মায়রে আনন্দ দিয়া না নিজে আনন্দ পাইয়া বাপটা চইলা গেছে জানিনা।
সুন্দর পৃথিবীতে আসলাম। বুকের দুধ ছাড়োন দেওয়ার আগেই মা ডা
একটা পুরুষের সাথে ভাইগা গেলো। কি নামে ডাকতো জানি না। সোনা
মনা খাদিজা জামিলা আরতি মিনতি কৃষ্ণা তাও মনে নেই। একটা বেডি
রাস্তায় পাইয়া মানুষ করতে ছিলো। বেডি মাইনষের বাসায় কাম করতো।
হেরেই মা আবার কোন সময় আম্মা কইতাম। হ্যায় জে কোন জাতের ছিলো
তাও জানবার পারিনাই। তেমন বোধ হয়নায় তখনো। মা ডা কামে যাইয়া
একদিন আর ফেরে নাই। বস্তির পাশে রেল লাইনের ধারে বইয়া কান্তে ছিলাম।
আবছা আবছা মনে আছে। আরেক বেডি পরমমমতায় তার বাসায় লইয়া
আইলো আমায়। তার ভালোবাসায়, আদরে, স্নেহে বড় হতে থাকলাম। নাম দিল
সিলসাবিল। বেহেস্তের ঝর্ণা বা পানি। কি চমৎকার নাম! সিলসাবিল তাকে মা ডাকল।
তার স্বামীকে বাবা ডাকল। মাকে ভয় পেত সে। তার সমস্ত জগৎ তার বাবাকে ঘিরে।
তার মনে গভীর জিজ্ঞাসা! প্রশ্নবানে জর্জরিত করে ফেলত তার বাবাকে। বাবাকেই সে
একদিন প্রশ্ন করে বসল। What is the religion and why do we believe in
God, Allah, Vhagaban? তার বাবার দেয়া সহজাত উত্তর সেদিন সিলসাবিলের
জ্ঞান পিপাসা মেটাতে পারেনি। কারন তার বাবার দেয়া প্রত্যেকটা উত্তর তার জানাছিল।
পুরো একআলমারী বই তার বাবার সামনে একটার পর একটা সাজিয়ে রাখতে লাগল।
তথ্যনির্ভর বিভিন্ন বই খুলে বাবার সামনে ধরলেন। শুধু কি বই? ছোট্ট ল্যাপটপে গুগল
থেকে সার্চ দিয়ে দেখালেন ধর্মের অসারতা, অপারগতা। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন
মারা যাচ্ছে, মেরে ফেলা হচ্ছে কিন্তু ঈশ্বর, ভগবান , গড নির্বাক নিরুপায়।
মেয়ে খুশি হতে না পারায় বাবা এক সময়ে নীরবে উঠে চলে গিয়েছিল।
সিলসাবিলও তার পথ অনুসরণ করে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
“তুমি আমার আচরণে কষ্ট পেয়েছো বাবা?”
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর বাবা উত্তর দিয়েছিলেন,
“তুমি তোমার নাম ও ধর্ম বেছে নিতে পারো।”
আমরা দুজনে কত সময় কেদেঁছিলাম জানিনা কিন্তু হুশ ফিরেছিল মায়ের বকুনি খেয়ে।
মা ই আমার নাম করন করেছিল হোমো সেপিয়েন্স। বাবারও নামটা খুব পছন্দ হয়ে ছিল।
সেই থেকে সিলসাবিল
জন্ম
নিল
হোমো সেপিয়েন্স নামে।
যার কোন ধর্মীয় নাম নেই
জন্ম পরিচয় নেই
বংশ পরিচয় নেই
আছে
শুধুমাত্র
মানবিক মূল্যবোধ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



