আগর গাছ অতি মূল্যবান গাছ। বর্তমানে বৃহত্তর সিলেটের অনেক জায়গায় আগর চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এ সম্পর্কিত তথ্য, প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ না থাকাতে আগর উৎপাদনকারী এবং আগর গাছের বাণিজ্যিক বি¯-ারে অনেক বিষয়ে অজ্ঞতা কাজ করে। সাধারণ মানুষ এতটুকু বুঝে যে, আগর গাছ লাগালে তারকাটা মারলে যদি আগর আসে তবে এক একটি গাছ ২-৩ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করা যাবে। আসলে আগর কি? কীভাবে আগর আসে? আগর আসার জন্য অন্য কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় কিনা এ সম্পর্কিত অনেকের মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।
আগরের বৈজ্ঞানিক নাম Aquilaria agallocha আগর বাণিজ্যিকভাবে “Agor”, “Aloe Wood” “Eagle Wood” নামে পরিচিত। আগর গাছের রেসিন (জবংরহ) অংশ হতে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে আগর তৈল উৎপন্ন করা হয়। আগরের এই রেসিন উৎপন্ন হয় তখন, যখন নির্দিষ্ট কিছু ছত্রাক আক্রমণ করে আগর গাছের ভেতর বি¯-ারলাভ করে। সাধারণত পূর্বে দেখা যেত যে সম¯- গাছে পুরাতন ক্ষত বা গর্ত থাকতো সে সম¯- গাছেই ছত্রাকের বি¯-ার ঘটতো। এ ধারণা থেকে আগর গাছে কৃত্রিমভাবে তারকাঁটা গেঁথে ছত্রাক উৎপাদনের বা বি¯-ারের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয় এবং এ জন্যই তারকাঁটা লাগানো হয় বর্ষার শেষে বা শরতের প্রথম দিকে যেন ছত্রাকের বি¯-ারের অনুকূল তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা থাকে।
বর্তমান সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগর উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম, পাপুয়া নিউগিনি, ভুটান, ভারত উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার ও সিলেটের কিছু এলাকায় আগর শিল্প ধীরে ধীরে বি¯-ারলাভ করছে। তবে বেশিরভাগ মানুষ আগর গাছ লাগায় বেশি টাকা উপার্জনের জন্য। কিন্তু আগর গাছ বা আগর সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট কোন ধারণা নেই। অথচ বাণিজ্যিকভাবে আগর গাছে রেসিন পেতে হলে এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে, তবেই সে অল্প সময়ে সর্বাধিক সংখ্যক গাছ হতে রেসিন তথা আগর তৈল উৎপন্ন করতে পারবে।
আগর হল ট্রপিক্যাল পত্রপতনশীল উদ্ভিদ। এটি যে কোন পরিবেশে জন্মাতে পারে। তবে যে সব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি, সুনিষ্কাশিত ভূমি, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা, রেসিন উৎপাদনে সহায়ক ছত্রাকের জন্য উপযোগী সেসব অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আগর চাষাবাদ করা উচিত। বাংলাদেশে বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা আগর শিল্প প্রসারের জন্য উপযুক্ত। আগর গাছ বীজ দ্বারা বংশবি¯-ার করে এবং বীজ হতে চারা উৎপন্ন করে জুন-জুলাই মাসে। ১০-১২ ফুট দূরত্বে রোপণ করে ৫-৮ বছর পর তারকাটা দ্বারা গাছে রেসিন উৎপাদনের মাধ্যমে ডিসটিলেশন প্রক্রিয়ায় পরবর্তীতে আগর তৈল পাওয়া যায়।
সত্যিকার আগর তৈল পানির চেয়ে ভারী। এই তেল সুগন্ধি আগরবাতি, আতর, পারফিউম, লোশন, তেল, ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয় এবং ভেষজগুণ সম্বলিত বলে ভেষজ ওষুধে ব্যবহৃত হয়। আগর তেলের বাজারমূল্য কল্পনাতীত। ১ কেজি আগর তেল আড়াই থেকে তিন লাখ টাকায় বিক্রয় হয়। তাই আগর শিল্প প্রসারে সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন এবং সেই সাথে এর গবেষণা অতীব আবশ্যক, যাতে আমরা ছত্রাক কৃত্রিমভাবে গাছের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে অতি অল্প সময়ে সর্বাধিক গাছ হতে আগর উৎপাদন করতে পারি। যদি আমাদের পার্বত্য পতিত জমিতে আগর গাছ লাগানোসহ আগর শিল্পের প্রসারে উদ্যোগ নেই তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগর সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
-কৃষিবিদ মো. ফসিউল আলম ভূঁইয়া মাসুম
আলোচিত ব্লগ
যা মা তুই অসীমে... পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিস

ইয়াসমিন থেকে রামিশা এরপর কে? আমরা কবে মানুষ হবো? ওরা ধর্ষণকারী, আর আমরা দর্শনকারী! ...বাকিটুকু পড়ুন
রসময় গালগল্প

প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।
আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন
মেঝ দা

বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি; বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্কের ভেতরে এখন স্পষ্ট টানাপোড়েন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে পারস্পরিক অস্বস্তি ও বাকযুদ্ধ। এনসিপির সাম্প্রতিক আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।