somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাগগল্প: শিল্পী

১৮ ই মে, ২০১৭ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার আমাদের এক বন্ধুর মাথায় মাল উঠে গেলো। জানালো, সে শিল্প করবে। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সবসময়ই কারো না কারো সাথে এরকমটা হয় এবং এবার অনেকদিন ধরে কারো মাথায় নতুন করে মাল ওঠে নাই বলে আমরা ব্যাপারটা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই নিলাম এবং বিজ্ঞ ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম- হ্যাঁ, ওর শিল্পই করা উচিৎ।

শিল্প করার অংশ হিসেবে অচিরেই সে রঙ-তুলির বাজারে ঘোরাফেরা শুরু করলো এবং একটা সস্তা ক্যানভাস কিনে এনে ঘরে বসে ক্ষুধার্ত মানুষের ছবি আঁকতে লাগলো। আমরা সময় পেলেই ওর চিলেকোঠার ঘরটায় চলে যেতাম। সারা মেঝেতে ছড়িয়ে থাকতো ব্রাশ, কাগজ আর কেরোসিনের গন্ধ। আমরা আগ্রহ নিয়ে সেসব দেখতাম। ওর মা নিজের মন্দভাগ্যকে দোষারোপ করতে করতে আমাদের চা আর টোস্ট বিস্কিট খেতে দিতেন।

কিছুদিন পর জানতে পারলাম আমাদের বন্ধুটি এবার নতুন শিল্প করছে; কবিতা লিখছে। তার ঘরটি তখন এলোমেলো হলেও পরিচ্ছন্ন। তবে সেখানে গিয়ে আর তার খোঁজ পাওয়া যায় না। সে সকালে বেরিয়ে যায়, কাঁধে একটি চটের ব্যাগ নিয়ে সারাদিন পথে পথে ঘুরে। আর রাতের বেলা ছাদে বসে অদ্ভুত সব উপমা দিয়ে আরো অদ্ভুত সব কবিতা লিখে। সেসব পড়ে আমরা আড়ালে মুখ টিপে হাসি। একবার শুনলাম সে নাকি বই ছাপাবে। বইয়ের নাম 'মরণফাঁদ'। আমরা উৎসাহের সাথে মাথা নাড়লাম, বেশ খাসা হয়েছে নামটা।

তারপর বেশ কয়েক বছর পেরিয়ে গেছে। বন্ধুদের কারো সাথে ঐভাবে যোগাযোগ নেই। আমাদের সেই বন্ধুটির শিল্পেরও আর কোনো খোঁজ রাখা হয়নি। একদিন ছুটির দিনে ঘরে বসে পত্রিকা ওল্টাচ্ছি। হঠাৎ পত্রিকার পাতায় ওর ছবি দেখে চমকে উঠলাম। চেনাই যাচ্ছে না ওকে। বাঁ গালের উপর কাটা দাগটা না থাকলে চিনতাম কিনা কে জানে।

ছোট মেয়েটা কোলের উপর বসেছিলো। হঠাৎ আমার এমন থমকে যাওয়া ওর চোখ এড়ালো না।
'উনি কে, বাবা?'
চুপ করে রইলাম। কখন যেন এক ফোঁটা নির্লজ্জ জল গড়িয়ে পড়লো পত্রিকার পাতায়- যেখানে পুলিশের গুলিতে আন্দোলনরত এক যুবকের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমার বন্ধুটির রক্তে ভেজা দেহের পাশেই পড়ে আছে প্ল্যাকার্ডটা। তার মতোই রক্তাক্ত। তাতে কালো কালিতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা- 'মানুষকে বাঁচতে দিন'।

ভীষণ কাঁপছিলো চারপাশ। আমি টুনটুনিকে আমার দুর্বল বুকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে অস্পষ্ট কণ্ঠে ফিসফিস করলাম, 'ও একজন শিল্পী। একেবারে জাতশিল্পী।'
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৭ রাত ১২:২৩
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×