somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মরণে

১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যাবার যখন সময় হয় সবাইকে যেতে হয়। কালপুরুষ দা চলে গেলেন। বাংলাদেশ সময় ৯ই মার্চ ২০২৬ রাতে।
সামু ব্লগ থেকে লেখা নিয়েই ২০০৭ থেকে আমি সাহিত্য ম্যাগাজিন 'নব আলোকে বাংলা' সম্পাদনা করতাম।


ইমন জুবায়ের ভাইয়ের অসম্ভব সুন্দর সুন্দর গল্প নিয়ে আমার ম্যাগাজিনের গল্পের পাতা ভরে উঠেছিল। শ্রীলেখার বুনো হাঁস ইমন ভাইয়ের লেখা
যতবার পড়ি, মনে শুধু গেঁথে থাকে। ২০১১ তে চলে গেলেন ইমন ভাই।
তিনি যাবার আগে তার শেষ উপন্যাসটি আমাকে দিয়েছিলেন রিভিউ করে দেবার জন্য। আমি তো ভাবি নি উনি চলে যাবেন। আমি কাজটা একটু সময় নিয়ে করব ভেবে রেখে দিয়েছিলাম। তারপর যখন আমাদের রাত আটটার দিকে শুনলাম সকাল বেলা উনি চলে গেছেন এবং সুনীল সমুদ্র দা coincidentally তার অফিসের সামনে, কারো জানাজা হবে শুনে তা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন দেখেন সেখানে আমাদের ইমন জুবায়ের ভাই। সেভাবেই ইমন ভাইয়ের শেষ যাত্রার ছবিগুলো দেখতে পেয়েছিলাম।


অসম্ভব খ্যাতিমান ব্লগার কালপুরুষ। দাদা-র অসম্ভব সুন্দর লেখা 'আমার রক্তের ইতিহাস' সামু ব্লগকে এবং আমার ম্যাগাজিনকে
কালপুরুষদা-র 'আমার রক্তের ইতিহাস' কবিতা
সমৃদ্ধিশালী করেছিল।
গত বছর ৩১শে মার্চ ২০২৫ এর ফেসবুক পোস্টে দেখলাম দাদার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দেরীতে দেখেছি পোস্ট টা।
২০২৫ এর ২৬শে এপ্রিল, তাঁর অসুস্থতার কথা শুনে আমার গ্রুপে লিখেছিলামঃ 'দাদা, আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি । ব্লগের হাত ধরে আমাদের সকলের সেই কতদিনের পথচলা।
১১ই মার্চ, ২০২৬- এ তাঁর পাতায় লিখেছিঃ কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব। আপনি কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলীর মতোই চিরকাল দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল থাকবেন।


আর প্রিয় খালেক ভাইয়ের কথা আমি জানতে পারিনি সাথে সাথে। অনেক পরে জেনেছিলাম যে, খালেক ভাই চলে গেছেন আমাদেরকে না জানিয়ে অনেক অনেক আগে। খালেক ভাইয়ের কবিতা,গল্প - কি ছিল না আমার ম্যাগাজিনের পাতায়।
ওনার লেখা 'সোনালী আভা ও একটি চিঠি' । খালেক ভাইয়ের চিঠি ফাইলটি চেয়েছিলেন আমার কাছে। কিন্তু কোন কারণে ফাইলটি ওনাকে পাঠানো হয়নি। উনার লেখা 'বাড়ির পথে' কবিতায় তার সমগ্র জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। খালেক ভাইয়ের আম্মা যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন আমি খালেক ভাইকে বলেছিলাম ,আপনার এই কবিতাটি প্রিন্ট করে, আপনার আম্মাকে শোনান। তিনি তাই করেছিলেন। তারপর আমাকে জানিয়েছিলেন যে, ওনার আম্মা খুব খুশি হয়েছিলেন তার এই কবিতাটি শুনে। আমারও খুব ভালো লেগেছিল। এটি এমন একটা কবিতা যেখানে সমগ্র জীবন স্তরে স্তরে বিস্তারিত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
তাই ভাবি পৃথিবীতে আসার পর যার যা কাজ তা শেষ হলে সবাই চলে যায়।চলার পথে কতজনার সাথে দেখা হয়। কিন্তু সামু প্ল্যাটফর্ম সবাইকে পরিচিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে। এ থেকেই আমি আমার ম্যাগাজিন -এর জন্য লেখা সংগ্রহ করতে পেরেছি। সামনাসামনি কারো সাথেই দেখা হয়নি তবুও একটা পরিবারের মতন সবাই সবাইকে পেয়েছি।
এইতো জীবন।
আমি খুবই ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে এই কারণে, যে এত প্রতিভাবান মানুষদের মণি মাণিক্যের মত লেখাগুলো আমি এক জায়গায় জড়ো করতে পেরেছি। আমার ম্যাগাজিন যেন তাদের প্রতিভার স্পর্শে একটা স্বর্ণখনিতে পরিণত হয়েছে।

আজ পর্যন্ত যারা চলে গেছেন তাদের প্রতি আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×