somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নাহল তরকারি
আমি ঘুরতে ভালোবাসি। আমি খুব নেট পাগল। আমি নবম শ্রেণী থেকে অনার্স পযর্ন্ত নানী বাড়িতে ছিলাম।

নানীর দাদাদের গল্প।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নানীর গল্প: সরল জীবনযাত্রার স্মৃতি

যারা আমার ব্লগ নিয়মিত পড়েন, তারা হয়তো জানেন, আমি আমার শৈশবের বড় একটি অংশ নানীর সাথে কাটিয়েছি। সেই সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে গল্পময় অধ্যায় ছিল। নানী গল্প না শোনালে আমার ঘুম আসত না। তার জীবনের সরল, সাদামাটা অভিজ্ঞতাগুলো আমার শৈশবের বড় প্রাপ্তি।

নানীর দাদা একজন দলিল লেখক ছিলেন। ভদ্রলোকের নাম আমার মনে নাই, তবে তার জমির পরিমাণ আর কাজের ধরণ নিয়ে বেশ গল্প করতেন। তার অনেক জমি ছিল এবং তিনি ধান চাষ করতেন। ধান কাটার পর সেই ফসল সারা বছর চলে যেত। এছাড়া তার গরু ছিল অনেক। নানী বলতেন, তার দাদার বালতি ভর্তি দুধ হতো প্রতিদিন।

নানীদের বাড়ির কাছেই ছিল নদী। তাই মাছ তাদের কিনতে হতো না। পরিবারের কেউ না কেউ নদীতে মাছ ধরতে গেলে রাতের খাবারের আয়োজন হয়ে যেত। তবে তারা গোশত খাওয়ার সুযোগ খুব কম পেতেন। বছরে একবার কুরবানীর সময় গরুর গোশত খাওয়া হতো। আর বাড়িতে জামাই এলে বিশেষ আয়োজনে মুরগীর ঝোল দিয়ে ভাত খাওয়া হতো।

নানী প্রায়ই বলতেন, “আমাদের জীবনটা ছিল একদম সাদাসিধা, কিন্তু সুখের কমতি ছিল না।” সত্যি বলতে, এমন জীবনযাত্রা আজকাল কল্পনাতীত। সবকিছু এত পরিবর্তিত হয়েছে যে সেই সরল দিনগুলো যেন এখন রূপকথার গল্পের মতো শোনায়।

নানীর জীবন আর তার সময়ের গল্পগুলো শুনে মনে হয়, তখনকার মানুষের চাহিদা যেমন কম ছিল, তেমনি তাদের জীবনের শান্তি ছিল বেশি। আর এখন? প্রতিদিন জীবন যাপনে মূল্যস্ফীতি আমাদের পকেটে ছুরি চালিয়ে দেয়। যে জিনিস একসময় সহজলভ্য ছিল, তা আজ বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রা এত দ্রুতগতির আর ব্যস্ত হয়ে উঠেছে যে নানীর সেই সরল জীবনধারাকে স্মরণ করাও কঠিন। তবুও, তার গল্পগুলো শোনার পর মনে হয়— সরলতা আর আত্মনির্ভরশীলতাই হয়তো প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি।

মূল শিক্ষা: সময় বদলেছে, কিন্তু নানীর সরল জীবনযাত্রার স্মৃতিগুলো এখনো আমাদের শেখায় কীভাবে সামান্য চাহিদার মধ্যেও সুখ খুঁজে পাওয়া যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:২৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বরাজনীতি চলে স্বার্থের হিসেবে, আমরা চলি অন্ধ আবেগে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২২


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস হলো বিশ্লেষণ। চাল, ডাল কিংবা তেলের দাম নিয়ে যতই হাহাকার থাকুক, ভূরাজনীতি নিয়ে জ্ঞানের কোনো অভাব নেই। চায়ের দোকানে বসে যিনি নিজের বাসার গ্যাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×