somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক হল বিবিসি বাংলা সংলাপে

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের আজকের পর্বটির বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র কোন পথে?
এতে অংশ নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খান বলেছেন বাংলাদেশে এখন একদলীয় শাসন চলছে বলেই মনে করেন তিনি।

রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন বিএনপি আগামী নির্বাচনেও আসবে কি-না তা সরকারের বিবেচ্য নয় এবং দেশে কোন অন্তর্বর্তী নির্বাচনও হবেনা।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিএনপি আন্দোলনেই থাকবে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ বিশেষ পর্বে দেশে প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ব্যবস্থা আছে কি-না, সর্বদলীয় নির্বাচনের জন্য ফর্মুলা, অন্তর্বর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র জরুরী কি-না এমন বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের বার্ষিকী পালিত হতে হচ্ছে মঙ্গলবার।

এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। কেউ দিনটিকে পালন করছে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস আর কেউ পালন করছে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে।

এমন পটভূমিতে আজ বাংলাদেশ সংলাপের বিশেষ পর্বটি অনুষ্ঠিত হলো।
এ পর্বে একজন দর্শক জানতে চান গণতন্ত্র যদি হয় একটি দেশের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ব্যবস্থা, তাহলে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশে কি সেই ব্যবস্থা আছে ?

আরেকজন দর্শক জানতে চান নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কালীন সরকারের একটি ফর্মুলা কি খুঁজে পাওয়া যাবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খান বলেন আইরিন খান জানান ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নিজেও ভোট দিতে পারেননি কারণ তার এলাকাতেও একজন মাত্র প্রার্থী ছিলেন।

তিনি বলেন, “ একদলীয় শাসন আছে বলেই বলবো। কিন্তু এর মাশুল বিএনপিও দিবেনা, আওয়ামী লীগও দিবেনা। দিবে সাধারণ মানুষ। কারণ সুশাসন হবেনা। আওয়ামী লীগ যতই ভালো কাজ করতে চায় না কেন একা পারবেনা। তাই দুদল মিলে সমঝোতা করতে হবে”।

তবে একি সঙ্গে তিনি বলেন কেউ কেউ বলছেন বর্তমান সরকার প্রতিনিধিত্বশীল সরকার নয়, আবার যারা ভোট দিয়েছেন তারা বলছেন প্রতিনিধিত্বশীল। এ কারণেই সমঝোতা জরুরী বলে মনে করেন আইরিন খান, যিনি এখন রোম ভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রায়ই একি ধরনের অভিমত দেন সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস। তবে তিনি বলেন এর আগের সংসদে বিরোধী দল ছিল কিন্তু তাদের কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। তাই গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য সব দলকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “একটা দলের একনায়কতন্ত্রই হচ্ছে। কিন্তু সেখানে দলের নেতৃত্বকে রেসপন্সিবল করতে হবে। কোন দলের মধ্যে কোন গণতন্ত্র আমরা দেখেছি বলে মনে হয়না”।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অবশ্য বলেন প্রতিনিধিত্বশীল সরকার রয়েছে বলেই বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করছে। বিএনপি নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন তাদের ভুলের মাশুল অন্য কেউ দেবেনা।

তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না আসবে সেটা আমার বিষয় নয়। তাদের আনার জন্য কলা মুলো ঝুলিয়ে দিবোনা। এটাই সোজা কথা। সংবিধান আছে। সংবিধানে বলা আছে নির্বাচন কিভাবে হবে। বিএনপি একা দল, আরও অনেক দল আছে”।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড: আব্দুল মঈন খান বলেন বিএনপি এমন কোন নির্বাচনে যেতে পারেনা যেখানে ফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোট বিহীন নির্বাচন আখ্যায়িত করে তিনি বলেন ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি বলেই বর্তমান সরকার বৈধতা পায়নি।

তিনি বলেন, “সরকার কিন্তু একটা ফাঁদে পড়ে গেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। কিন্তু বিএনপি অংশ নেয়ায় সরকার বৈধতা পেয়েছিলো। এবার বিএনপি নির্বাচনে যায়নি বলে সরকার এখনো বৈধতা পায়নি”।

একজন দর্শক বলেন, “আমাদের দেশে নির্বাচন ও গণতন্ত্র খেলাই রয়ে গেছে”।

আরেকজন বলেন, “দুদলে বসে আলোচনা করে সমাধানে আসুক তারপর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার চাই”।

দেশে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মিস্টার ইমাম বলেন অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই, নির্বাচন হবে বর্তমান সংবিধানের আলোকেই।

ওদিকে মিস্টার খান বলেন সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনাই একমাত্র উপায়। সেটি না হলে বিএনপি আন্দোলনে করেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি

(এই পোস্টটি পুনুরায় শেয়ার করা হল )
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×