
বাড়ি
------
আমাদের একটা বড় পুকুর ছিলো। বলার মতো, এইটুকুই। পুকুর পাড়ের লম্বা লম্বা সুপারি গাছগুলোকে মনে হতো বাড়ির মুরুব্বী। ছোটবেলায় আমরা ভরদুপুরে সেখানে উদাস মনে ঘুরে বেড়াতাম। পুকুরের জলে আমাদের ছায়া পড়লেই গ্রাম; না পড়লে কখনো বিকেলই হতো না।
আমরা বড় হতে লাগলাম কাছারি ঘরে। পুকুরের জলে তখন আর আমাদের ছায়া নেই। এক রাতে শুনলাম- খুব আগুন লেগেছে। গাছগুলি পুড়ে ছাই। আর পুকুরটা শুকিয়ে কাঠ।
আমার মনও তখন একটা ন্যাড়া মাঠ।
কাঠবিড়ালীর গান
-----------------
অরণ্যের মাঝে বিকেল এলো না ঘুমিয়ে গেছে বলে। অল্প অল্প করে সন্ধ্যাও ঝরলো না মৃদু বাতাসে। অরণ্যের মাঝে রাত্রিরা খাঁ খাঁ, শুধু তারাগুলি অন্ধশিশির হয়ে গাছের ফোঁকরে অপেক্ষা করলো- কবে কাঠবিড়ালিদের গান শুনবে।
কিন্তু কাঠবিড়ালিরা আর তো গাইলো না গান, অনেকদিন ।
কবি
----
আমি জানি না কবিতা লিখতে হলে কোনো পরীক্ষা দিতে হয় কি না। আমি এটাও জানি না- খাতায় আমি কি লিখবো, কতোটা ভুল শুদ্ধ। আমি শুধু কাটাকাটি চিনি; আমার ভেতরে অজস্র কাটাকাটি ছাড়া এক তিলও জায়গা অবশিষ্ট ছিলো না। আমার রক্তে রক্তে বয়ে যাওয়া কাতরতা নিয়ে আমি চুপচাপ থাকি; ওরা যখন কবিতার কথা বলে, আমার খুব অস্থির লাগে। কিন্তু আমি ওদের তৈরি এক শেকলের শব্দ পাই; আমি যখনই কবিতা লিখতে চাই, সবকিছু ক্যামন য্যানো আমি ভয়ে ভুলে যাই। একটা বড়সড় শেকল আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে সবসময়। আমি জানি না, ঠিক কতোটা পথ পাড়ি দিলে একজন মানুষ কবি হয়। আমি এটাও জানি না একটা কবিতা লিখতে কতো কতো সহস্র শব্দ জানতে হয়।
তবে, খুব নিভৃতে সেই শেকল ছেড়ে আমি মাঝে মাঝেই উড়ে বেড়াই।
সীমানা
-------
পাখিদের রাজ্যে আমার কিন্তু কোনো পরিচয় নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




