somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে জাতিসংঘের বাধা

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের আহবানে গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ চলছে। সেই অবরোধে সারা বাংলাদেশে সহিংস রূপ ধারণ করেছে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অবরোধ এবং হরতালে অংশগ্রহণকারীদের দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় বিজিবি নিয়োগ করা হয়েছে। চলছে যৌথবাহিনীর অভিযান। তারপরেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে বিএনপির চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের জন্য জাতীয় সংসদের সংসদ্যরা জোরালো দাবি তুলেছেন।
একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি জাতিসংঘের নজরে রয়েছে। তারা বাংলাদেশের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জাতিসংঘের চাপের কারণেই বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সরকার মনে করে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করলেই বিরোধী দলের আন্দোলন দমানো যাবে। সেই জন্য সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে চেয়েছিলো কিন্তু জাতিসংঘের চাপের কারণেই অধ্যাবধি বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না


বাংলাদেশের পরিস্থিতি যদি শান্ত না হয় এবং সরকার বিরোধী দল দমনে সেনা বাহিনী, র‌্যাবকে ব্যবহার করে এবং এটা প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে মানবাধিকার লংঘন করছে সেক্ষেত্রে আগামীতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর অংশগ্রহণ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।
নিউইয়র্ক থেকে এনা জানায়, ২২ জানুয়ারি বিকেলে জাতিসংঘের প্রতিদিনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রেস ব্রিফিং এর জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের পক্ষে তার স্পোকম্যান স্টিফেন ডোজারিক সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেই প্রেস ব্রিফিং এ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। সাংবাদিক লি বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের মহাসচিব বান কি মুনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন করলে স্টিফেন ডোজারিক বান কি মুনের সে সব প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
সাংবাদিক মিস্টার লি’র বলেন, আমি বাংলাদেশ বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে চাই। সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ¦ এবং সংঘাত বৃহৎ আকার ধারণ করেছে, কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রেফতারের দাবি উঠেছে এবং গণমাধ্যমে কিছু সেন্সরশীপও চলছে। আমি বিস্মিত, আমি জানি সেক্রেটারি জেনারেল আগে এ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং আমি বিশ্বাস করি একই ভাবে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেছেন। দেশটি একই সাথে শান্তিরক্ষা মিশনে বৃহৎ অবদান রাখছে। ডিপার্টমেন্টাল অব পলিটিক্যাল এ্যাফেয়ার্স-ডিপিএ অথবা সেক্রেটারি জেনারেল কি করছেন?
সাংবাদিক লি’র প্রশ্নের জবাবে স্পোকসম্যান স্টিফেন ডোজারিক বলেন, আমি মনে করি, আমরা আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি , যা হিউম্যান রাইটস এর হাই কমিশনারের কার্যালয় থেকে পরিস্কার করে বলা হয়েছে, যাতে শান্তির আহবান জানানো হয়েছে। এবং একই সাথে সরকারের নিশ্চিত করা উচিৎ যে, শীর্ষ বিরোধী নেতাকে কোন ধরনের গ্রেফতার ও ডিটেনশন আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োগের মাধ্যমে নয় এবং সব পদক্ষেপ নেয়া হবে আইন-কানুন অনুযায়ী এবং ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন’ নির্ধারিত সূচক অনুয়ায়ী পরিচালনা করা হবে। অবশ্যই আপনি জানেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা আমরা দেখছি বা দেখতে হচ্ছে বস্তুত তা বিরক্তিকর।
সাংবাদিক লি’র দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো এবার আমি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই, আর সেটি হলো- আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রাখা এক নম্বর দেশ এবং কিছু অপব্যবহার সিকিউরিটি ফোর্স এর পদতলকে বেশ খানিকটা শায়িত করেছে, এটা কি ইউএন’র সৈন্যশ্রেণীর বিস্তারের পুনর্মূল্যায়ণে কোন ভূমিকা রাখবে?
এই প্রশ্নের উত্তরে স্পোকসম্যান স্টিফেন ডোজারিক বলেন, আমি মনে করি ‘দ্যা স্টানডার্ড হিউম্যান রাইটস স্ক্রীনিং পলিসি’ ক্রমাগত প্রয়োগ হবে।
বাংলাদেশ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং এর ট্যানিক্যাল উত্তর নিয়ে জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এনাকে বলেন, প্রথম প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণ করলে তার অর্থ দাঁড়ায়- বাংলাদেশে বিএনপির চেয়ারর্পাসনকে সরকার ইচ্ছে করলেই গ্রেফতার করতে পারে না। মূলত: জাতিসংঘের চাপের কারণেই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি বা গ্রেফতার করার সাহস পাচ্ছে না। জাতিসংঘের চাপ না থাকলে সরকার আরো আগে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতো। তিনি আরো বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করলে সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে। আফ্রিকার কিছু দেশে এই ধরনের নজির রয়েছে।
তিনি বলেন, যে কারণেই সরকার বেগম খালেদা জিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মামলা দিচ্ছে। দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনা বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অমান্য করে বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন করছে কি না তা জাতিসংঘ গভীরভাবে মনিটরিং করছে এবং মনিটরিং এ যদি প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ সেনা বাহিনী বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন করছে তাহলে আগামীতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষী মিশনের বাংলাদেশের সৈন্য নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিদিনের প্রেস ব্রিফিং এ বাংলাদেশের বিষয়টি শুধু শুধু এসেছে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। তাছাড়া স্পোকসপার্সন স্টিফেন ডোজারিক জাতিসংঘের মহা সচিব বান কি মুনের কথাগুলোই বলেছেন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×