somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

justine the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়কাল (১৭৪০-১৮১৪)
বিতর্কিত চরিত্র,কন্ডে এলাকার রাজ পরিবারের একজন
সাধারণ চিন্তাধারার বাইরে তার লেখাগুলোয় বিকৃত মনোভাব,দুঃখবাদী
justine the misfortunes of virtue,Juliette,120 days of Sodom,The crimes of love ছাড়াও অন্যান্য


জাষ্টিন আর জুলিয়েট

জুলিয়েট আর জাষ্টিন,যদিও দুই বোন-তবে একজনের সাথে আরেকজনের মিল ছিল না কোথাও।বড় বোন জুলিয়েট,ষোল পৌঁছায় নি তখনও,তবে চাল চলনে কুটবুদ্ধিতে যেন তিরিশ ছাড়িয়ে গেছে।তা ছাড়াও উন্নাসিকতায়,অযথাই মানুষকে অবজ্ঞা করার অভ্যাস,ছিল তার বয়সের সাথে একেবারেই বেমানান।ভরাট শরীর,হরিণ চোখে পুরুষদের প্রলুদ্ধ করার কোন কিছুই অজানা ছিল না তার।আর্বকজন জাষ্টিন,বয়সে জুলিয়েটের বছর দুয়েক ছোট, ভদ্র,নম্র,বিনয়ী-বিপরীত মেরুর এক চেহারা।জুলিয়েট যেমন স্বার্থপর, কুটিল, আর্দশ যার কাছে ছিল অজানা,অচেনা এক দেশ,জাষ্টিন সেখানে সাধারণ,সরল এক মেয়ে,আর জীবনের ওঠা নামায় সরলতাই তাকে নিয়ে যেত হতাশা,হাহুতাশের রাজ্যে।
বেশ প্রতিপত্তিশালী পরিবারে জন্ম তাদের,বাবা প্যারিসের ছোটখাট এক ব্যাঙ্কের মালিক।প্যারিসের বেশ নামকরা স্কুলেই পড়াশোনা করতো দুজনেই,এমন কি স্কুলের বাইরে ঘরে মাষ্টার,পোষাক আষাক,কোন দিকে কোন টানাপোড়েনের মুখ দেখেনি তারা।
আচমকাই একসময় সব কিছু হারিয়ে গেল তাদের পৃথিবী থেকে,জোচ্চুরির দায়ে বাবা গেল জেলে,পরিবার তখন কর্পদকশুন্য,হতাশায়,আত্মগ্লানিতে বাবা জেলে আত্মহত্যা করলো।মাও মারা গেল স্বামীর শোকে,সাংসারিক কষ্টে।এক সময়ের বন্ধুবান্ধব,আত্মীয়স্বজন অভাব ছিল না যাদের চারপাশে,ঐ দুঃসময়ে কেউ ছিল না কোথাও।মামা,চাচা কেউই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল না,পৃথিবীর অলিগলি জানা নেই দুজন ক্মবয়সী মেয়ে মাথায় হাত দিয়ে নিজেদের ভাগ্য খুঁজছিল।
স্বাধীন চেতা জুলিয়েটের চিন্রাধারা ছিল অন্যরকমের,বাবার সংসারের কঠোর শেকল থেকে মুক্তির আকাশই,চিল তার স্বপ্নের দেশ।অজানা,অচেনা নিষ্ঠুর পৃথিবীর কোন ভয় ছিল না তার,বরং নতুন পাওয়া স্বাধীনতায় আনন্দে উন্মাদ হয়ে ছিল সে।জুলিয়েট খুঁজে পেল মুক্তির স্বাদ,বাবার সংসারের চার দেয়ালে যে শরীরের আনন্দ খোঁজার সুযোগ হয়নি তার,সেটা ছিল তার হাতের মুঠোয়।
অন্যদিকে বদলে যাওয়া নতুন পৃথিবীতে জাষ্টিন তখন হতাশার আরেক নতুন মুখ,জুলিয়েট বোনকে জড়িয়ে ধরে সাহস জোগানোর জন্যে চেষ্টা করতো।জুলিয়েট জাষ্টিনকে বুঝিয়ে বললো, ‘আমরা এখন স্বাধীন,পৃথিবী আমাদের হাতে,হতাশ হওয়ার কিছু নাই।যৌবনের শরীরে পুরুষের পৃথিবীতে কোন কিছুরই অভাব হবে না ভয়,পাওয়ার হতাশ হোয়ার কিছু নাই।শরীর,আনন্দের এ সব বাধ্যবাধকতা,বিয়ের বাঁধন,ও সব বুড়ো পুরোহিতদের সাজানো গল্প।সব পুরুষদের সাজানো খেলা,বিয়ের বাঁধনে মেয়েরা বরং নিজেরা জড়িয়ে যায় সমাজের চার দেয়ালে?তার চেয়ে শরীর বিক্রি করে স্বাধীন হওয়ায় আনন্দও আছে,আছে টাকাপয়সা।স্বাধীনতা টাকাপয়সা,আন্নদ আর কি চাই,কারও কাছে হাত বাড়িয়ে হতাশায় ভাসতে হবে না’।
জাষ্টিনের কাছে এ ধরণের চিন্তাধারা ছিল শুধু অস্বাভাবিক না,ঘৃণ্য,নিজেকে ও ভাবে বিক্রি করার চেয়ে বরং মৃত্যুই ছিল তার কাম্য।আর যে বোন এ ধরণের মানসিকতা নিয়ে দিন কাটাতে চায়,তার সাথে জাষ্টিনের আর কোন ভাবেই থাকা সম্ভব ছিল না।জুলিয়েট যার স্বপ্ন,শরীরের আনন্দ,প্রতিপত্তি, কি ভাবে তার পক্ষে থাকা সম্ভব ঐ দুর্বল মনের জাষ্টিনের সাথে।আর জাষ্টিনও ভাবতে পারছিল না,বারবনিতার মত একজন জুলিয়েট তার বোন হতে পারে?দু বোনের চিন্তাধারা এতই বিপরীত,দুজনে চলে গেল বেঁচে থাকা পৃথিবীর দুদিকে।

জীবন যুদ্ধ
জাষ্টিন আরও একা হয়ে গেছে,বোন জুলিয়েট আর কাছে নাই,একাকীত্বের কালো মেঘে ঢাকা তার জীবন আকাশ।পরিতক্ত,আশ্রয়হীন জাষ্টিনের কোন উপায় ছিল না,কারও কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া।জাষ্টিন কার কাছে যাবে,কে তাকে হাত এগিয়ে দিবে?তার মনে পড়লো মায়ের পোষাক তৈরি করা এক মহিলার কথা,খুবই আদর করতো তাদের,নিশ্চয় এই দুঃখ হতাশার দিনে নিশ্চয় তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেবে না।তবে হতাশার সাথে ছু্টে আসে আরও হ্তাশা,দরজা থেকেই জাষ্টিনকে ফিরিয়ে দিল সেই মহিলা,কারও দুঃখের কাহিনী শোনার সময় ছিল না তার।
জাষ্টিন ভাবছিল,‘হায় বিধাতা,এই কি পৃথিবী?এখানে কি শুধু মানুষ পাশে দাঁড়ায় শুধু তার প্রতিপত্তি, অবস্থানের জন্য’?শেষ আশ্রয় মনে করে সে ছুটে গেল,বাবার পরিচিত স্থানীয় মেয়রের কাছে।গায়ে সাদা এক ফ্রক,খোলা চুল এলানো কাঁধে,গলার আশেপাশে,কাপড়ের ফাঁকে উকি দিচ্ছিল তার স্তন।মনের হতাশার ছাপ তার চোখে মুখে,চোখের কোনের ক ফোঁটা কান্নায় আরও বিষন্ন মনে হচ্ছিল তাকে।বাবার রাজনীতিবিদ বন্ধুকে সবকিছুই খুলে বললো জাষ্টিন,‘কি বলবো আমার দুঃখের কথা!হয়তো সব কিছুই আপনার জানা,বাবা মা দুজনকেই হারালাম এই কদিনে,যখন আমার সবচেয়ে বেশী দরকার তাদের,তখনই তারা আর আমার পাশে নাই।শুধু তাই না আমরা এখন কর্পদকশুন্য,এক বেলা খাওয়ার পয়সা নাই আমাদের হাতে…এই কটা টাকা’,হাতের মুঠোর টাকা দেখালো জাষ্টিন।
‘কপ্তহায় যে রাত কাটাবো সেটাও জানি না,মাথা গোঁজার ছাদ,দুটো খাবার,কিছুই নাই আমার কাছে,যদি একটু দয়া করেন।আপনার একটু দয়ায় আমার অনেক উপকার হবে,আপনি শুধু আমার বাবার বন্ধু না,সবাই আপনাকে দুঃখীদের বন্ধু হিসাবইও জানে।ঈশ্বরের নামে আপনাকে হাত জোড় করে বলছি,বলে দেন কি করবো আমি,কোথায় যাব আমি’?
‘দেখ এ ধরণের সাহায্য দেয়ার মত অবস্থা এখন আমার আর নাই,দুঃখীজনে ভঁরে গেছে আমাদের চারপাশ।তবে যদি কাজ করতে চাও,তাতে দুটো রুটি আর মাথা গোজার অসুবিধা হবে না’,বলে রাজনীতিবিদ তার মুখ তুলে একটা চুমু দিল ঠোঁটে,জাষ্টিনের মনে হলো কোন সরলতা ছিল না,ছিল শরীরের ডাক।
‘আমি তো ভিক্ষা চাইনি,কোন কাজও চাইনি,শুধু বলছিলাম আপনার অভিজ্ঞতায়,যোগাযোগে যদি কোন উপায় থাকে,যাতে আমার একটা ব্যাবস্থা হয়।এখন মনে হচ্ছে আপনার পরামর্শের দামটা নিষ্ঠুরতার আরেক চেহারা’।
ক্ষেপে গেল রাজনীতিবিদ,কাজের লোককে বললো,জাষ্টিনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে।কোন কুল কিনারা না পেয়ে,হতাশ মেয়েটা একটা বোডিং এ সাময়িক আশ্রয় নিল,ঘর ভাড়া নিয়ে নিজের ভাগ্যের হিসেব করা ছাড়া আর কোন উপায় কোথায়?কি করবে জানা ছিল না তার,শুধু চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাস।বাবার রেখে দেয়া টাকাপয়সা শেষ হতে খুব একটা সময় লাগেনি,ধীরে ধীরে হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছিল,জাষ্টিন।
জীবনের এ পর্বে কুপ্রস্তাব,তিরস্কার কম সহ্য করেনি জাষ্টিন,তবে শহরের বেশ ধনী একজন,ডুবর্গের ব্যাবহার, প্রস্তাব ছিল একেবারেই অবিশ্বাস্য।বোডিং এর মালিক মহিলার কথায় জাষ্টিন ডুবর্গের বাসায় কাজের জন্যে গেল,কয়েক ঘন্টা বসে থাকার পর শেষমেষ ডুবর্গ সাহেব তাকে ভেতরে ঢেকে পাঠালো।গায়ে রাতের পোষাক এলোমেলো শরীরের খোলামেলা চেহারায়,ডুবর্গ জানতে চাইলো,কি করতে পারে সে জাষ্টিনের জন্যে।
‘আমি অনাথ,গরীব,পনের পেরোলাম কদিন আগে,দারিদ্রতা আর ভাগ্যের পরিহাসে বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে গেছে।যদি একটু দয়া কর্রেন…আপনার হাতে পায়ে ধর্রছি…একটু দয়া করলে,অনেক উপকার হবে আমার’। এক এক করে জাষ্টিন বললো তাকে,তার জীবন পর্ব,বাবার আত্মহত্যা,মায়ের মৃত্যু,কর্পদক শুন্য জীবন,পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা,কোন কিছুই বাদ পড়েনি।বাবা মার আদরে গড়ে ওঠায় পরিশ্রমের কোন কাজে সে কুলিয়ে উঠতে পারবে না,আশা যদি ডুবর্গ সাহেব সাহায্য করে।
ডুবর্গ জিজ্ঞাসা করলো, ‘তোমার কোন বদনাম নেই নিশ্চয়?কোন ফষ্টিনষ্টি করে বেড়াওনি!’
‘তাই যদি হতো,তা হলে আমার এই করুন অবস্থা হতো না নিশ্চয়’?
‘তোমার মত মেয়ে কে দিয়ে বাড়ীর কোন কাজ তো আর হবে না,যা বয়স তাতে বাইরেও কাজ পাবে বলে মনে হয় না।শোন,আমার উপদেশ তোমার জন্যে ভাল হবে যদি শরীর ব্যাবহার করে কোন কিছু করতে পার,পুরুষের মন তুষ্টি করতে পারলে শুধু তোমার সমস্যার সমাধান ছাড়াও অনেক কিছু হবে।শরীরের চমক ব্যাবহার করে একজন পুরুষ জোগাড় কর,অযথার এই সততার অহংকার পুরুষদের জগতে শুধু অকেজো না,অপচ্ছন্দেরও।পুরুষের এই পৃথিবীতে আছে শুধু হিসেব,আর শরীরের আনন্দ,উচ্ছাস।লাভ আমরা খুঁজি মেয়েদের সতীত্বে,যা বাজারে অমুল্যবান।মেয়েদের সহযোগীতা আমাদের কাছে আনন্দের উৎস,কিন্ত ঐ যে সতীত্বের বহর সেটা পুরুষদের খুবি অপচ্ছন্দের?এই যে আমার মত আর যারা আছে আমাদের দেয়ার সাথে যোগ করা আছে পাওয়ার আনন্দ।তোমার মত কমবয়সী একটা মেয়ে কিবা করতে পারে আমার জন্য’?
‘আপনি কি বলতে চান,এই পৃথিবীতে দয়া,সহায়তা,সহানুভুতির কোন অস্তিত্ব আর নাই’?
‘যদি থাকে সেটা খুঁজে পাওয়া মুশকিল,তবে যা কিছু শোনা যায়,ও শুধু কথার কথা।মানুষ জানে দয়া আর কিছু না,অহংকারের আরেক চেহারা।যেমন তোমার মত যৌবন জোয়ারের মেয়েদের কাছে পুরুষেরা খুঁজবে শরীর আনন্দ,সাহায্যের হাত খুঁজে পাবে না কোথাও।তুমি বিশ্বাস করো বা না করো,সাহায্যের হাতটাও জড়িয়ে আছে শরীর আনন্দের ছোঁয়ায়’।
‘হয়তো বা,তবে এ ধরণের আদর্শে আর কিছু না হোক র্দুভাগাদের কোন জায়গা নেই আর এ পৃথিবীতে।শুধু থাকবে সৌভাগ্যবান আর প্রতিপত্তিশালীরা’।
‘হয়তো তোমার কথাই ঠিক,তবে র্দুভাগাদের সংখ্যার অভাব কোথায়,আছে সবস্ময় আশেপাশে।কি যায় আসে এ ধরণের মানুষের সংখ্যা বাড়লো না কমলো’?
‘আপনার কি মনে হয়,ছেলেমেয়েরা বাবা মাকে সম্মান করবে আপনার ঐ পৃথিবীতে?তারাও বসে যাবে লাভ লোকসানে,মানবিকতা,অসুস্থ,দুর্ব্লদের কি মেরে ফেলতে হবে,ওদের বাঁচার অয়াধিকার কোথায়’?
‘বাবা মাকে যদি ছেলেমেয়েরা অসম্মানই করে,তাতে কোন মহাভারত অশুধ্য হয়ে যাবে?সবলেরা বেঁচে থাকবে,সে যে ভাবেই হোক’।
‘ও ধরণের শিশুদের বাবা মায়ের দোলনায় গলা টিপে মেরে ফেলা উচিত’।
‘তুমি ঠিকই বলছো।শিশুদের জন্মের পরে ফেলার নিয়ম অনেক জাতির মধ্যেই ছিল,এখনও আছে হয়তো বা। গ্রীস যাকে আমরা সভ্যতার জন্মভুমি বলে জানি,আর চীন যাদের চিন্তাধারার বিপ্লব আজও আমাদের মুগ্ধ করে,ঐ সব দেশে এক সময় দুর্বল অসুস্থ শিশূদের জন্মের সাথে সাথেই মেরে ফেলতো,আর অসুস্থ শিশুদের বাচিয়ে রাখার এটা তো শুধু লোক দেখানো সহানুভুতির রাজ্য।তুমিই বল কি অধিকার আছে ঐ অসুস্থ, দুর্বলদের সমাজকে বিপদে ফেলার?এমনিতেই হতাশ,দুর্বলে জর্জিত হয়ে আছে আমাদের সমাজ।এ সব কথা হয়তো আমি তোমাকে ঠিকমত বোঝাতে পারিনি,ভেবে দেখ অভিযোগ করে কি লাভ,তোমার হাতেই আছে ভব্যিষতের চাবিকাঠি,পারলে খুঁজে নাও’।
‘আপনার ওই হিসেবের সৌভাগ্যের জন্যে,আমার সবকিছু বির্সজন দিতে হবে,তুলে দিতে আমার যৌবন,কুমারীত্ব,কারো আনন্দে,আম্র ইহকাল,ঈশ্বর বিশ্বাস কটা টাকার জন্যে,এটাই কি সমাজের বিচার?মনুষ্যত্ব বলে কি কিছু নেই কোথাও,আমরা কি সবাই পশু হয়ে গেছি’?
‘তোমার ঐ বির্সজন,কিইবা তার মুল্য,এ শুধু গর্ব আর অন্ধ সামাজিক বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু না।যদি রাজী হও,সুযোগ করে দিতে পারি,না হলে অযথা বিরক্ত না করে বের হয়ে যাও।আমি ভিখারীদের একেবারেই অপচ্ছন্দ করি,কান্না ছুঁড়ে নিজেকে নিজের হাতে তুলে নাও’।
জাষ্টিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল তবুও,তার কান্নায় ডুর্বগ আরও রেগে তার সার্টের কলার ধরে তাকে বাড়ী থেকে বের করে দিচ্ছিল।হঠাৎ ঐ দুর্বল,হতাশ জাষ্টিন,রেগে ডুর্বগের হাত থেকে নিজেকে সরিয়ে বললো, ‘জানোয়ার…মানুষ নামের যোগ্য না তুমি…ঈশ্বর তোমাকে নিশ্চয় শাস্তি দিবে…তুমি এই পৃথিবীতে থাকার যোগ্য না’।
ছুটে গিয়েই জাষ্টিন বাড়ীওয়ালীকে সবকিছু খুলে বললো,অবাক হলো বাড়ীওয়ালী সহানুভুতির বদলে যখন গালাগালি আরম্ভ করলো।
‘তুমি একটা গাধা,তুমি কি মনে কর পুরুষেরা বসে আছে জন্যে সাহায্যের ভান্ডার নিয়ে,শুধু তোমার মিষ্টি মুখ,ভরাট শরীরে ওরা খুঁজে পাবে আকাশ ছোঁয়া আনন্দ।আমি যদি ডুর্বগ হতাম,কোন ভাবেই তোমাকে ছেড়ে দিতাম না,আমার ইচ্ছা পুরন না করে।নিঃসন্দেহে বলা যায় ডুর্বগ সত্যিই একজন খুব ভাল মানুষ।আমি এত চেষ্টা করে তোমার জন্যে একটা সুযোগ করে দিলাম,তার সদব্যাবহার করলে না।যাকগে,আমার কি যায় আসে,বাকী পাওনা মিটিয়ে দাও,না হয় জেলে যাবে’।
জাষ্টিন হাত জোড় করে বললো, ‘এত নিষ্ঠুর হবেন না,একটু দয়া করেন।আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেছি,বেচে থাকার কোন অধিকার নাই আমার’।
‘দয়া…ঠিকই বললে দয়া…তবে দয়ায় কি আমার পেট পুরবে।তুমিই বল পৃথিবীর দায়িত্ব কি আমার’?
‘বলে দেন,কি করবো আমি’?
‘শোন ডুর্বগের কাছে ফিরে যাও,আমি তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলবো।ডুর্বগকে যে ভাবে পার খুশী করার চেষ্টা করবে।তোমার,আমার দুজনেরই টাকা পয়সার সংস্থান হবে,হারালো না হয় তোমার এই সম্ভ্রান্ত চেহারা।আর শরীর নিয়ে যা ভাবছো ও তোমার মনের কুসংষ্কার,শরীর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে না,শুধু কিছু সময়ের পুরুষের আনন্দের খোরাক জোগাঁচ্ছে’।
নিরাশ,হতাশ জাষ্টিনের বাড়ীওয়ালীর কথায় রাজী হওয়া ছাড়া আর কিইবা করার ছিল?বাড়ীওয়ালীকে সে অনুরোধ করলো,ডুর্বগ সাহেবকে আবার সবকিছু বুঝিয়ে বলার জন্যে।বাড়ীওয়ালী ফিরে এবললো,‘বেশ রেগে ছিল ডুর্বগ সাহেব,অনেক বোঝানোর পরও তোমার সাথে আবার দেখা করতে রাজী হচ্ছিল না,আমি অনেক কাকুতি মিনতি করায় আগামীকাল সকাল বেলায় শেষ প্ররযন্ত কিছু স্ময় দিতে রাজী হলো,আর যাই ক্র এবার একটু বুঝে সুঝে কাজ করো’।
‘জান,ডুর্বগ সাহেব বলছিল,“অবিশ্বাস্য,আমি একজনের উপকার করতে চাচ্ছি,আর সেই মানুষটাই আমার সাথে এত খারাপ ব্যাবহার করছে”।
বাড়ীওয়ালী জাষ্টিনকে আবার কি করতে হবে না করতে হবে বুঝিয়ে দিল,বলে দিল,সে যেন ভুলে না যায় এটাই তার শেষ সুযোগ।পর দিন সকালে জাষ্টিন,ডুর্বগ সাহেবের বাড়ী গিয়ে দেখে,আর কেউ নাই বাড়ীতে, ডুর্বগ সাহেব নিজেই তাকে ভেতরে নিয়ে গেলেও,ব্যাবহারে ছিল না কোন উচ্ছাস,উষ্ণতা।
কর্কশ স্বরে ডুর্বগ সাহেব আরম্ভ করলো, ‘দেখ তোমার সাথে আর দেখা করার ইচ্ছা ছিল না,তবে তোমার বাড়ীওয়ালীর কাকুতি মিনতি উপেক্ষা করতে পারিনি,তাই তোমাকে বাড়িতে ঢুকতে দিলাম।যাকগে কাপড়চপড় খুলে ফেল,যদি কোন রকম ঝামেলা কর,জানি না কি থেকে কি করে ফেলবো’।
জাষ্টিন শেষ চেষ্টায় ডুর্বগের পা জড়িয়ে বললো, ‘এ শরীর আমার শেষ সম্বল,দোহাই আপনার দয়া করেন।আপনার সুনাম চারপাশে,আমার সব কিছু কেড়ে নিবেন না।এই কুমারীত্ব,চরিত্রের জন্যে হাজার বার মরতে রাজী আমি…দোহাই…দোহাই আপনার অত নিষ্ঠুর হবেন না।কারও কান্না,দুঃখে কি আনন্দই বা খুঁজে পাবেন?কি আনন্দ আছে সেখানে,যেখানে আরেকজনের মনে আছে শুধুই ঘৃনা…আপনার এই শরীর খেলার আনন্দ শেষ হওয়ার পর,হয়তো আপনার শুধু অনুশোচনাই হবে’।
জাষ্টিনের কান্না,হতাশা যেন কুবের ডুর্বগের কামনায় আরও কয়েকগুন ঘি ঢেলে দিল,সবকিছু নিয়ে এগিয়ে গেল,ডুর্বগ।কোন নৈতিকতা,অনুরোধের উর্ধে তখন ডুর্বগ,তার চাই জাষ্টিন,চাই জাষ্টিনের নিষিদ্ধ রাজ্য।নিজের শরীর আনন্দ খুঁজতে জাষ্টিনকে কিল ঘুষি মারতেও দ্বিধা হয়নি তার।ডুর্বগের শারীরিক শক্তির কাছে আত্মসর্মপন করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না,জাষ্টিনের।যদিও বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়লো ডুর্বগ,তবে উচ্ছাসের মাত্রা খুব সহজেই কিছু সময়ে নিস্তেজ হয়ে গেল।আরও মারধর করলো সে জাষ্টিনকে,তার শারিরিক ঐ হতাশার কারণ আর কিছু না,নিঃসন্দেহে জাষ্টিনের অসহযোগীতা,যুদ্ধ।
স্বপ্নের সেই আনন্দ আকাশ না পেয়ে,ডুর্বগ আবার জাষ্টিনকে জড়িয়ে আবার নতুন করে শরীর খেলায় ভেসে যেতে চাইলেও,ব্যার্থ হলো,মন চাইছিল ঠিকই তবে শরীর যোগ দিল না তার সাথে।জাষ্টিনকে বলে দিল ডুর্বগ সে অপেক্ষা করবে,কাল জাষ্টিনের জন্যে।অল্প কটা টাকা দিয়ে বললো,আগামীকাল ফিরে আসলে মোটা ধরণের একটা অংক অপেক্কা করবে তার জন্যে।
জাষ্টিনঘরে ফিরে,প্রতিজ্ঞা করলো আর কোনদিন দেখা করবে না ঐ পিশাচ পুরুষটার সাথে,আর যত ধরণের অভিশাপে অভিশপ্ত করা সম্ভব,কোনটাই বাদ পড়লো না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।

ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×