somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গোলা বর্ষণ

১০ ই আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফের মধ্যে টানা 12 ঘন্টা গুলি বিনিময়ের পর পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে। বিএসএফের গুলি ও মর্টার শেলের আঘাতে দুই বিডিআর জওয়ান ও 7 বাংলাদেশী আহত এবং অনেক বাড়িঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রসত্দ হয়েছে। মর্টার শেলের আওয়াজে একজন বাংলাদেশী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাংলাদেশ সীমান্তবতর্ী বারঠাকুরী ইউনিয়নের 15টি গ্রাম এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে। সীমান্তে বিরাজমান যুদ্ধাবস্থায় আতংকিত জকিগঞ্জ উপজেলাবাসী গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রহর গুনছেন। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের সোনাসার থেকে শরীফগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় 20 কিলোমিটার রাসত্দায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিডিআর ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জের উত্তরকুল ও আমলসীদ বিডিআর ক্যাম্পের মধ্যবতর্ী বারঠাকুরী এলাকায় বাংলাদেশ ভূখণ্ডে 296 একর অপদখলীয় ফসলী জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বুধবার রাত সাড়ে 10টার দিকে অতর্কিতভাবে ভারতের হরিনগর ও চিন্নারখাল ক্যাম্প থেকে গুলিবর্ষণ করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তখন বিডিআর পাল্টা গুলিবর্ষণ করে বাধাদান করলে বিএসএফ রাইফেলের গুলির পাশাপাশি মেশিনগান ও মর্টার শেল নিক্ষেপ শুরু করে। বিডিআরও এর পাল্টা জবাব দেয়। ভারী অস্ত্রশস্ত্রের অবিরাম গোলাবর্ষণে জকিগঞ্জ সীমানত্দ এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিডিআর সদস্যরা প্রথমে হালকা গুলি ছুঁড়লেও ওপার থেকে বিএসএফ ভারী গোলাবর্ষণ শুরু করায় বিডিআরও এর পাল্টা জবাব দেয়। উভয়পক্ষে কয়েকশ' রাউন্ড মটর্ার শেল এবং বেশ কয়েক হাজার রাউন্ড মেশিন ও রাইফেলের গুলি বিনিময় হয়। মর্টার শেলের আওয়াজ প্রায় 20 কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায়।

বিডিআর সিলেট সেক্টরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ইত্তেফাককে জানান, বাংলাদেশ ভূখন্ডের 296 একর অপদখলীয় জমি নিয়ে সীমান্তে বিএসএফের সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে বিডিআরের অব্যাহত প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় গত বুধবার বিএসএফ'র শিলচর ডিআইজি আগামী 13 আগস্ট সকাল 11টায় বিডিআর ও বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিডিআরের সেক্টর কমান্ডারের কাছে পত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএসএফ তা লংঘন করে বুধবার রাতে আকস্মিকভাবে গোলাগুলি বর্ষণ শুরু করে। তিনি জানান, বিএসএফ গোলাবর্ষণের সময় আর্টিলারিগান, হেভী মেশিনগান, মর্টার শেল ও অন্যান্য অস্ত্র নির্বিচারে ব্যবহার করে। বিএসএফ সীমান্তে ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। বিডিআরও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিএসএফের আগ্রাসী তৎপরতা রোধে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

জকিগঞ্জ সংবাদদাতা আব্দুল খালিক তাফাদার জানান, রাতে বিএসএফ অর্তর্কিতভাবে হরিনগর ও চিন্নারখাল ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশের জকিগঞ্জের উত্তরকুল ও আমলসীদ বিডিআর ক্যাম্প এবং স্থানীয় প্রায় 5 কিলোমিটার এলাকার বাংলাদেশী গ্রামাঞ্চল লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু করলে বাংলাদেশে সীমান্তের 15টি গ্রামের আতংকিত মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরম্ন করেন। এ সময় মানুষের কান্না, আর্তচিৎকার ও বৃষ্টির মত গুলির বিকট শব্দে এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। দূরবতর্ী এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য আত্মীয়-স্বজন ট্রাক, বাসসহ ছুটে আসেন। ভীতসন্ত্রসত্দ মানুষজন রাতেই নিরাপদ দূরত্বে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। মর্টার শেলের বিকট আওয়াজে আমলসীদ গ্রামের খলিলুর রহমান (70) নামে এক বৃদ্ধ হার্টফেল করে মারা যান। সীমানত্দ সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে মর্টার শেলের আঘাতে অনেক ঘর বাঢড়, মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা, দোকানপাট ও গাছপালার ব্যাপক ৰতি সাধিত হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে বিডিআর মাইকিং করে আমলসীদ থেকে মুন্সিবাজার পর্যনত্দ প্রায় 12 কিলোমিটার এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা ।। বৃহস্পতিবার ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার গিলাবাড়ি সীমানত্দে বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বিএসএফের আকস্মিক গুলিবর্ষণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী আতংকিত বাংলাদেশী নাগরিকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালাতে থাকে। এসময় বিডিআর পাল্টা 22 রাউন্ড গুলি চালালে বিএসএফ পিছু হটে যায়। বর্তমানে বিএসএফ অতিরিক্ত জনবল বৃদ্ধি করে ভারী অস্ত্র নিয়ে সীমানত্দ এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) থেকে সংবাদদাতা ।। বাংলাদেশী বোমাবাজ জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশংকায় কলারোয়া সীমানত্দের প্রায় 18 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বি.এস.এফ রেড এলার্ট জারি করেছে। বি.ডি.আর মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও বোমা তৈরীর গান পাউডার ইত্যাদি যাতে দেশের অভ্যনত্দরে আনতে না পারে সেজন্য সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 11.08.2006
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

ছবি সংগৃহিত।

অংশ ১: ভূমিকা এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য

ইসলাম কোনো আংশিক বা বিচ্ছিন্ন জীবনদর্শন নয়। বরং এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩

আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোট ডাকাতদের বয়কট করুন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৩


আহা, বাংলাদেশের রাজনীতি যেন একটা অদ্ভুত সার্কাস, যেখানে ক্লাউনরা নিজেদেরকে জান্নাতের টিকিটের এক্সক্লুসিভ ডিলার বলে দাবি করে, কিন্তু পকেট ভরে টাকা নিয়ে ভোটের বাজারে ডাকাতি চালায়। জামায়াতে ইসলামীর মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×