আসসালামু আলাইকুম।আপনারা সবাই শিরোনাম দেখে নিশ্চয় বুঝে গেছেন আমার এই পোস্টের বিষয়বস্তু।ইলেকট্রিসিটি বা কারেন্ট হচ্ছে বর্তমান সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি।এই মহাশয় ছাড়া আমরা অচল।আপনার শখের হ্যান্ডসেটটির চার্জিং থেকে শুরু করে গরমে ফ্যানের নিচে আরামে বসে রেফ্রিজারেটর থেকে আইস্ক্রিম বের করে টিভিটা ছেড়ে খেতে খেতে অনুষ্ঠান উপভোগ করা- সব জায়গায় কারেন্ট মহাশয় আছেন।উনি যে শুধু উপকার করেন তা কিন্তু না, মাঝে মাঝে উনি আবার আমাদের ‘শক’ নামক খাবারটা খাওয়ান যার পরিণতিতে অনেকে হাসপাতালে বেড়াতে বাধ্য হন।তাই কিভাবে তাকে সন্তুষ্ট রাখা যায় অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাই আজ আমরা জানার চেষ্টা করব।
কারেন্ট মহাশয় মূলত দু’ভাই। তাদের নাম
১।স্থির বিদ্যুত বা ডিসি কারেন্ট(যেমন- ব্যাটারী)
২। চল বিদ্যুত বা এসি কারেন্ট
ডিসি সাহেবকে নিয়ে ভাবনার কিছু নাই। কারন তার মেজাজ সাধারনত ১২ ভোল্টের বেশি হয় না আর তাই এর শক খাইলেও কিছু হয় না।
এসি সাহেবের মেজাজ বেজায় কড়া ২২০ ভোল্ট, তাই তাকে নিয়ে ঠাট্টা করা যাবে না।ডিসি বা ডাইরেক্ট কারেন্টে যেমন পজিটিভ(+) ও নেগেটিভ(-) থাকে তেমনি এসি বা অল্টারনেটিং কারেন্টে ফেজ ও নিউট্রাল থাকে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ফেজ ও নিউট্রাল কি ? কোন তারে ফেজ আর কোন তারে নিউট্রাল বুঝব কি করে?????
পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে ইলেকট্রন নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ হলো ইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ বা কারেন্ট।
কারেন্ট উৎস(মেইন লাইন তথা পাওয়ার স্টেশন) হতে ফেজ তার দিয়ে লোডে (লাইট, ফ্যান ইত্যাদি)আসে এবং নিউট্রাল তার দিয়ে উৎসে ফেরত যায়।
ফেজ-এ নিয়ন টেস্টার ধরলে এর বাতি জ্বলবে ও ফেজ খালি হাতে ধরলে শক করবে।এই শক এর মাত্রা নির্ভর করে ভোল্টেজের উপর।ভোল্টেজ যত বেশি শক তত বেশি অনুভুত হবে।যেমন-আমাদের বাসাবাড়ির লাইন ভোল্টেজ থাকে ২২০ভোল্ট।এতে শক অনুভুত হয় তাতে বেচে থাকার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু ৪৪০ ভোল্টে বেচে থাকার সম্ভাবনা খুবই খুবই খুবইইইইই ক্ষীণ। আবার টিউব লাইটের ব্যালাষ্টের পরে ভোল্টেজ ১১০ ভোল্ট হয়ে যায় তাই তখন শকটা আরেকটু কম ঝুকিপূর্ণ।
আপনি কিন্তু ফেজ খালি হাতে ধরতে পারবেন অথচ আপনাকে এসি(অল্টারনেটিং কারেন্ট) সাহেব শক দিবেন না। কিভাবে?????
যখন খালি হাতে ফেজ (২২০ ভোল্ট)ধরবেন অবশই খেয়াল রাখবেন যেন,
১)কোন অপরিবাহী যেমন শুকনা কাঠ বা প্লাষ্টিকের উপর দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র একটি তার ধরবেন অর্থাৎ হয় ফেজ নতুবা নিউট্রাল। ফেজ ও নিউট্রাল কখনই একত্রে ধরবেন না(ধরলেই শেষ)।
২)আপনার শরীরের কোনো অংশ গ্রাউন্ড না পায় অর্থাৎ পরিবাহী কোন আসবাবপত্রের (যেমন-স্টীলের আলমারি যা মেঝেতে দাঁড়ানো বা দেয়ালে লাগানো ) সংস্পর্শে না আসে ।
৩)কেউ যেন আপনাকে স্পর্শ না করে(স্পর্শ করলে দু’জনকেই শক করবে)।
উপরোক্ত নিয়মাবলী মেনে ফেজ ধরা অবস্থায় কেউ আপনার গায়ে টেস্টার ধরলে টেস্টারটি জ্বলবে কিন্তু আপনার কিছুই হবে না।
বিঃ দ্রঃ কোনো অনাকাংখিত ঘটনার জন্য লেখক দায়ী নহে।
ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
আল্লাহ হাফেয।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৪ দুপুর ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


