২৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে্ ইতালির সাড়া জাগানো পত্রিকা “এল ইউরোপিও” তে প্রদানকারী সাক্ষাতকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরছি। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি।
শুরুটা করেছিলেন যেভাবে “আমি কলকাতা হয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা করেছি। সত্যি কথা বলতে কি, ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তাদের বেয়োনেট দিয়ে যে যঞ্জ চালিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করার পর পৃথিবীতে আমার অন্তিম ইচ্ছা ছিল এটাই যে, এই ঘৃণ্য নগরীতে আমি আর পা ফেলবনা”।
তথন দেশবাসীর মধ্যে একটা ধারনা বদ্ধমূল ছিল যে “মুজিব থাকলে সেই নির্মম ভয়ংকর হত্যাকান্ড কখনই ঘটতনা” কিন্তু এই ধারনা ভাঙ্গতে সময় লাগলনা বেশী। ২২/২৩ ফ্রেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিকালীন “আরো ৫০ জন বিহারীকে হত্যা করেছে”। অথচ এই বিখ্যাত মানুষটি ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে সাংবাদিক অ্যালডো শানতিনি কে বলেছিলেন “আমার দেশে আমি সবচেয়ে সাহসী এবং নির্ভীক মানুষ, আমি বাংলার বাঘ, দিকপাল, এখানে যুক্তির কোন স্থান নেই”
তাই আজ নির্বাক হয়ে আমরা শুধু দেখছি যে তার সুযোগ্য উত্তরসুরী শেখ হাসিনা ও আজ যুক্তির মঞ্চ থেকে অনেক দুরে। কোন যুক্তির বলে নয় শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে আজ বাংলাদেশ একটা অস্থিতিশীল ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করেছেন। রাজনীতি করতে চান করেন তবে কেন নোংরা খেলা খেলছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে নিয়ে? শুধু আপনার দল আওয়ামীলীগই মুক্তিযুদ্ধ করেননি? নির্যাতিত কোটি কোটি মানুষ করেছে ত্যাগ স্বীকার। আপনার বাবাও করতেন এটা করতেন। ১৮ ডিসেম্বরের হত্যা কান্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুজিব বলেন কোন ম্যসাকার ঘটেনি সেদিন, জবাবে যখন তাকে বলা হল মিস্টার মুজিব সাহেব এ ঘটনা সকল সাংবাদিক ও পনের হাজার লোক প্রত্যক্ষ করেছে তারপর ও বলবেন আপনি যে কোন ম্যাসাকার ঘটেনি? মুজিবের জবাব ছিল এই রকম “তাহলে হয়ত ওরা রাজাকার ছিল যারা প্রতিরোধের বিরোধিতা করেছিল এবং কাদের সিদ্দিকী তাদের নিমূল করতে বাধ্য হয়েছে”
আজ ৪২ বছর পর তার কন্যা বলেছেন তার বাবার মত। ২৮ ফেব্রুয়ারি তার সরকারের পেটোয়া বাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি দিয়ে ৭০ জন মানুষ হত্যা করেও স্বীকার করেনননি। হয়ত তার বাপের মত বলবে এরাও রাজাকার ছিল। সেদিন ছিল ইউনিফর্ম পরা মুজিব এর রক্ষী(মুক্তিবাহিনী) আর এখন হল হাসিনার পেটোয়া বাহিনী।
একাত্তরের ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হল সে রাতেই কি সকল পর্যায়ের লোককে হত্যা করা হল? কি করে এটা হতে পারে যে কারাগারের একটা ছোট্ট প্রকোষ্ঠ থেকে তাকে পালতে দেয়া হল? যেটি হত তার সমাধী সৌধ! তিনি কি গোপনে ভূট্রোর সাথে ষড়যন্ত্র করেছিলেন? আমি যতই তাকে পর্যবেক্ষন করছি তত মনে হয়েছে তিনি কিছু একটা লুকাচ্ছেন। এমনকি তার মধ্যে যে সার্বক্ষনিক আক্রমনাত্নক ভাব সেটাকে আমার মনে হয়েছে তার আত্নরক্ষার কৌশর হিসেবে”
আজও তার কন্যা শেখ হাসিনার আত্নরক্ষার জন্য বেচছ নিয়েছে আক্রমনাত্নক কৌশলকে। সবি যদি তার বাবার সাথে মিলাতে চান আর বাবাকে অনুসরন করতে চান তাহলে হয়ত বাংলাদেশ বড় কিছু হারাবে অদুর ভবিষ্যতে। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


