
ভূমিকাঃ এখন আমি অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে হয়। বিশেষ করে ২০২০ সালের মহামারির পর থেকে প্রায় সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান সকল নিয়োগ, আবেদন কার্যক্রম অনলাইনে করতে হয়। শুধু চাকরির আবেদন নহে, পাসপোর্ট আবেদন, জাতীয় পরিচয় পত্র এর যাবতীয় কাজ সব অনলাইনে করা যায়।
আসল কথাঃ ঘটনাটি মনে হয় ২০১৫ বা ২০১৬ সালে। চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার জন্য গেলাম ইউনিয়ন পরিষদ এ।
ইউনিয়ন পরিষদে এক বাচ্চার মা এর সাথে কথা।
বাচ্চার মাঃ ভাই আপনি কি এই ফরমটা পূরন করে দিতে পারবেন?
আমিঃ কিসের ফরম?
বাচ্চার মাঃ আমার ছোট ছেলের জন্ম নিবন্ধন ফরম।
আমিঃ আপনার কয় সন্তান।
বাচ্চার মাঃ দুই সন্তান।
আমিঃ বড় ছেলে কি করে?
বাচ্চার মাঃ নবম শ্রেণীতে পড়ে।
আমিঃ এখন আপনার বড় ছেলে কই?
বাচ্চার মাঃ (এক দামড়া ছেড়া এর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে) এই যে।
আমিঃ আমি আপনাকে কেন সাহায্য করবো? আপনার ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। আর এই জন্ম নিবন্ধন পূরন করতে পারবে না? আপনার ছেলে কি শিখছে?
বাচ্চার মাঃ এভাবে বলবেন না। ওর যদি ভুল হয়।
আমিঃ এই ছেলে নাইনে পড়ে। নাইনে পড়া ছেলে ভাই এর নাম, পিতা মাতা এর নাম আর ঠিকানা লেখতে যদি ভুল করে তাহলে তাকে লেখা পড়া করানোর দরকার নাই।
পরে এই নবম শ্রেণী পড়ুয়া কে দিয়েই ফরমটি পুরন করালাম।
আর ছেলেটি পদে পদে ভুল করেছে। যেমন পিতার জাতীয় পরিচয় পত্রে লেখা “মোঃ আব্দুল মালেক ঢালী” আর ছেলেটি লেখছে শুধু “মালেক”।
আর মা এর নাম জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী সেলিনা পারভিন। আর ছেরায় লেখছে “ছেলিনা খাতুন”.
তখন আমি তাকে ধমক দিয়ে বললাম “এই ছেলে, তুমি কি তুমার বাপ মা এর নাম জানো না? ওনারা জাতীয় পরিচয় পত্রে যেভাবে লেখছো সেভাবে লিখ।“
তারপর সে তার গ্রাম কোন ডাকঘর এর অধীনে তাও সে জানে না। জানেনা সে তার পোস্ট অফিসের পোস্ট কোড কত। সে এটাও জানে না সে কোন ইউনিয়ন এ থাকে।
এটা হলো আমাদের দেশের শিক্ষার মান।
উপসংহারঃ ক্লাশ নাইনে পড়া ছেলে যদি বেসিক কিছু না জানে তাহলে সে কিভাবে বিজ্ঞানের সূত্র মুখস্থ করিবে? কিভাবে সে হিসাব বিজ্ঞানের অংক মিলাবে? আপনারাই বলুন। ছেলেটা ক্লাস এইট পযর্ন্ত কি শিখেছে?
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



