
জানুয়ারী মাসে দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হলো।
জানুয়ারী মাসে সারা দেশে ১৬১ জন লোক হত্যার শিকার হয়েছে। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ জন মানুষ নিহত হয়েছে। ১০ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ১২ জন নিহত হয়।
ক্ষমতাশীন দলের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার ১৫ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ১৪ জন ছাত্র। এ মাসে ৮৬ টি সহিংস হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫৭ জন, আহত হয়েছে ৬১ জন এবং গুলিবিদ্ধ ১০ জন। এছাড়াও গণপিটুনির ৩ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ১৬ জন পুরুষের, ১২ জন নারীর এবং ২৩ জনের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে। এ মাসে ৪৬ টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫ জন, আহত হয়েছে ৩৬৪ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৮ জন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৪ টি হামলা হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১০ জন। নারী নির্যাতনের অংশ হিসেবে যৌতুক জন্য নির্যাতনে নিহত হয়েছে ১০ জন নারী এবং শারিবীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১ জন নারী, পারিবারিক কলহে নিহত হয়েছে ১৪ জন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫ জন নারী, এসিড নিক্ষেপের ৮ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে একজন এবং আহত হয়েছে ৭জন, আত্মহত্যার শিকার হয়েছে ১৬ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫১ জন নারী, ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ১ জনকে। এছাড়াও ১৮ টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন নারী।
ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘বিএসএফ’ কর্তৃক ১২ টি হামলার ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ৩ জন বাংলাদেশী হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে ৪ জন বাংলাদেশীকে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৮ জন বাংলাদেশী। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানী ও নির্যাতনের অংশ হিসেবে ৩৪ টি ঘটনায় বিরোধী দলের ২০০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সন্ত্রাসী ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ৭ টি হামলায় আহত হয়েছে ১৩ জন সাংবাদিক এবং হুমকির শিকার করা হয়েছে ১জন সাংবাদিক।
ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ মনে করে, সংবিধান স্বীকৃত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চত করা না গেলে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না পারলে এবং মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতা না পেলে শুধু কাগজে কলমে গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করলেই সেটিকে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বলা যায়না। রাষ্ট্র পরিচালনার সকলক্ষেত্রে জনগণ নিজেদেরকে নাগরিক ভাবতে ও অংশগ্রহন করতে না পারলে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র গড়ে উঠবেনা। এজন্য সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে আইন কাঠামো প্রনয়ন অতীব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনদিনই মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, প্রশাসনের হেফাজতে নির্যাতন, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা ও নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে, দিন দিন ধর্ষণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে সমগ্র দেশের নারী সমাজের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে জনগনের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। তাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগের পক্ষ থেকে দেশের সকল সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


