somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহরে যানজট নাই.............................................

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফিরে যাই সেই শৈশবে যখন নবম শ্রেণীতে উঠলাম , তখন আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন সুরুজ স্যার নামধারী , তিনি বলতেন ক্লাশ নাইন এর ম্যাথেমেটিকস পড়ার জন্য বীজগণিতের সূত্রগুলো মুখস্থ করা অত্যন্ত জরুরি, তিনি সাথে সাথে এটা বলেও সতর্ক করে দিতেন যে আগামীকাল এই সূত্রগুলো না পারলে কঠিন শাস্তি হবে। নতুন বই ,নতুন পড়া ,সাথে সাথে আবার বড় ক্লাশে উঠেছি নতুন শিক্ষক, সব মিলিয়ে সবাই চাইত নিজের ইমেজ তথা স্যারের কাছে ভালো হওয়ার এই অপূর্ব সুযোগ যাতে হাতছাড়া না হয় । সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে রাত জেগে সূত্র মুখস্থ করা, সকালে ঠান্ডা মাথায় সূত্র রিভিশন দেয়া,পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখা ইত্যাদি আরও নানা অভিনব পদ্ধতি অবলম্বনের পরও যখন দিনের পর দিন স্যারের পিটুনি,কানমলা,কান ধরে উঠ বস করাসহ আরো নানা রকম শাস্তি ভাগ্যে থাকে তখন একদিন স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে সূত্র মনে রাখা যায় ? স্যার উত্তর দিলেন এভাবে, “ওয়ালে ,দেয়ালে ,কপালে যেখানেই রাখা হোক না কেন যদি ম্যাথ প্র্যাকটিস না কর তা হলে সূত্র মনে থাকবে না” এবার আসি শৈশব রেখে যৌবনে যখন কলেজে এসে ঢাকা ভর্তি হলাম তখন থেকেই জ্যাম এর জালায় অতিষ্ঠ । কখনও করণে আবার কখনও অকারণে জ্যামের সৃষ্টি হয় আমাদের প্রিয় ঢাকা শহরে ।কখনও রাজনৈতিক জনসভা ,কখনো গরুর হাট আবার কখনও শুক্রবারের নামাজের পর হুজুরদের মিছিল, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন ইত্যাদি জ্যামের কারণ হিসেবে সামনে এসে দাঁড়ায় । মিছিল মিটিং যেই দল বা যেই গোষ্ঠির মানুষ করুক না কেন তাতে আমার মত আম জনতার কখনও সুফল বয়ে আনে নাই ,আনে না ,আনবে না। সুতরাং ঢাকা শহর ও যানজট যেন এক সূত্রে গাথা ,যতদিন ঢাকা শহর ততদিন যানজট !!!!! আমাদের দেশের বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাশীন নানা দল হাজার ও চেষ্টা করে যানজট নিরসনের । এর অংশ হিসেবে আন্ডারপাস, ওভারপাস , ফ্লাইওভার দিয়ে যানজট নিরসনের চেষ্টা ইতিমধ্যে ভেস্তে গেলেও মেট্রোরেল সমস্যার সমাধানে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিবে বলে আমরা আশাবাদী । কিন্তু ঢাকা শহরের যে অবস্থা তাতে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের কথার মত কিছুতেই কোন কাজ হবে না যদি না আমরা সচেতন হই । সচেতনতা কিভাবে গড়ে তোলা যায় ?? আমার ছোট্ট মাথায় ক্ষুদ্র চিন্তা একটু আধটু করেছি , সেটা হতে পারে আইন করে অথবা নিষিদ্ধ করে , অথবা অমার্জনীয় শাস্তির বিধান রেখে ,যেমন-
১। কোন পরিবারের কেউ নিজস্ব গাড়িতে চড়তে পারবে না , ঢাকা শহরের সকল বাস হবে পাবলিক সার্ভিস , এখানে প্রথম, দ্বিতীয় শ্রেণী থাকতে পারে ,যদিও না থাকাই ভালো ,তুমি কে আমি কে বাঙলী , বাঙলী ।
২। সকল স্কুল কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের দো-তলা বাস থাকা বাধ্যতামুলক , থাকবে শিক্ষক, কর্মকর্তা,কর্মচারি ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যাতায়াতের জন্য একই বাস ব্যবহার করতে হবে ( আরে ভাই ওই ছাত্র-ছাত্রীরা,কর্মচারিরা তো আমাদের আপনজন,তবে কেন এত ভাগাভাগি???)
৩।দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারির যাতায়াতের জন্য নিজস্ব দো-তলা বাস থাকা বাধ্যতামুলক । অফিসের মালিকের জন্য আলাদা গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না , মালিক ও শ্রমিক একই বাসে চলার অভ্যাস গড়ে উঠলে শ্রমিক বিদ্রোহ অনেকাংশে কমে যাবে ।
৪। বাংলাদেশের সকল সচিব,পার্লামেন্ট মেম্বার ,প্রতিমন্ত্রী , মন্ত্রী, হুইপ,বিরোধী দলীয় নেতাদের জন্য বাস সার্ভিস থাকবে , এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও যদি পাবলিক সার্ভিসে চড়েন তাহলে আর কেউ এই আইন ভাঙার চেষ্টাও করবেন না বলে আমার বিশ্বাস ।
এই ভাবে যদি দেশের আইনটাকে সাজানো ও মানা যেত তাহলে মনে হয় ঢাকা শহরের যানজট নিরসন হত । এই যানজট নিরসন করার জন্য আর আমাদের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে হত না । আমি ছোট মানুষ এটা আমার চিন্তা, এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত ,ভুল হলে আমি ছোট হিসেবে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে চির কৃতজ্ঞ থাকব আপনাদের কাছে , ভাইয়া,আপু,চাচা,আন্টিরা ।(উৎসঃ নিত্যদিনের যানজটের তীব্র কষ্ট থেকে প্রাপ্ত অনুভূতি থেকে পাওয়া ।)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×