ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম... প্রথম ক্লাস নিচ্ছি। আমি কিছুই বুঝতেছি না। গিয়ে দেখলাম, মোটামুটি ভাবে তিন ভাগে বিভক্ত করা। যারা কিছুই পারে না, তাদের একটা......এই ভাবে শ্রেণীতে বিভক্ত।
যাই হক, আমিও কিছু পারিনা। তাই যারা কিছুই পারেনা ইচ্ছা করেই ওদের দলে ঢুকে গেলাম। প্রথম থেকেই খেয়াল করতেছিলাম, একটা মেয়ে ভারি দুষ্ট। এক যায়গায় স্থির থাকছেই না। ওকে পড়া শেখালাম, ভালোই লাগলো। এই দলে সবাই পিচ্চি পিচ্চি। খেয়াল করলাম, একটু না, ভালোই বড় একটা ছেলে। ও একটু একটু পড়া পারে। ওকে জিজ্ঞাস করলাম, তুই তো দেখি এখানে সবার চেয়ে বড়, শুনলাম তোমার ছোট বোন তোমার থেকে ভালো পড়া পারে। তাহলে, ঘটনা কি?
ও বলল, ভাইয়া আমি স্কুলের নাম করে বাইরে খেলা ধূলা করতাম। তাই আর আব্বা স্কুলে পাঠায় নাই। আমি ওর কথা শুনে মুস্কি হাসলাম। ও বলল, ভাইয়ে হাসেন কেন?
আমি বললাম, " ভাইয়ে মনে হচ্ছে তোমার মাঝে আমি আবার আমার শৈশব ফিরে পেলাম।" ও বলল, ভাইয়া, বুঝলাম না। আমি বললাম, ভালো করে পড়, একদিন আমার কথার মানে বুঝতে পারবে। তফাৎ শুধু তোমার আব্বা তোমার পড়া বন্ধ করে দিয়েছিল, আর আমার আব্বা আমার পাছা লাল করে আবার স্কুলে পাঠিয়েছিল।
স্কুল শেষ, সবাইকে লাইনে দাড় করানো হয়েছে, সবার নাম ডেকে খাতা দেয়া হবে। ওই দুষ্ট আর চঞ্চল মেয়েটা এইজন আপুর হাত ধরে বলল, আপু আপনার নাম কি? উনি বললেন শিলা। বলেই কাজে ফিরে গেলেন। তখন মেয়েটা সেই একটা নাচ দিয়ে গেয়ে উঠলো- " শিলা, শিলা কি......... ", আমি তো হাঁসতে হাঁসতে শেষ। মেয়ের মাথায় উপস্থিত বুদ্ধি দেখে আমি পুরাই অবাক।
জীবনে কখন কথায় কোন অবস্থায় নিজেকে আবার নতুন করে খুঁজে পাবো, আর কোথায় ছড়িয়ে আছে জীবনের টিকে থাকার রসদ "আনন্দ", বলা মুশকিল।
এই জন্যই হয়ত কবি বলেছিলেন-
যেখানে দেখিবে ছাই
উড়াইয়া দেখো তাই-
পাইলেও পাইতে পার, অমূল্য রতন।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


