বালাতন করেনা। কিন্তু কি করে তার সাথে সমঝোতা করি।

পাগল হলেও তার ছিল প্রচন্ড আত্মমর্যাদাবোধ। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও কারো কাছ থেকে দুটো টাকা ধার নেবেনা। কেউ তাকে কোন কিছু খাওয়াতে চাইলে তার সহজাত উত্তর.............আপনারটা কেন খাব আমি? আপনাকে তো আমি খাওয়াতে পারবনা। কেন আমাকে ঋণী করবেন? শুধু ব্যতিক্রম আমার বেলায়। যত আবেদন, অনুরোধ, অন্যায় আবদার সবার আমার কাছে। আমি এটা খুব উপভোগ করতাম।
তাকে ছেড়ে কি থাকা যায়?

জানি ডাকলে আসবেনা তাই একটু মিথ্যার আশ্রয় নিলাম। একজনকে দিয়ে অসুস্থতার খবর পাঠালাম। বাড়ির সামনে একটা বড় গাছের নীচে মাদুর বিছিয়ে বসে আছি। দেখছি সুদর্শন ঘরের সামনে দাড়িয়ে উকিঝুকি মারছে। কোন শব্দ করছেনা। ঘর তালাবদ্ধ থাকায় সে যেতে উদ্যত। হালকা করে একটা কাশি দিলাম। দেখলাম কোন প্রতিক্রিয়া না করে চলে এল। বলে রাখা ভাল, এ জায়গাটা তার সবচেয়ে বেশী পরিচিত। কারন অনেক বিনিদ্র রাত তার সাথে কাটিয়েছি এই গাছ তলায়।

নিঃশব্দ নীরবতা। সেও কিছু বলছেনা আমিও না। একটা খালি বোতল তার হাতে ধরিয়ে দিলাম। কিছু না বলে চলে গেল। ফিরে এল কলের ঠান্ডা পানি নিয়ে। বোতলটা মাদুরের পাশে রাখল কোন কথা না বলে। আমি বোতল থেকে পানি নিয়ে গ্লাসে বাংলা মদ ঢেলে পানি মিশিয়ে দুটো পেগ তৈরি করে একটা তার হাতে দিলাম। এতক্ষন পর্যন্ত সে ঠায় দাড়িয়ে।

হাত থেকে গ্লাসটা ছো মেরে নিয়ে গো গ্রাসে গিলে ফেলল। পরেরটা সে নিজেই বানিয়ে খেল। তখন আমার একটার অর্ধেকও শেষ করতে পারিনি। তৃতীয়টা খেয়েই হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।

-মরা কাঁদা কাদছিস কেন?
-জানতে মুন চায়।
-কি জানতে?
-শরীল পইচা যায়। আত্মা পচেনা, মরেনা।
-হ হিন্দু ধর্মে লেখা আছে—বইতে পড়েছি। আত্মা দেহ পাল্টায়।
-তাইলে হিন্দুগো আত্মা কি মুসলমানের শরীলে আর মুসলমানগো আত্মা কি হিন্দুগো শরীলে যায়?
-?? কয় কি??
ততক্ষনে সুদর্শন আরো এক পেগ খেয়ে জন্ম পোষাকে(উলঙ্গ) নৃত্য করছে আর গাইছে------

“ভজ গৌরাঙ্গ কহ গৌরাঙ্গ
লহ গৌরাঙ্গের নামরে”

আমি পরে আছি নেশায় বুদ হয়ে একটা চেতনাহীন লাশের মত।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×