somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“আমার ডায়েরি আমার কথা”

২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এখন সে কারো গৃহিনী।কারো সে খুব কাছের মানুষ। আমারও সে একদিন খুব কাছের ছিল। জলবসন্ত ওঠার পর ব্যাথাতুর হৃদয়ে, প্রচন্ড কষ্টে সে আমাকে বলেছিল, “আমায় বাড়ি দিয়ে আসবি? আমার খুব কষ্ট”। অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে অফিসের বস্ কে ম্যানেজ করে তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। চাদর মোড়ানো গায়ে সারা পথে বাসে আমাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল যেন বন্ধন ছিন্ন না করি। বিনীদ্র কাটিয়েছে সারারাত আমার সাথে বসন্তের ব্যাথা উপেক্ষা করে আরেক বসন্তকে স্বাগত জানাতে। আজ সে কারো প্রিয়তমা।বহুবার বলেছি, “আমাকে বিয়ে করবি?” উত্তরে হাসিমুখে বলেছে অসংখ্য বার, এখনি আমায় বিয়ে কর। বিয়েটা করা হয়নি আমাদের। বিয়েটা ও করেছে অবশেষে। পেশায় স্কুল মাষ্টার ও ক্ষুদ্ররঋণ ব্যবসায়ী যুবককে। বিয়ের পরে দু একবার কথা হয়েছে ওর সঙ্গে। ভালোবাসে ওকে খুব, জানিয়েছে। পয়সার কোন অভাব নেই, তাও জানিয়েছে। হঠাৎ কেন এসব কথা আমি ভাবছি? আমার তো ওর উপর কোন রাগ বা অভিমান নেই। ও এখন বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছও কাটে। কানের দুল বানায়, হাতের বালাও বানায়। ভালোই হয়েছে। আমিতো ওকে এসব কোন দিন বানিয়ে দিতে পারতামনা। ভাবি শুধু ভালোই হয়েছে।

ভালোই হয়েছে আমাকে অবজ্ঞা করে। তা না হলে হয়ত পুরোপুরি নাস্তিক হয়ে ওঠা হত না আমার, যেটা আমি মনেপ্রানে চেয়েছিলাম বুঝতে পারার পরপরই। অবজ্ঞা না করলে হয়ত বিক্রয় প্রতিনিধির চাকুরি (মতান্তরে ব্যবসা) ছাড়া আর কিছুই করা হত না। সামান্য অবজ্ঞাই এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাকে ঘোরাতে শিখিয়েছে। জীবনকে এখন আমি খুব কাছ থেকে দেখি। অথচ কিছুদিন আগেও জীবনের মানে ছিল প্রায় অন্য রকম। দুই কামরার একটি ঘর। একটি সন্তান........পুত্র হলে ভালো হবে।
বলেছিল ও,
আমায় একটি ছেলে দিবি? মুচকি হেসে।
লজ্জার লেশমাত্রও ছিলনা ওর অবয়বে।
কি বলছিস তুই জানো? জিজ্ঞেস করেছিলাম
উত্তর দিয়েছিল নির্ভয়ে...বাকী কি রেখেছিস?
উত্তরের শব্দগুলো বারবার মাথার ভিতর ঘুরপাক খেতে লাগলো!!
আমি চাই আমাকে দিতে হবে....সে কি জেদ ওর।
বোঝানোর অনেক আগেই আমার শরীর ক্ষত বিক্ষত করেছে ওর ধারালো নখে।
মাথা ঠান্ডা হলে বলেছিলাম.....একটু অপেক্ষা কর। বিয়েটা করি আমরা আগে।
সত্যি করবি তো আমায় বিয়ে?
এখানে মিথ্যার কি আছে?
আচ্ছা, তাহলে আমায় মেসে পৌছে দিয়ে আয়।
এই নে টাকা ..........আমি যেতে পারবনা। আমার রিপোর্টিং আছে ৫টায়।
তোর টাকা আমি......করি, মেজাজ হারিয়ে হয়তো বলতে চেয়েছিল। আমি হালকা করে মুখ চেপে ধরেছিলাম। আলতো করে ঠোটে চুমু দেওয়াতে বলেছিল......
রাতে ফোন দেবে তো?
আর আমার মোবাইলে ৫০ টাকা দিয়ে দিও। মা টাকা পাঠালে দিয়ে দেব। আচ্ছা সময় মত খেয়ে নিও।
এখন কেউ সময়মত খেয়ে নিতে বলেনা। বলেনা, সিগারেট খেয়ে খেয়ে শরীরের কি বারোটা বাজিয়েছো। কেউ চিংড়ির মালাইকারী রান্না করে নিয়ে এসে বলেনা এটা আমার মা না, তোর মা পাঠিয়েছে। এখনো আমি এগুলো খাই। পার্থক্য শুধু একটাই...এখনকারগুলো দোকানের। পরম মমতায় নয় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি।
স্মৃতির পর্দা সরাতে গিয়ে কত কথাই আজ মনে পরে।
বাবা তুই একবার আয়...কবে আসবি?...কখন আসবি?....ওরা সবাই এসেছে...তুই না এলে হয়?
আমি না আসাতেই তো হয়েছে। যা চেয়েছিলে তাই তো হয়েছে। তাহলে আমার আসার কি দরকার?????(চলবে)

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×