আব্দুল করিমের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই কোমরের নিচের ভেজা কাপড় তাকে অপরাধী করে দেয়। আব্দুল করিম স্বপ্নে একটি নাম না জানা মেয়ের সাথে সহবাস করছিল। মেয়েটি কে ছিল মনে করার চেষ্টা করে খুব একটা সুবিধা হয় না।
জেলখানার একটা ছোট কামরায় সে উঠে বসে। খুব সাবধানে পাশের অন্ধকার থেকে একটা কাপড় নেয়। সে ভেবেছিল এই লুঙ্গিটা পড়েই ফাঁসি নিতে যাবে। হল না
আজকে আব্দুল করিমের ফাঁসি। যদিও জেলখানাতে আগে থেকে সঠিক সময় জানানো হয় না, তবু সে জেনেছে আর অপেক্ষা নয়। আজই সেই দিন।
সে পরনের নোংরা লুঙ্গিটা দলা পাকিয়ে অন্ধকারে অন্য কাপড়গুলোর নিচে ঢুকিয়ে রাখার চেষ্টা করল। এবং মনে মনে খুব লজ্জিত বোধ করল। ব্যাপারটা এম্নিতেই বেশ লজ্জার। তারউপর একটুপর ফাঁসি হবে এমন কারো স্বপ্নদোষ হলে এটা খুব স্বাভাবিক।
আব্দুল করিম অন্ধকারে চুপ করে অনেকটা সময় কাটিয়ে দেয়ার পর আবিষ্কার করল যে সে একটুপর মরে যাবে। অথচ লজ্জা ও অপরাধবোধ তাকে কষ্টও পেতে দিচ্ছে না। তার শুধু মনে হচ্ছে সকালবেলা গার্ডরা এই লুঙ্গি নিয়ে রসিকতা করবে। একজন আরেকজনের গায়ে হাসতে হাসতে পড়ে যাবে। ভাবতেই তার সারা গা কাঁটা দিয়ে উঠছে।
আচ্ছা ফাঁসি দেয়ার পর তারা কাপড়গুলো কি করে? মৃত মানুষের কাপড়, নিশ্চয়ই পুঁড়িয়ে ফেলে। তাকে নিতে আসলে আব্দুল করিম কি এটা জিজ্ঞেস করবে। না করাই ভালো বোধহয়। করলেই বরং সন্দেহ করতে পারে। কিছু ফাজিল গার্ড হয়ত আবার অতি উৎসাহী হয়ে কাপড়ে হাত দিবে।
এসব ভাবতে ভাবতেই আব্দুল করিম অন্ধকারে কারো আসার পায়ের শব্দ পেল। মৃত্যুচিন্তা নিয়ে ভাবার বদলে সে তখন অন্যরকম এক জটিলতায় ডুবে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




