বহুবার মনির একটি লাল কালির কলম চেয়েছে, তার বাবার কাছে। বলেছে, ও আব্বা একটা লাল কলম কিন্যা দাও।
তার বাবা প্রত্যেকবারই তাকে বলেছে, আজই নিয়ে আসুম। তুই পড়।
কিন্তু তিনি আর ছেলের জন্যে লাল কলম আনেন নি। নিজ কর্ম শেষ করে, তিনি যখন বাড়ি ফিরেন; দেখা যায় তার কাছে বাজার করার মতন পয়সাই আছে। লাল কলমের যদিও বেশি দাম না, তবু তিনি বাজে খরচ করতে চান নি।
তার ছেলেও নাছোর তার লাল কলম চাই।
সেদিন বাসায় ফিরবার সাথে সাথে সে তার বাবাকে বলল, এই যে আব্বা আমার কলম কই?
তার বাবার মুখে মেঘের আনা-গোনা দেখা দিল। তিনি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারলেন না, তার তখন রাগে গা জ্বলছে, যা তো কানের কাছে এত ফ্যাজর ফ্যাজর করিস না।
মনির মুখটা নিচু করে চলে গেল। বোঝা যাচ্ছে সে কাঁদছে। তার বাবার মনের ভিতর কেমন যেন খারাপ লাগল। কি চেয়েছে ছেলেটা? মাত্র ১০ টাকা দামের একটা কলম। আর সে তা কিনে দিতে পারছে না।
কিন্তু কিছু দিন যাবৎ তার কোন কাজ নেই। এখন দশ টাকাও যে অনেক। একটা টাকা বাজে খরচ করার সাহস তার হল না।
রাতে ছেলেটাকে কাছে ডেকে বলল, বাজান কয়দিন পরেই তোরে লাল কলম কিন্যা দিমু। তুই মন খারাপ করিস ন্যা।
ঠিক আছে আব্বা। সেও নরম গলায় বলল।
কিন্তু কিছুদিন পর তার বাবা সব কিছু ভুলে গেল। সে কাজে যায়, কাজ থেকে ফিরে আসে। কলম নিয়ে আসে না। মনিরের রাগ হল। সে মনে মনে বলল, আব্বায় দিতে চাইল কিন্তু দিল না। সে পণ করল, সে আর চাইবে না কলম। কি হবে একটা লাল কলম দিয়ে?
কিছুদিন সে বাবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিল।
সেদিন তার মা বলল, কিরে বাজান, ব্যাজার হইছোস?
ক্যান? ব্যাজার হমু ক্যান?
তার মা হাসি মুখে বলল, আইজ একটি জিনিস নিয়া আইবো তোর বাপে।
তার কোন আগ্রহ নাই। তাই সে খেলতে বাইরে চলে গেল।
রাতের খাবার খাওয়ার সময় তার বাবা তাকে একটা লাল রঙের কলম দিয়ে বলল, বাজান ব্যাজার হইস না। বাজার এখন ভাল না।
সে কলম পেয়ে খুব খুশি হল। সব রাগ সঙ্গে সঙ্গে তার বৃষ্টির পানির মত ঝড়ে গেল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে, সে লাল কলম দিয়ে খাতায় আঁচড় কাটল। একি! আশ্চর্য হল সে। এটাতো কাল কালির কলম। উপরের রঙটাই শুধু লাল। এত দিনের আশা আকাংখা সব কিছু ধুলায় মিলিয়ে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৬ রাত ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



