সে কথা বলা হয়নি আপনাদের।অনেক দিন চেপে রেখেছি মনের অন্ধ কুঠরীতে। আজ মনে হয়েছে সেকথা আপনাদের জানা দরকার। সুদর্শন বালকের অত্যাচারে যখন আমি অতিষ্ঠ তখন তাকে আমি একদিন উত্তম মধ্যম দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেই। প্রায় চার মাশ আগের কথা। তারপর থেকে সেও আমার মুখ দর্শ্ন করেনা আমিও না। পাশাপাশি হেটে গেলে কেউ কারো সাথে কথা বলিনা।
কিন্তু একসময় তার প্রচন্ড অভাব বোধ করতে লাগলাম। কারন অন্য কিছু নয়। বিশ্বাস করুন আর না করুন তার প্রেমে আমি ছিলাম মাতোয়ারা। কেমন যেন অভাব বোধ করতে লাগলাম। কেউতো আমার কাছে এখন আর প্রশ্ন করেনা। কেউতো আমাকে দিন ভর জ্বালাতন করেনা। কিন্তু কি করে তার সাথে সমঝোতা করি।
পাগল হলেও তার ছিল প্রচন্ড আত্মমর্যাদাবোধ। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও কারো কাছ থেকে দুটো টাকা ধার নেবেনা। কেউ তাকে কোন কিছু খাওয়াতে চাইলে তার সহজাত উত্তর.............আপনারটা কেন খাব আমি? আপনাকে তো আমি খাওয়াতে পারবনা। কেন আমাকে ঋণী করবেন? শুধু ব্যতিক্রম আমার বেলায়। যত আবেদন, অনুরোধ, অন্যায় আবদার সবার আমার কাছে। আমি এটা খুব উপভোগ করতাম।
তাকে ছেড়ে কি থাকা যায়?
জানি ডাকলে আসবেনা তাই একটু মিথ্যার আশ্রয় নিলাম। একজনকে দিয়ে অসুস্থতার খবর পাঠালাম। বাড়ির সামনে একটা বড় গাছের নীচে মাদুর বিছিয়ে বসে আছি। দেখছি সুদর্শন ঘরের সামনে দাড়িয়ে উকিঝুকি মারছে। কোন শব্দ করছেনা। ঘর তালাবদ্ধ থাকায় সে যেতে উদ্যত। হালকা করে একটা কাশি দিলাম। দেখলাম কোন প্রতিক্রিয়া না করে চলে এল। বলে রাখা ভাল, এ জায়গাটা তার সবচেয়ে বেশী পরিচিত। কারন অনেক বিনিদ্র রাত তার সাথে কাটিয়েছি এই গাছ তলায়।
নিঃশব্দ নীরবতা। সেও কিছু বলছেনা আমিও না। একটা খালি বোতল তার হাতে ধরিয়ে দিলাম। কিছু না বলে চলে গেল। ফিরে এল কলের ঠান্ডা পানি নিয়ে। বোতলটা মাদুরের পাশে রাখল কোন কথা না বলে। আমি বোতল থেকে পানি নিয়ে গ্লাসে বাংলা মদ ঢেলে পানি মিশিয়ে দুটো পেগ তৈরি করে একটা তার হাতে দিলাম। এতক্ষন পর্যন্ত সে ঠায় দাড়িয়ে।
হাত থেকে গ্লাসটা ছো মেরে নিয়ে গো গ্রাসে গিলে ফেলল। পরেরটা সে নিজেই বানিয়ে খেল। তখন আমার একটার অর্ধেকও শেষ করতে পারিনি। তৃতীয়টা খেয়েই হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।
-মরা কাঁদা কাদছিস কেন?
-জানতে মুন চায়।
-কি জানতে?
-শরীল পইচা যায়। আত্মা পচেনা, মরেনা।
-হ হিন্দু ধর্মে লেখা আছে—বইতে পড়েছি। আত্মা দেহ পাল্টায়।
-তাইলে হিন্দুগো আত্মা কি মুসলমানের শরীলে আর মুসলমানগো আত্মা কি হিন্দুগো শরীলে যায়?
-?? কয় কি??
ততক্ষনে সুদর্শন আরো এক পেগ খেয়ে জন্ম পোষাকে(উলঙ্গ) নৃত্য করছে আর গাইছে------
“ভজ গৌরাঙ্গ কহ গৌরাঙ্গ
লহ গৌরাঙ্গের নামরে”
আমি পরে আছি নেশায় বুদ হয়ে একটা চেতনাহীন লাশের মত।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



