somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

॥নীরবে . . নিভৃতে . . যুগ , যুগ ধরে . .॥ ~ cloudy sky

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল্লাহর দোহাই লাগে আমারে আর
মাইরেন না ! আপনার
দুইটা পায়ে পড়ি আমারে একটু
দয়া করেন ! ও আল্লাহ রে . .
.
চুপ কর হারমজাদী ! আর কত ?
তোরে বিয়া কইরাই আমি ভুল করছি ।
তোর বাপ যে এত বড় চিটার
কে জানত !
.
খবরদার ! আমার বাপেরে নিয়া কিছু
কইবেন না ! ভাল হইবোনা কইলাম !
.
হায় হায় ! . . . . বাচ্চার
দেখি এখনো তেজ কমে নাই !
আজইকা তোরে আমি . .
.
ও বাবাগো . . ও মাগো . .
.
মার ! . . বাচ্চারে আরো মার । . .
বাচ্চার চৌদ্দগুষ্টির কপালে ঝাড়ু
মারি । আমার সহজ সরল
পোলাটারে এমনি কইরা ঠকাইল !
আমার এত সুন্দর পোলারে এই
কালিটা গছাই দিল ! কতা আছিল
চল্লিশ হাজার দিবো !
পুরা টেকা না আইনতি পাইল্লে আইজ
থেইকা তোর ভাত বন্ধ . . বাচ্চা !
তোর বাপ আস্ত একটা শয়তান !
কি লম্বা লম্বা দাড়ি রাখছেরে . .
কি আমার মাওলানারে . . ভন্ড
মাওলানারে আমি . .
.
এসব কি কন আম্মা ! আমার ছোট
ভাইটা আজ একমাস ধরে বিছানায় ! ও
যদি হঠাত্ অসুস্থ না হইত
বাবা আপনাদের সব টাকা দিয়ে দিত
সময় মত ।
.
কি ! তুই আমারে টেকার গরম দেখাস !
হুনছস রে রইসউদ্দী . . তোর বউ
আমারে . .
.
. . বাচ্চা ! . . বাচ্চা ! তোর এত বড়
সাহস ! আমার মায়ের মুখের উপর
কথা কস ! মগুরটা কই গেল রে . .
আজইকা তোরে আমি . . . .
.
আয়েশার শরীরের অবস্থা খুব
একটা ভাল না । ডাক্তার
দেখানো দরকার । শরীরের বিভিন্ন
জায়গায় কালো রক্ত ঝমাট
বেঁধে আছে । কিন্তু ডাক্তার
তো দুরের কথা ,
শাশুড়ি ওকে রাতে খেতেই দেয়নি ! !
.
বিয়ে হয়েছে মাত্র আট মাস । এমন
কোন দিন নাই , রইসউদ্দী আয়েশার
গায়ে হাত তুলেনি । আয়েশার অপরাধ
একটাই , তার বাবা প্রতিশ্রুত যৌতুক
দিতে পারেনি ।
.
গভীর রাত । সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ।
বিয়ের পর থেকে একটা রাতও ঠিক
মত ঘুমাতে পারেনি আয়েশা । আজ খুব
করে ইচ্ছে করছে লম্বা একটা ঘুম
দিতে । খাটের তলায় বড়
একটা দড়ি আছে । আর জানালার
পাশের ঐ যে আম গাছটা . .
আম গাছটা যেন
হাতছানি দিয়ে ডাকছে আয়েশাকে ।
আয়েশা আজ কিছুতেই
নিজেকে ফেরাতে পারছে না ।
চুপি চুপি খাটের নিচ থেকে রশিটা বের
করে নেয় । নিজের মধ্যে এক ধরনের
মুক্তির স্বাদ পেতে থাকে আয়েশা ।
এইতো আর একটু , তারপরই চির
শান্তির ঘুম . . তারপরই স্বাধীনতা . .
তারপরই মুক্তি . .
.
গাছের সাথে দড়ি ঝুলানো হয়ে গেছে ।
এখন আর কোন ভয় নেই ।
আয়েশা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে জীবনের
ওপারের রাস্তায় । শেষবারের মত মা-
বাবাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ।
ছোট ভাইটা একমাস
ধরে জন্ডিসে ভুগছে । ভাইটার মলিন
চেহারা বারবার চোখের
সামনে ভেসে উঠছে ।
.
আয়েশা ঢুকরে ঢুকরে কাঁদছে । দুরের
ঐ চাঁদটাও বুঝি কাঁদছে আয়েশার মত ।
তাইতো বারবার মেঘের আড়ালে মুখ
লুকাচ্ছে । যাবার বেলায় চাঁদটাকে দু-
চোখ ভরে দেখে নিচ্ছে আয়েশা ।
ঐ চাঁদের সাথে যে তার গভীর
সখ্যতা । ছোট্ট
জানালাটা দিয়ে প্রতি রাতে ঐ চাঁদটার
সাথে কত কথা বলত । সুখের কথা . .
দুখের কথা . . পাথর চাপা কষ্টের
কথা . . বোবা কান্নার বোবা কথা . .
.
আয়েশার হাত দুটো কাঁপছে । মোড়ায়
দাঁড়িয়ে যেইনা মুক্তির মালাটা গলায়
পরবে , অমনি একটা মৃদু কন্ঠস্বর
ভেসে এল . .
.
মা . . ! ও মা . . !
তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে এখন ? ?
.
আয়েশা নিজের অজান্তেই চিত্কার
দিয়ে মোড়া থেকে সরে যায় ।
কি করছি ! এ আমি কি করছি ! হায়
খোদা !
আমি নিজেকে মারতে গিয়ে নিজের
সন্তানকেই মেরে ফেলছি !
.
না , আজও পারলো না । এ নিয়ে গত
একমাসে বেশ কয়েকবার
আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে আয়েশা ।
প্রতিবারই শেষ মুহুর্তে এসে তার
অনাগত সন্তানের কথা মনে পড়ে ।
নিজের মায়া হয়ত ত্যাগ করা যায় ।
কিন্তু সাতটি মাস ধরে নিজের ভেতর
যে প্রানটাকে সে আগলে রেখেছে ,
তার মায়া কি করে ত্যাগ
করবে আয়েশা ।
.
রাত প্রায় শেষের দিকে ।
চারদিকে এখনো কি অদ্ভুত
মায়াবী সাদা জোছনা । পুকুর পাড়ের
জোনাকিগুলোর যেন ক্লান্তি নেই
এতটুকু । খালি জ্বলছে আর নিভছে ।
মাঝে মাঝে আয়েশার
জোনাকি হতে ইচ্ছে করে খুব . . . .
দিনের বেলায় বাবলা গাছের পাতার
নিচে লুকিয়ে থাকবে । আর
রাতে দখিনের নরম
বাতাসে ডানা মেলে জোছনায়
লুটোপুটি খাবে । কেউ
তাকে খুঁজে পাবেনা . . কেউ
তাকে মারতে পারবে না . . কেউ
তাকে "কালি" বলতে পারবে না . . তার
মা-বাবাকে গালি দিতে পারবে না . . . . ।
.
আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম . . . .
পূবের আকাশটা লাল হয়ে উঠেছে । দুর
থেকে ভেসে আসছে ফজরের আযান ।
একটু পর ই ভোর হবে । সাদা বকের
দল ইতিমধ্যে বাসা ছাড়তে শুরু
করেছে । গন্তব্য তাদের দুরের
জলা . .।
লাল
আকাশে সাদা বকগুলোকে দেখে খুব
কান্না পাচ্ছে আয়েশার । এই
মুহুর্তে আয়েশারও সাদা বক
হতে ইচ্ছে করছে । ভোরের শীতল
বাতাসে ডানা মেলতে ইচ্ছা করছে ।
বুক ভরে নিশ্বাস নিতে ইচ্ছে করছে . .
আয়েশা জানে , কিছুক্ষন পরই ভোর
হবে ।
মুখোমুখি হতে হবে আরেকটি নতুন
সূর্যের , নতুন দিনের । আর নতুন দিন
মানেই কিছু কুত্সিত মানুষের সেই
পুরনো চেহারা । আগের চেয়ে আরও
বেশী কুত্সিত , আরো বেশী ভয়ংকর ।
তাই আরেকটি অপ্রত্যাশিত ভোরের
সামনে দাঁড়িয়ে আয়েশা . . . .
.
আসলেই কি কখনো ভোর
আসবে আয়েশার জীবনে ?
.
সূর্য উঠলেই কি ভোর হয় ? ?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×