somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্যগল্প: দীপিকা পাডুকান, ক্যাটরিনা কাইফ ও পাওলি দাম সংক্রান্ত জটিলতা

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৫:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীলাকে যখন আমি পিছন দিক থেকে দেখি মনে হয় ও দীপিকা পাডুকান, যখন ডান দিক থেকে দেখি মনে হয় ক্যাটরিনা, যখন বাম দিক থেকে দেখি মনে হয় পাওলি দাম। সামনে থেকে দেখলে মাঝে মাঝে ভুলে যাই ও হচ্ছে নীলা। আমি তিনজন নায়িকার সাথে বসবাস করি ভাবতেই ভাল লাগে।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নীলা বাইরের দৃশ্য দেখছে। আমি ডাক দেই,
মাই ডিয়ার দীপিকা পাডুকান। ও কিছু বলে না। আমি আবার ডাক দেই। ও ডিয়ার পাডুকান।
এবার আমার দিকে ঘুরে উত্তর দেয়, দেখো ইমন, অনেক ফাইজলামি করছ, আর করবে না। ফাইজলামি আমার পছন্দ না। এখন ওকে ক্যাটরিনার মত লাগছে। যখন বাম দিকে ঘুরল পাওলি দামকে দেখলাম। কি অদ্ভুত! বিবাহিত স্বামীরা কি তাদের স্ত্রীদের মধ্যে কল্পনায় নায়িকাদের দেখতে পান? আমি তো বাস্তবেই দেখতে পাই।
এক কাপ কফি দাও না।
পারব না, কফি বানাতে পার না, তুমি আবার কলেজে পড়াও।
পড়ানোর সময় তো কফি বানাতে হয় না।
হয়েছে। বলেই আমার সামনে থেকে চলে গেল। তখন আবার আমি দীপিকা পাডুকানের পাছার দর্শন পেলাম।

সেদিন কলেজ থেকে ফিরছিলাম। হঠাৎ করে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে গেল। আমার অপরাধটা কি আমি জানি না। শাহ-আলী থানাতে বসে আছি। আধ ঘন্টা পর একজন পুলিশ আসল। আমাকে দেখে বিরক্ত হয়েছে বোধহয়। আমি মুখ খুলতেই থামিয়ে দিল।
আপনি ইমন চৌধুরী না।
জ্বি।
আপনি কি কলেজের লেকচারার?
জ্বি।
তাহলে শুনুন আপনার বউ আপনার নামে অভিযোগ করেছে, আপনি নাকি অন্য মেয়েদের সাথে টাংকি মারেন?
নাহ! কি আশ্চর্য!
আপনার তিনজন গার্লফ্রেন্ড আছে। আছে না বলুন।
হ্যাঁ, আছে, কিন্তু সে তো…..
থামেন। কথা সত্য। আপনার নামে তাহলে কেস রেডি করা যায়।
কি বলছেন? আমার বউকেই আমি তিন নামে ডাকি। তাই বলি আমার তিনজন গার্লফ্রেন্ড।
ওসব বলে লাভ নেই। গার্লফ্রেন্ডের নামগুলো বলে ফেলুন।
দীপিকা পাডুকান, ক্যাটরিনা কাইফ, পাওলি দাম।
ফাইজলামি বাদ দ্যান। এরা আপনার গার্লফ্রেন্ড?
সত্যি বলতে আমি এইসব নামে আমার বউকে ডাকি। বিশ্বাস না করলে জিজ্ঞেস করুন।
কেন ডাকেন?
আমার বউকে তিন এ্যাঙ্গেল থেকে তিন রকম লাগে। পিছন থেকে দীপিকা, ডান দিক থেকে ক্যাটরিনা, বাম থেকে পাওলি।
আবার মজা নেন। এভাবে হবে না। ডলা দিতে হবে। বলে তিনি কাকে যেন ডাকল। খুব রেগে গ্যাছেন। একজন আসতেই তাকে বলল, বাল ফালাও, অ্যা। এতক্ষণ লাগে আসতে।
স্যার, বলেন।
একে দুইটা থাপ্পর দিবে। কড়া করে, একেবারে যেন টাস টাস শব্দ হয়।
সঙ্গে সঙ্গে আমার দুই-গালে দুইটা থাপ্পর কষাল সে। ইন্সপেক্টর রেগে বলল, তোমাকে কি দুইগালে দিতে বলেছি?
না।
একগালে দাও।
এবার ডান গালে দুইটা থাপ্পর হজম করতে হল। যাই হোক, থাপ্পর দিয়েও যদি ছেড়ে দেয়।
ভাই, আমার কি দোষ? এমন করেন ক্যান?
শালা দীপিকা তোর বউ, ক্যাটরিনা তোর বউ, পাওলি দাম তোর বউ। মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাস না।
আমি তো বলি নাই, বউ।
এবার ক, কয়রাইত শুইছোস ওগো সাথে।
কি বলেন?
ক, তাইলে আবার থাপ্পর।
আমি চাইলেই কি ওগো সাথে শুইতে পারব?
আকাম-কুকাম করার পর এই কথা। তোর বউ সবকিছু বলছে। কোন কনডম ইউজ করছা সেটাও।
কি কন, ভাই? আমি তো কনডমই ইউজ করি না।
আসল কথা মুখ দিয়া বের হইছে।
ক। কবে কবে গেছিলি, ওগো কাছে। এবার সে টেবিলের উপর উঠে বসল। আমার দিকে সোজা তাকিয়ে আছে।
ভাই, আপনারা মনে হয় ভুল করতেছেন। আমার বউকে ডাকেন। তার সাথে কথা বলব।
আসল কথা ক।
কি কমু?
কবে গেছিলি?
যাই নাই। আমার বউরে খবর দ্যান।
সে রেগে রুম থেকে চলে যায়। আমি যেখানে বসে ছিলাম সেখান থেকেই শুনতে পাই, কাকে যেন সে গালি দিচ্ছে, খানকির পোলা, কারে ধরছোস। কনডম ইউজ করে না। হের বউনা কইল কনডমের কথা।
সে আবার দ্রুত এই রুমে চলে আসে। আমি বলি, ভাই বিশ্বাস করেন, আমি সেরকম না। আমি কলেছে পড়াই।
দাঁড়ান, খবর নিচ্ছি। তার কণ্ঠস্বর এবার নরম শোনাল। বুঝলাম না। কনডমের কথায় সে শান্ত হয়ে গ্যাছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাইজান, আপনি কি কনডম ইউজ করেন?
সে গভীর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল। কিছুই বলল না। আমিও আর কিছু জিজ্ঞস করার সাহস পেলাম না। কিছুক্ষণ পর তার ফোন বেজে উঠল। সে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কে কি বলল, বুঝলাম না। কিন্তু সে বারবার বলতে থাকল, মিসটেক মিসটেক।
কথাবলা শেষে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, সরি, আপনাকে হয়রানি করা হল। কিছু মনে করবেন না, আপনার নামে আর একজন আছে কলেজে তার নামে report হইছে। মাত্রই শিয়োর হইলাম। একই নামতো ছাত্রদের জিজ্ঞেস করতে আপনাকে দেখিয়ে দিয়েছে।
তাহলে আমি কি আসতে পারি?
হ্যাঁ, আসুন। আমরা দুঃখিত। জানতে চাইছিলেন না, আমি কনডম ব্যবহার করি কিনা, হ্যাঁ করি। প্রটেকশন থাকা জরুরি।
সত্যি কথা বলতে, আমিও করি। আপনাকে মিথ্যা বলেছিলাম। বলেই আমি রুম থেকে বের হয়ে আসলাম। জানি সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দ্রুত বাসার দিকে হাঁটা শুরু করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৫:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×