somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সন্যাসী পিপড়া
দূর ঐ নীল আকাশে, তারা-নক্ষত্রের মতই হাজার হাজার গল্প ঝুলে রয়েছে, আমি সেই গল্পগুলোই বলতে চাই।

ছোটগল্প: কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন আমি বারান্দায় বসে বসে একটা পেপারের প্রথম পাতায় চোখ ভুলাচ্ছি। এমন সময় দেখি লোকজনের হাঙ্গামা। কেন, কি হচ্ছে? জানি না। মাকে ডেকে বললাম, কিছু জানো?
মা মাথা উপর নিচ করলেন। কিছু না বলে তার কাজে চলে গেলেন। আমি আবার বসে বসে পেপার পড়ায় মনোযোগ দিলাম। কিন্তু একটু পর লক্ষ্য করলাম, সোরগোল বেড়ে গেছে। মানুষজনের এমন অবস্থা দেখে আমার কৌতুহল হল। তাই পেপারটা ঘরে রেখে মাকে বলে বের হয়ে গেলাম।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দেখলাম এই বিল্ডিংয়ের আরো অনেকে আমার মত কৌতুহলে নিচে নামছে। এক পরিচিত বড় ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই কিছু জানেন। সে কিছু জানে না বলল। বুঝলাম সবাই জানার জন্যে উৎসুক হয়ে আছে। গেট দিয়ে বের হয়ে প্রথমে অনেক লোককে দেখতে পেলাম। যারা কি বলে যেন চেচাচ্ছে? একটু একটু বোঝা যাচ্ছে। কাছে যেতেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হল।
বুঝলাম কেউ নতুন শহরের খোজ পেয়েছে। যেখানে এই শহর থেকে অর্ধেক লোক গিয়ে আরামে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেখানেও আদিম যুগের কিছু মানুষ বসবাস করে। কেউ কেউ তাই তাদের জন্যে দরদ ভরা কন্ঠে বলল, আদি মানুষদের বিতারিত করে সেখানে বসবাস আমাদের উচিত হবে না। কিন্তু কেউ কেউ এর ঘোর বিরোধিতা করছে। তাই নিয়ে এই সোরগোল।
আমি আবার বাসায় ফিরে এলাম। এইসব নিয়ে কখনই আমার মাথা ব্যাথা ছিল না। তবে ঘরে বসে বসে খোজ-খবর নিতে তো দোষ নেই।
ডাইনিং রুমে বসে বসে টিভিতে খবর দেখছি। মা এসে কফি দিয়ে গেলেন। মাকে বাবা'র কথা জিজ্ঞাসা করতে বললেন, আজ তার আসতে দেরি হবে। কি এক কাজের চাপ যাচ্ছে এখন।
আমি কফিতে চুমুক দিয়ে শরীরটা সোফার উপর এলিয়ে দিয়ে বসে পড়লাম। টিভিতে এখন সেই সংবাদ দেখাচ্ছে। রিপোটারের কথা শুনে মনে হল সেও সেই শহরের যাওয়ার ঘোর বিরোধী।
কিছুক্ষণ পর জনগণের উপর পুলিশের লাঠি চার্চ আড়ম্ভ হল। সবাই যার যার মত ছুটে যাচ্ছে এদিক-সেদিক। যে ভিডিও করছে সেও ছুটছে। তাই ভালো মত দেখতে কষ্ট হচ্ছে। একটু পর গরম পানি দেওয়া হল। মূলত যারা এর বিরোধীতা করছে তাদের উপর এই হামলা।
সেদিনটা খুবই বাজে ভাবে গেল। রাতের বাবার সাথে খেতে খেতে বললাম, তুমি কি এইসবের পক্ষে না বিপক্ষে?
আমি পক্ষে। বাবা তার চেহাড়াটা ধীর করে বললেন।
আমি অবাক হলাম। কারণ আমার বাবা কখনই কোন অন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন না। কিন্তু আজ বললেন।
কিন্তু এটা তো অন্যায়।
কিসের অন্যায়? তুই এটা বুঝবি না। সেখানে আমাদের শহর থেকে লোকজনকে পাঠাতে পারলে কত ভালো হবে চিন্তা ও করতে পারবি না।
কিন্তু তুমি মনে কর, আমাদের পরিবারের লোক সংখ্যা ১০। এখন ৫ জন কম হলে আমাদের জন্যে ভালো। ১০জনকে নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। অন্য আরেক পরিবারে ২ জন। কিন্তু তারা অনেক সুখি। তাই বলে কি তাদের ওখানে আমরা ৫কে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের সুখ নষ্ট করব? বা তাদের সেই বাড়ি থেকে বের করে সেখানে বসবাস শুরু করব? এটা অন্যায়।
তুই বড্ড বেশি বুঝিস। বলে বাবা উঠে পড়লেন। আমি চুপচাপ খেতে থাকলাম।
রাতের খবরে দেখলাম, সরকার সেখানে যাবে। প্রথমে সেই শহরের অবস্থা বুঝে তারপর ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু আমি জানি সেখানে যাওয়া মানেই কি? যারা এর বিরোধিতা করে আসছে তারাও জানে। কি হবে?
কিন্তু কিছু বলার নাই। কলাম্বাস যেভাবে আমেরিকা দখল করেন। ঠিক সেই একই অবস্থা হবে। কিন্তু কেউ কি জানেন কলাম্বাসের সেই লোমহর্ষক কাহিনী?
''আমেরিকার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে আমেরিকার আদিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ, কৃতদাস, স্থানীয় শ্রমিক এবং অভিবাসীদের জীবনে কি ঘটেছিল। কলাম্বাস নিজের নোট বইটাতে কি লিখেছিলেন, তিনি বর্ণনা করেছেন বাহামা দ্বীপে পৌছানোর পর কিভাবে সেখানকার আরোয়াক আদিবাসীরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। আরোয়াকরা বেলাভূমি থেকে সমুদ্রে নেমে গিয়ে কলম্বাস এবং তার সঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। আরোয়াকদের কাছে কলম্বাসদের নিশ্চয়ই অন্য কোন জগতের মানুষ বলে মনে হয়েছিল। আরোয়াকরা কলম্বাসের জন্য নানারকম উপহার এনেছিল। কলম্বাসের মনে হয়েছিল আরোয়াকরা খুবই ভদ্র, শান্তিপ্রিয় মানুষ। কলম্বাস লিখেছিলেন, তাদের হাতে কোন অস্ত্র নেই, অস্ত্র তারা চিনে না। আমি যখন ওদের হাতে একটি তলোয়ার তুলে দিলাম, ওরা তলোয়ারের ধার করা দিকটাতেই ধরল আর হাত কেটে একাকার করে ফেলল। পুরো নোটজুড়ে তিনি তাদের গুণকীর্তন করেছেন।
কলম্বাস মূলত বের হয়েছিলে সোনার খোজে। তাই তিনি যখন তাদের হাতে দেখলেন সোনার খন্ড। তখনই বুঝে গেলেন এই অঞ্চলে সোনার অভাব নাই।
কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের দশ বছরের ভিতরই সেখান থেকে আদিবাসীদের বিতারিত করা হয়। তাদের দাসে পরিনত করা হয়। তাদের মেয়েদের ধরে ধরে ধর্ষণ করা হয়।'' ( অন্যচোখে কলম্বাস: অনুবাদ শাহাদুজ্জামান।)
আমি জানি শেষ পর্যন্ত একই ব্যাপার ঘটবে এদের ব্যাপারে। নিরীহ, নিরঅস্ত্র মানুষদের মেরে ফেলা হবে। তাদের বাচ্চাদেরও রেহাই দেওয়া হবে না।
শেষ পর্যন্ত তাদের যে পরিণতিই ঘটুক না কেন? তাদের জন্যে এ শহরের ক্ষমতাবান মানুষদের কোন মায়া হবে না। তারা সেই শহর দখল করে ছাড়বে। কিছু মানুষ তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে ঠিকই কিন্তু কোন রকম লাভ হবে বলে মনে হয় না।

রাতে আমি একটি ইতিহাসের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেলাম। এভাবেই আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। বা আমাদের ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×