ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের হাতে 2001 সালের 10 অক্টোবর হতে চলতি মাসের 10 আগষ্ট পর্যন্ত এই 4 বছর 10 মাসে 439 জন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার প্রণীত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। [আন্ডার]এরমধ্যে শুধু বিএসএফ'র হাতে নিহত হয়েছে 373 জন[/আন্ডার]।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফ'র অব্যাহত অনুপ্রবেশ, এদেশের নাগরিকদের গুলি করে হত্যা, অপহরণ এবং লুটতরাজের ফলে সীমান্তে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিএসএফ'র আগ্রাসনের কারনে সীমান্তবতর্ী এলাকার মানুষেরা আতংকের মধ্যে থাকেন।
অধিকারের প্রতিবেদন বিশেস্নষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবতর্ী এলাকায় বিএসএফ'র আচরণ আগ্রাসী ধরনের। বিএসএফ এবং ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের হাতে নিহতদের বেশীর ভাগই কৃষক। মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করার পর লাশ ভারতের ভেতর নিয়ে যায়। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ায় পর হত্যা করা হয়। বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লংঘনের এরূপ ঘটনার ব্যাপারে বিএসএফ ও বিডিআর-এর বিওপি কোম্পানী কমান্ডার থেকে শুরু করে মহাপরিচালক পর্যায়ে বহু পতাকা বৈঠক ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এর কোন প্রতিকার হয়নি। সম্মেলন চলাকালেও বিএসএফ'র আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে।
ঐসময়ে 439 জন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হওয়া ছাড়াও 374 জন আহত, 443 জন গ্রেপ্তার, 496 জন অপহৃত, 8 শিশুসহ 82 জন নিখোঁজ এবং 7 জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে চলতি বছরে 83 জন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত, 128 জন আহত, 14 জন গ্রেপ্তার, 100 জন অপহৃত, 31 জন নিখোঁজ, 2 জন নারী ধর্ষণের শিকার এবং 8টি লুটের ঘটনা ঘটেছে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 13.08.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



