এখন সে কারো গৃহিনী।কারো সে খুব কাছের মানুষ। আমারও সে একদিন খুব কাছের ছিল। জলবসন্ত ওঠার পর ব্যাথাতুর হৃদয়ে, প্রচন্ড কষ্টে সে আমাকে বলেছিল, “আমায় বাড়ি দিয়ে আসবি? আমার খুব কষ্ট”। অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে অফিসের বস্ কে ম্যানেজ করে তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। চাদর মোড়ানো গায়ে সারা পথে বাসে আমাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল যেন বন্ধন ছিন্ন না করি। বিনীদ্র কাটিয়েছে সারারাত আমার সাথে বসন্তের ব্যাথা উপেক্ষা করে আরেক বসন্তকে স্বাগত জানাতে। আজ সে কারো প্রিয়তমা।বহুবার বলেছি, “আমাকে বিয়ে করবি?” উত্তরে হাসিমুখে বলেছে অসংখ্য বার, এখনি আমায় বিয়ে কর। বিয়েটা করা হয়নি আমাদের। বিয়েটা ও করেছে অবশেষে। পেশায় স্কুল মাষ্টার ও ক্ষুদ্ররঋণ ব্যবসায়ী যুবককে। বিয়ের পরে দু একবার কথা হয়েছে ওর সঙ্গে। ভালোবাসে ওকে খুব, জানিয়েছে। পয়সার কোন অভাব নেই, তাও জানিয়েছে। হঠাৎ কেন এসব কথা আমি ভাবছি? আমার তো ওর উপর কোন রাগ বা অভিমান নেই। ও এখন বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছও কাটে। কানের দুল বানায়, হাতের বালাও বানায়। ভালোই হয়েছে। আমিতো ওকে এসব কোন দিন বানিয়ে দিতে পারতামনা। ভাবি শুধু ভালোই হয়েছে।
ভালোই হয়েছে আমাকে অবজ্ঞা করে। তা না হলে হয়ত পুরোপুরি নাস্তিক হয়ে ওঠা হত না আমার, যেটা আমি মনেপ্রানে চেয়েছিলাম বুঝতে পারার পরপরই। অবজ্ঞা না করলে হয়ত বিক্রয় প্রতিনিধির চাকুরি (মতান্তরে ব্যবসা) ছাড়া আর কিছুই করা হত না। সামান্য অবজ্ঞাই এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাকে ঘোরাতে শিখিয়েছে। জীবনকে এখন আমি খুব কাছ থেকে দেখি। অথচ কিছুদিন আগেও জীবনের মানে ছিল প্রায় অন্য রকম। দুই কামরার একটি ঘর। একটি সন্তান........পুত্র হলে ভালো হবে।
বলেছিল ও,
আমায় একটি ছেলে দিবি? মুচকি হেসে।
লজ্জার লেশমাত্রও ছিলনা ওর অবয়বে।
কি বলছিস তুই জানো? জিজ্ঞেস করেছিলাম
উত্তর দিয়েছিল নির্ভয়ে...বাকী কি রেখেছিস?
উত্তরের শব্দগুলো বারবার মাথার ভিতর ঘুরপাক খেতে লাগলো!!
আমি চাই আমাকে দিতে হবে....সে কি জেদ ওর।
বোঝানোর অনেক আগেই আমার শরীর ক্ষত বিক্ষত করেছে ওর ধারালো নখে।
মাথা ঠান্ডা হলে বলেছিলাম.....একটু অপেক্ষা কর। বিয়েটা করি আমরা আগে।
সত্যি করবি তো আমায় বিয়ে?
এখানে মিথ্যার কি আছে?
আচ্ছা, তাহলে আমায় মেসে পৌছে দিয়ে আয়।
এই নে টাকা ..........আমি যেতে পারবনা। আমার রিপোর্টিং আছে ৫টায়।
তোর টাকা আমি......করি, মেজাজ হারিয়ে হয়তো বলতে চেয়েছিল। আমি হালকা করে মুখ চেপে ধরেছিলাম। আলতো করে ঠোটে চুমু দেওয়াতে বলেছিল......
রাতে ফোন দেবে তো?
আর আমার মোবাইলে ৫০ টাকা দিয়ে দিও। মা টাকা পাঠালে দিয়ে দেব। আচ্ছা সময় মত খেয়ে নিও।
এখন কেউ সময়মত খেয়ে নিতে বলেনা। বলেনা, সিগারেট খেয়ে খেয়ে শরীরের কি বারোটা বাজিয়েছো। কেউ চিংড়ির মালাইকারী রান্না করে নিয়ে এসে বলেনা এটা আমার মা না, তোর মা পাঠিয়েছে। এখনো আমি এগুলো খাই। পার্থক্য শুধু একটাই...এখনকারগুলো দোকানের। পরম মমতায় নয় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি।
স্মৃতির পর্দা সরাতে গিয়ে কত কথাই আজ মনে পরে।
বাবা তুই একবার আয়...কবে আসবি?...কখন আসবি?....ওরা সবাই এসেছে...তুই না এলে হয়?
আমি না আসাতেই তো হয়েছে। যা চেয়েছিলে তাই তো হয়েছে। তাহলে আমার আসার কি দরকার?????(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



