somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প নাকি সত্যিই?

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৫:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ঘুমটাই ভেঙ্গে গেল। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি মাত্র সিরাজগঞ্জ। রাতে টেনশনে ঘুমাতেই পারিনি, সকালে উঠতে পারব কিনা এ ভয়ে। যে ছেলেটার প্রতিদিন সকাল হয় দুপুর ১ টায়, সে যদি একদিন ভোর ৬ টায় ওঠে তাহলে মহাভারত অশুদ্ধ না হলেও একটুখানি ভুল তো হবেই। সকাল ৭.৩০ এ বাস। জীবনের সব কিছু মিস করা যাবে, কিন্তু এই বাস মিস করা অসম্ভব। গত ১৮ দিন থেকে অপেক্ষা করছি আজকের জন্য। ১৮ দিন দেখিনা সেই মানুষটিকে, নিজের স্বপ্নদেবী কে। আজ স্বপ্ন পাশে বসিয়ে পারি দিব শত কিলোমিটার।

পাশের মানুষটির দিকে তাকালাম। তখনও ঘুমাচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করা জিনিস হল, সে নিদ্রাদেবীর কোলে নয়, আমার কাধে। জানি ও ইচ্ছা করে দেয়নি, কিন্তু ওর অনিচ্ছাই আমার শত বছরের ইচ্ছা পূরণ করে দিয়েছে। জানালার ফাক গলিয়ে তপ্ত রোদ বার বার ওর শরীর, মুখমণ্ডল ছুয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। বার বার জানালার পর্দা দিয়ে চেষ্টা করছি রৌদ্রের উত্তাপ থেকে তাকে আগলে রাখার। কখনও বা পর্দা টেনে দিয়ে, কখন বা নিজেই পর্দা হয়ে যতটা সম্ভব ওর ঘুম না ভাঙ্গিয়ে। লোকে বলে মেয়েদের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখা যায় স্নান করার পর, আমি মনে করি কথাটা ভুল। আমি তাকে স্নান করার পর কোনদিনও দেখিনি, সে সুযোগও হয়নি। কিন্তু আমার মনে হয়, যখন সে আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল, সে সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করার মত পৃথিবীর কোন তুলনীয় বস্তুই নেই।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পার্থিব’ বইটা তখনও আমার হাতে। বইটা এর পরেও পড়তে পারব। কিন্তু ওকে তো এত কাছ থেকে আর কবে দেখব কে জানে। দুর্দমনীয় বাতাস বারবার ওর অবাধ্য চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। কখনও স্পর্শ করছে ওর ঠোঁট, কখনওবা ওর চিবুক, ওর গাল , কখনওবা আমায়। আমায় স্পর্শ করে চুলগুলো বারবার অনুরোধ করছে তাদের আগলে রাখতে। কিন্তু আমার তাদের স্পর্শ করার সে সাহস নেই। যদি ওর ঘুম ভেঙ্গে যায়...

পাশে বসা মেয়েটিকে যে কবে থেকে ভালবাসা শুরু করেছি নিজেও জানি না। কিভাবে কিভাবে জানি হয়েই গেল। ওর চোখগুলো কেমন জানি। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মত বারবার আমাকে টেনে নিয়ে আসে। আজ সকালে যখন ওকে দেখি, প্রথমেই দেখেছিলাম ওর ওই চোখ দুটোর দিকে। কাজল দেয়া ওই চোখ দুটো। ইসস, ওই চোখ দুটো দেখার জন্য আমার চোখে যে কত রাত ঘুম আসেনি সেটা যদি বলতে পারতাম। আমি আসলেই একটা গাধা, একটা বারের জন্যও বলতে পারিনি তোমার চোখ দুটো কে কতটা সুন্দর লাগছে। এত মায়াবী চোখ মানুষের হতে পারে না। এত সুন্দর কেন তোমার চোখ। স্বপ্নের মত, অথৈ সাগরের মত । অথৈ সাগরের নাবিক আমি, তুমি ছাড়া আমি হয়ে যাই, একা- একাকী পথ হারা। হয় তুমি ভিন গ্রহের মানবী না হয় স্বর্গের দেবী।

ওর কানের দুল বারবার শিহরণ জাগিয়ে দিচ্ছে আমার কাধে। সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর মত তোমার ওই গোলাপি ঠোঁট আমার হৃদকম্পন বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে। তার হাত কখনও স্পর্শ করা হয়নি, হ্যা অসাবধানতা বশত দুই একবার লেগে গিয়েছে। কিন্তু সে স্পর্শে অসাবধানতাই ছিল, ইচ্ছা বা ভালবাসা কোনটাই ছিল না। চাইলে এখন হয়তো ধরতে পারতাম। কিন্তু ইচ্ছে হচ্ছিল না। কারণ, আমি ওর বিশ্বাস ভাঙ্গতে চাই না। হয়ত সে একদিন আমার হাত ধরে বলবে, ’শক্ত করে ধরো কারণ আমি জানি আমার হাত তুমি কোনদিনও ছাড়বেনা’। সত্যিই তোমাকে এতটা বিশ্বাস করি যেন তুমি আমার মন ভাঙ্গতে ভয় পাও, এতটাই ভালবাসি যেন তুমি আমাকে হারিয়ে ফেলতে না চাও।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:২৭
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×