somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'আমি তপু'- অসাধারণ একটি বইয়ের সাধারণ পর্যালোচনা

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তখন আমি সবে মাত্র সপ্তম শ্রেণিতে উঠেছি। বাড়তি বই পড়ার অভ্যাস তখনও হয়নি। তবে এক ছুটিতে এক খালার বাসায় বেড়াতে গিয়ে একটি বই তাদের ঘরে আবিষ্কার করলাম। সন্ধ্যার দিকে শুরু করে সারা রাত ধরে পড়লাম। শুধু পড়লামই না কেঁদে কেঁদে নিজের আশে-পাশে জলাশয়ের সৃষ্টি করলাম। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার ফাকে অনেক বই পড়ি, কেন জানি মনে হল সেই বইটা আবার পড়ি। তো পড়লাম এবং আবার কাঁদলাম। লেখকের লেখার যাদুতে নিজের যৌবনকালকে ফাঁকি দিয়ে আবার যেন সেই কিশোর পাঠক হয়ে গেলাম। কি জানি! এটাই হয়তো ভালো লেখকদের লেখার বৈশিষ্ট।

যাইহোক, গল্পটা তের বছরের এক ছন্নছাড়া বালক আরিফুল ইসলাম তপুর। শরীরের বিভিন্নস্থানে কাঁটা ঘায়ের দাগ, নোংরা কাপড়, উষ্কখুষ্ক চুল এগুলোই তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট। তার রাত্রি যাপন হয় তাদের বাসার রান্নাঘরের স্টোররুমে, খাওয়া-দাওয়াটাও সেখানেই। কোনো মতে টেনেটুনে আজ সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। নেই কোন বন্ধু-বান্ধব, আর পরিবারতো থেকেও নেই।
তপুর বর্তমানটা এমন হলেও অতিতটা কিন্তু মোটেও এমন ছিল না। এক সময় তপু ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিল। পরিবারের সকলের আদরের মধ্যমণি হয়ে থাকত সে। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় হটাৎ এক দুর্ঘটনায় তপুর বাবা মারা যায়। তার পর থেকেই প্রেক্ষাপট বদলে যায়। আসলে তপুর মা কখনও এই দুর্ঘটনা মেনে নিতে পারেনি। সে সমস্ত দায়ভার চাপায় তপুর ওপর। নানা রকম ভাবে নির্যাতন করতে থাকে তপুকে। তপুর শরীরে বিভিন্ন কাঁটা ঘায়ের উৎস এইসব নির্যাতনই। একসময় তপুর জীবনে প্রিয়াঙ্কা নামের এক কিশোরীর আগমন হয়। প্রেক্ষাপট আবার বদলাতে থাকে। তপু আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, আবার জীবনকে ভালবাসতে শুরু করে, আবার দৌড়তে শুরু করে।
গল্পে প্রিয়াঙ্কা নামক কিশোর মেয়েটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র বহন করেছে। লেখক তার চরিত্রে চাঞ্চল্যতার সাথে সাথে উদারপনা ও বুদ্ধিমত্তা জাতীয় বৈশিষ্টাবলি ফুটিয়ে তুলেছেন।

লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের রচিত অন্যতম সেরা কিশোর উপন্যাস এই ‘আমি তপু’। এটি ২০০৫ সালের অমর একুশে বইমেলায় পার্ল পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়। লেখকের যতগুলো বই আমি ইহজীবনে শেষ করেছি তার মধ্যে এটিই আমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে হয়েছে। হয়তো খুব কম বই পাঠকই রয়েছে যারা এটি পড়েননি। যারা এখনও পড়েননি তারা খুব বড় কিছুই মিস করছেন। সময় নিয়ে পড়ে ফেলুন অসাধারণ এই বইটি। হতাশ হবেন না, কথা দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×