ঢিলে-ঢালা শার্ট গায়ে দেওয়া ছেলেটি যখন দুরু দুরু বুক নিয়ে তার শিক্ষকের সামনে দাঁড়াল। চশমার ফাঁক দিয়ে তার দিকে ফজলুল স্যার তাকায়। কিছু বলে না। তিনি পেপারে মনোযোগ দেন। ছেলেটা যে দাঁড়িয়ে আছে, এই ব্যাপারে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। হালকা বাতাসে পেপার উড়ে। সাথে ফজলুল স্যারের বাবরি চুল। ছেলেটি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে সেই দৃশ্য। তার বুক তখনও মৃদু মৃদু কাঁপছে।
পেপার পড়া শেষে তিনি তার দিকে ফিরলেন। কি ব্যাপার, তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? তখন থেকে দেখছি।
ছেলেটির চোখে বিস্ময়। সে বলে, স্যার, আপনি আমাকে ডেকেছেন।
আমি ডেকেছি। কে বলল? ও মনে পড়েছে, তোমার নাম কি রিপন।
হ্যা, স্যার।
তোমাকে ডেকেছিলাম, এতক্ষণ পরে এলে কেন? সময় জ্ঞান নাই। তাহলে কিন্তু জীবনে উন্নতি করতে পারবে না।
আমি তো কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি।
তুমি দুই মিনিট লেট করেছো। আমি দেখেছি।
রিপন দেখল স্যারের হাতে কোন ঘড়ি নেই। তবু তিনি কিভাবে দুই মিনিটের হিসেব রেখেছেন কে জানে?
হ্যা, যা বলছিলাম, তোমাকে অংক কষায় কে?
স্কুলে তো বলরাম স্যার।
বাড়িতে?
আমি একাই করি।
ভাল। কিন্তু এত ভাল তো করার কথা না, একা একা। নকল করেছ?
না, নকল করব কেন?
করবে না। মাঝে মাঝে করতে হয়। যাই হোক, তোমাদের খাতা এবার আমি দেখেছি। তুমি কিভাবে যেন ১০০ তে ১০০ পেয়েছ। তাই তোমাকে দেখতে চেয়েছি। তোমার রোল কি এক?
না, স্যার। আমার রোল নাম্বার ৫৬।
ফজলুল স্যারের চেহাড়া কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করলেন।
আমি কি তাহলে ভুল করলাম। তিনি ছেলেটিকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। খাতার বান্ডেল বের করে দেখলেন। যার রোল নাম্বার এক, সে পেয়েছে ৮৫। সত্যি সত্যি ৫৬ রোলের ছেলেটি ১০০ পেয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৬ রাত ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



