somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষা পেলাম মানবতার!!

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাপা একটা কেক কিনে দাওনা

না,কেক খেলে দাঁতে পোকা হবে

না না হবেনা তুমি তারাতারি কিনে দাওনা,নাহলে কাকুটা চলে যাবেতো,তাহলে আর পাবো না।

দাদা,একটা কেক দিন..

হকারটির হাত থেকে কেক নিয়ে বাচ্চাটি ট্রেন থেকে নেমে এক দৌড়ে চলে গেলো প্লাট ফর্মের এক কোনায়। তারপর হাতের কেকটি তুলে দিল তারই সমবয়সি জ্বরাজীর্ন কঙ্কালসার অপর একটি বাচ্চার হাতে। তারপর একই ভাবে দৌড়ে এসে বসে পড়লো নিজের সিটে।

কামরায় উপস্থিত সবাই ততক্ষনে বিস্ময়ে হতবাক!!হতবাক হয়ে দাড়িয়ে আছে হকারটিও,সম্ভবত তার দীর্ঘ হকার জীবনে সে এই ধরনের দৃশ্য প্রথমবার দেখছে। আগে হয়তো সে শুধু দেখেছে রেল যাত্রীদের হাতে পথ শিশুদের হেনস্থা হতে মার খেতে রেল পুলিশের তাড়া খেতে।আজ সে দেখছে সম্পুর্ন ভিন্ন একটি দৃশ্য।হয়তে সে তার জীবনের অন্যতম একটি সুন্দর দৃশ্য দেখছে।তারপর সে তার কেকের বাক্স থেকে সম্ভবত সবথেকে দামি একটা কেক বার করে বাচ্চাটির হাতে দিয়ে,পাশের কামরার দিকে পা বাড়ালো। হকারটির ক্লান্তিময় মুখে একটি দৃস্টি নন্দন হাসি।যে হাসি হয়তো এক নিমেষে মন ভালো করে দিতে পারে একজন মুমুর্ষ ক্যান্সার রুগীর।

আমার সামনে বসে থাকা বছর সাতের বাচ্চাটির সাহসিকতা দেখে আমি বাকরুদ্ধ।পুর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও ব্যাস্ততম জনবহুল একটি রেল স্টেশন হাওড়া যেখানে বাঘা বাঘা মানুষ নিজেকে নেহাতই ছুঁচো মনে করে সেখানে এই বছর সাত আটের বাচ্চাটি কি অসিম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে একটি অভুক্ত পথ শিশু অবদি পৌছে দিলো কিছু খাবার।

সেই সাথে আমি বাচ্চাটির মহানুভবতা ও উদারতা দেখে নিজের প্রতি নিজে খুবই লজ্জিত,কারন ওই ক্ষুদার্থ পথ শিশুটিকে আমিও দেখেছিলাম,তবে ট্রেন ছেরে দেওয়ার বাহানা দিয়ে তাকে সাহায্য করিনি। হয়তো আমাদের কামরার অধিকাংশ মানুষ ওই পথ শিশুটিকে দেখেছিলেন,কিন্তু কোনোনা কোনো বাহানা দিয়ে নিজেকে ওই অসহায় শিশুটিকে সাহায্য করা থেকে বিরত রেখেছেন।

আমি সবসময় যে মানবতার কথা বলি আজ আমাকে সেই মানবতার শিক্ষা দিলেন একটি বছর সাতের বাচ্চা।

আসুন আমরা শিশুদের এই কোমলমতি নিস্পাপ মনটি রক্ষা করি। ধর্ম, জাত, সম্প্রদায় নামক যে বিষ আমরা পান করে শুরু করেছি নিজেদের মধ্যেই হানাহানি ভাগাভাগি,তা যেনো এই শিশুদের সাথে না করি।বরং তাদের পান করাই মানবতা ও মনুষত্য নামক অমৃত।যার দ্বারাই দুর হবে আমাদের সমাজের অন্ধকারচ্ছন্ন দূর্গন্ধময় পরিস্থিতি।

আসুন সেই সাথে পাশে দ্বারাই সেই সকল পথশিশুদের,যাাদের মাঝে হয়তো লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের মারাদোনা যে আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেবে,হয়তো লুকিয়ে আছে আইনস্টাইন,নিউটনের মতন বিজ্ঞানি যারা জ্ঞ্যানে প্রতিভায় আমাদের বসাবে বিশ্বের সর্ব্বোচ্চ শ্রেস্ট আসনটিতে। হয়তো তাদের মাঝেই আমরা খুঁজে পাবো আমাদের অবিসংবাদিত রাস্ট্রনায়ক শেখ মুজিবর রহমানকে।

আমরা কি পারিনা লিঙ্গাকৃতি পাথরে দুদ ঢেলে তা অপচয় না করে তা ঢেলে দিতে কোনো অন্ধ ভিক্ষুকের বাটিতে!!!

মাটির প্রতিমাকে স্বর্নালঙ্কারে সাজানোর নামে ঢং না করে সেই অর্থ দিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহি আর্থিক ভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থিদের সাহায্য করতে!!!

প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা নস্ট করে কথিত শয়তানকে পাথর মারতে সৌদি গিয়ে সৌদি রাজন্ত্রকে সোনার মার্সেডিজ কেনার তহবিল না জুগিয়ে।আমরা কি পারিনা সেই টাকা দিয়ে এতিম পথশিশুদের সুশিক্ষা ও সুসাস্থকর একটি পরিবেশ উপহার দিয়ে তাদের সমাজের মুল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে!!!!

প্রশ্ন রইলো আপনার বিবেকের কাছে..


মানবতাই হোক আমাদের ধর্ম, ভালোবাসাই হোক আমাদের ঈশ্বর/আল্লাহ
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৯
৬টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×