সেই ৫ মার্চ শুরু এই সীমাহীন ভোগান্তির। দয়া করে ক্ষ্যামা করে দেন ম্যাংগো পিপলদের। একটা সভ্য সার্বভৌম দেশে নির্বাচিত সরকার জনসাধারনকে মাসের পর মাস নরকের আগুনে পোড়াতে পারে তা শাহবাগকে না দেখলে কারো বোধোদয় হবেনা। দেশে স্বাধীন বিচার বিভাগ আছে, আইন বিভাগ আছে এবং যুদ্ধাপরাধ তথা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুনাল আছে। যারা একাত্তরে ধর্মরক্ষা নামে বাংলার মানুষের জীবন নিয়ে উন্মত্ততায় লিপ্ত হয়ে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই সম্পন্ন হোক এটা জাতির দাবী ক্ন্তিু একে রাজনীতির হাতিয়ার বানালেন কেন? আপনার ইচ্ছেমত ট্রাইবুনাল গঠন করে আবার আপনিই তাকে অবমাননা করলেন যদিও আপনার বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট রুল জারি করেনি। যাইহোক ট্রাইবুনালের কাজ ট্রাইবুনালকেই করতে দেন। প্রয়োজনে আরো ডজনখানেক বিাঘা প্রসিকিউটর নিয়োগ দেন কিন্তু ......
আপনার ইশারায় আপনার সুসন্তানদের প্রটোকলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় ব্লগার নামধারীদের দিয়ে যে নাটক শুরু করছেন তার ইতি টানুন। এটা এখন আর জাগরন নয় প্রহসন। জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে শুরু করেছেন। কোন ব্লগের ব্লগার এই ইমরান? হ্যারিকে টমাস (নাজমুল) কোন অনলাইন একটিভিস্ট? যারা আমরা আন্দোলন শুরু করেছি, সমর্থন করেছি বোধ করি তার বিশাল অংশ নাটকের মূলপর্ব বুঝে গিয়েছি যার দরুন সেই পথে আর হাটছিনা। আইন সংশোধন করেছেন, প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছেন এখন দাবী সর্বচ্চ শাস্তি কিন্তু শাহবাগের এই নাটক কেন? শাহবাগে পথচারী ছাড়া আর ক’জন লোক আছে বলুন? রাস্তা বন্ধ করে জরাজীর্ন যানযটের ঢাকাকে নরকে পরিনত করেছেন।
আপনি ভুলে গেছেন বোধহয় নাটকের মঞ্চের পাশেই সুফিয়া কামাল গনগ্রন্থাগার, একদিন ভিতরে এসে দেখুন না কি কষ্ট করে জাতি শ্রেষ্ঠ সন্তানরা সংগ্রাম করছে একটা পারিবার বাঁচানোর, দেশ বাঁচানোর। নাকি বিরোধী নেত্রীর মত বলবেন এরা নষ্ঠ সন্তান যারা গনজাগরন মঞ্চ মাড়িয়ে গ্রন্থাগারে যায়? বলতেই পারেন, অসম্ভব না আপনাদের জন্য! একদিকে দেশের সহিংসতায় মরছে শয়ে শয়ে মানুষ অন্য দিকে একটা জাতিকে ঘুনে ধরাতে যা দরকার তা করছে শাহবাগি এর ইমরান-নাজমুল পরিষদ।
শাহবাগে যারা গলা ফাটিয়ে চৌচির করেন তাদের সংগ্রাম করতে হবেনা। ওরাতো আপনারই সন্তান তাদের ভরনপোষন এর দায়িত্ব যদি তারা নেয় তাইলে পরে আপনি আছেন কি কত্তে! তাদের হাতে একটা ডান্ডি কার্ড(মুক্তিযদ্ধের চেতনার ফেরিওয়ালার সার্টীফিকেট) ধরিয়ে দিবেন এবং তোর সুফলে ভেসে যাবে তার বংশধরেরা।
আর আমরা ম্যাংগো পিপলরা? আমাদের জীবন গড়ার পরিবর্তে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিবেন। আপনার জনগনের দাবী মতে জাতির কুলাংগারদের ফাসি দিয়ে দেন তাইলেতো মিটে গেল তো এত নাটকের কি দরকার? জামাত শিবির এখনও আন্দোলন করছে, দেশ অচল করছে তখনও করবে, তাহলে এটাকে টেরন লম্বা করার দরকার কী?
পরিশেষে অনুরোধ সমাবেশ করবেন করেন আমাদের মাইরেন না। প্রতিটি সেকেন্ড গ্রন্থাগারের প্রতিটা প্রান আপ্রান লড়ে যাচ্ছে একটা সুন্দর দেশ গড়ার প্রত্যয়ে। ধ্বংস না করে সুযোগ দেন। বড় মসজিদের শুক্রবারের বয়ান ছোট্র মসজিদের নামাজ আদায় করার প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়ায়। বয়ান নামাজের চেয়ে উত্তম নয় কোন বিচারেই। বয়ান করলেই স্পীকার দিয়ে মসজিদের ভিতরে করাই শ্রেয় মাইকে কেন?
যত পারেন জাগরন ঘটান আমাদের জাগায়েননা।
যত পারেন স্লোগান দেন আমাদের দেওয়ায়েন না।
যত পারেন আগুন জ্বালান আমাদের জালিয়েননা।
যা করার দরকার ওখানেই করেন আমাদের আর শেষ করিয়েন না!
আমাদের ডান্ডি কার্ড নাই তাই শতকরা ৪৫ জনের একজন হিসেবে জায়গা করতে হবে আমাদের। একটু শান্তিতে পড়তে চাই গ্রন্থাগারে। আপনার বাড়ীর সামনে পিছনে অনেক খালি জায়গা আছে ওখানে নেননা সাহস থাকলে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


