somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জ্ঞান অন্বেষণে এক ইউক্লিড

৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[About the image: Abandoned Grand Library Hallway with Tall Wooden Bookshelves. A long, atmospheric hallway of a grand, abandoned library. Towering dark wooden bookshelves line both sides, filled with old books. The vaulted ceiling creates a sense of immense scale, while the dim lighting and dust suggest neglect and the passage of time. A solitary book cart sits in the center, adding to the eerie stillness. This image evokes themes of history, knowledge, decay, and forgotten places.]

ঢাকা ইউনিভার্সিটির কলাভবনের লাইব্রেরির ভেতরের দিকে একটা অংশ আছে যেখানে বিশাল লম্বা হল-ওয়ে। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দেখা যায় না। নীস্তব্ধ, কোলাহল বিহীন। কারোর বিচরণ নেই ওখানে। সারি সারি শেলফ্‌ আর শেলফ্‌ । আর তা ভর্তি বাইন্ডিং করা রিসার্চ পেপার। একটা বাইন্ডিং বই বের করে আবার খালি জায়গামতন রাখা যায় না। এক ইঞ্চিও জাগা যেন মাপা। সেই অংশে জুনিয়র ছাত্ররা যায় না। রিসার্চার-রা যায় কি না সন্দেহ। কোনো বই তে কারো হাতের ছোঁয়া কখনো পড়েছে বলে মনে হয় না। ধূলা পত্র ঝাড়া হয় কিনা কে জানে।
আমি সেই বইয়ের সমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রথম অনুভব করেছিলাম যেন ইউক্লিডের আমলের 'লাইব্রেরি -অফ -আলেক্সানড্রিয়া'তে দাঁড়িয়ে আছি। কি যে এক অনুভূতি। আমি মাত্র ফার্স্ট ইয়ার। কিন্তু কেন কিভাবে ঐ অংশে ঘুরতে ঘুরতে চলে এসেছি, আমি নিজেও জানি না। তারপর ডিকশনারির মতন মোটা একটা বাঁধাই করা বই বের করে নিলাম। দেখি সোনালী অক্ষরে, মলাটের ওপরে লেখা Metaphysics.
পাতা খুললাম। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের রিসার্চ জার্নাল । ইংরেজীতে লেখা। একটি শব্দও বুঝি না। যত্ন করে তুলে রাখতে যাব বইখানা শেলফে, দেখি সেই খালি জায়গায় আর বই রাখা যায় না। এক মিলিমিটার ও জায়গা বের করতে পারি না। পাশের বইয়ের ওপর সারিবদ্ধ বইয়ের ভারে, আমার শক্তিতে কুলালো না যে একটু জায়গা করে নিই। বইটি পড়ার টেবিলে রেখে চলে এলাম।
সেইদিন কেন Metaphysics-এর এই বই আমার হাতে এসে পড়েছিল আমি জানি না। আর তারও ১৭ বছর পর আমার, মেটাফিজিক্স-এ যাত্রা শুরু।
তবে সেসব জার্নালে আমি ম্যাথ পাই নি। ওটা দর্শন শাস্ত্র -র একটা এক্সটেন্ডেড শাখা হিসাবে পরিগণিত। রচনাগুলো সে ভাবেই সন্নিবেশিত। আর আমার পথ হলো, ফিজিক্স থেকে কোয়ান্টাম- মেকানিক্স হয়ে মেটাফিজিক্স। আমার কিছু ম্যাথ লেগেছে পড়াশোনায়। তবে কঠিন না। কারণ আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষার মান কম । তাই জটিল ম্যাথ কখনো শিখি নি।
কিন্তু লাইব্রেরির কালেকশান দেখে সেদিন বুঝেছিলাম কেন এই প্রতিষ্ঠানকে 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' বলা হতো।
যে লেখাটি তখন ইংল্যান্ডে প্রকাশ হতো, সেটাই এই প্রতিষ্ঠানে অ্যাভেইলেবেল হয়ে যেত। সমান মানের লাইব্রেরি। আর কলা অনুষদের এই পাঠাগারকে মূল 'লাইব্রেরি' বলা হয়। সাইন্স লাইব্রেরিকে বলা হয় না। ওট সাইন্স লাইব্রেরি নামেই পরিচিত। কিনতু কলা ভবনের পাঠাগারটি হলো 'লাইব্রেরি।'
আর সেদিন? আমি ছিলাম জ্ঞান অন্বেষণের সন্ধানে একজন ইউক্লিড, যাকে প্রকৃতি একটা Metaphysics -এর বই হাতে তুলে দিয়ে কোন অজানা কারণে সংকেত দিয়েছিল যে, এই সেই বিষয়- যা তোমার জানার 'ক্ষেত্র' হবে কোন একসময়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×