somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Futakuchi-onna (ফুটাকুচি-অনা)

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জাপানী আরবান লেজেন্ডে ফুটাকুচি-অনা হলো একটি অভিশপ্ত ডেমোনিক ফিগার। দেখতে একজন মধ্যবয়স্ক সুন্দরী মহিলার মত যার দীঘল কালো চুল রয়েছে। কিন্তু এই মহিলার মাথার পেছন দিকে রয়েছে একটি ভয়াবহ রকমের বড় মুখ। এই মুখটি যখন কথা বলে তখন মহিলার খুলি দুভাগ হয়ে যায়। এই মুখে কোন চোখ বা নাক নেই। এই মুখটি একটি আলাদা সত্তা। মহিলার দীঘল চুলগুলোকে সাপের মত করে চালিত করে মুখটি আর সেগুলো দিয়ে খাবার তুলে খায়। এই মুখটি সর্বদাই ক্ষুধার্থ থাকে। আর মহিলাকে চাপ দিতে থাকে খাবারের জন্য।
এই লেজেন্ড এর শুরু কয়েক হাজার বছর আগে যখন জাপানে একজন মধ্যবিত্ত লোকের প্রথম স্ত্রী মারা যায়। তখন তিনি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন। লোকটির আগের বিয়ের একটি ছেলে ছিল আর এই মেয়েটির সাথে আরেকটি ছেলে হয়। কিন্তু জাপানে সে বছর প্রচন্ড দুর্ভিক্ষ শুরু হয় আর দুটি বাচ্চাকে খাওয়ানোর ক্ষমতা ছিলনা লোকটির। তার দুনাম্বার স্ত্রী স্বামীর অজান্তে তার সৎ ছেলেকে বঞ্চিত করে নিজের ছেলেকে খাবার দিতে থাকে আর একটা সময়ে না খেতে পেয়ে ছেলেটি মারা যায়। এর কিছুদিন পর লোকটি বাগানে কাঠ কাটছিল আর তার স্ত্রী তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময়ে কুড়ালটি ছুটে গিয়ে মহিলার মাথার পিছে লাগে। লোকটি ভেবেছিল তার স্ত্রী হয়ত মারা যাবে কিন্তু মহিলা বেচে যান আর তার মাথার পিছনের ক্ষতটি ভালো না হয়ে সেখানে একটি ভয়াবহ আকৃতির মুখের সৃষ্টি হয়। যেটা সবসময় খেতে চাইত। খেতে না দিলে রাক্ষুসে আচরন শুরু করত। একটা সময়ে মুখটি কথা বলা শুরু করে আর তার স্বামীকে জানিয়ে দেয় যে তার প্রথম সন্তানের মৃত্যুর জন্য সেই দায়ী আর মৃত ছেলেটির ক্ষুধার অভিশাপ তার উপরে এসে পরেছে। এরপর পরের দিন থেকে মেয়েটিকে আর দেখা যায়না.... ফুটাকুচি অনা কি হারিয়ে গেল? এমনটা আসলে হবার নয় ...
দুশ বছর পরের ঘটনা। এক বৃদ্ধ ছিল, অনেক ধনী ছিল সে। কিন্তু এতটাই কৃপণ ছিল যে স্ত্রীকে খাওয়াতে হবে সেই ভয়ে সে বিয়েই করেছিল না। এমন সময়ে একটা মেয়ে এসে তাকে বিয়ে করে যে মেয়েটা কোন খাবারই খেতনা। বুড়ো অনেক খুশি হয়। প্রতিদিন সকালে বুড়ো কাজের জন্য বের হয়ে যেত। কিন্তু একমাস পরেই বুড়ো খেয়াল করল তার বউ কখনো কিছু খায়না কিন্তু তারপরেও তার চালের গুদামের চাল দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। একদিন বাইরে যাবার নাম করে বুড়ো লুকিয়ে লক্ষ্য করতে থাকে তার বউকে আর সে দেখে তার বউয়ের মাথা পিছে একটি ভয়ংকর মুখ সৃষ্টি হয়েছে যেটা চুলগুলোকে হাতের মত ব্যাবহার করে চালগুলো মুখের মধ্যে পুরছে। বুড়ো আর্তনাদ করে উঠলে সে ফুটাকুচি অনার চোখে পরে যায় আর সে অজ্ঞান হয়ে পরে... এরপরে সেখান থেকেও ফুটাকুচি অনা গায়েব হয়ে যায় ...
লেজেন্ড বলে ফুটাকুচি অনা অমর.. সে কখনোই মরবে না। পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত তাকে এই অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৪৭
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমুদ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

আমুদ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে এক রাজ্যে রাজার রাজকন্যা
তাঁর রূপ, লাবণ্য, গড়নে মুগ্ধ!
সে বিকশিত গুণবতী
তাকে দেখে জাগে মনে প্রীতি!

তাঁর খুব রাগ কিন্তু মায়াবতী
তাকে দেখলে উদ্ভূত হয় প্রেম রাতারাতি।
সে উড়ে নীল আকাশে
আমি কাতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×