somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনগণ কেন আন্দোলনে অংশ নেয় না?

২৪ শে আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশটা যেন রাজনীতিবিদদের জন্য তৈরি এক রঙ্গমঞ্চ! তারা যেভাবে নাচায় দেশের জনগণও সেভাবে নাচতে বাধ্য হয়। কেউ নিজে নিজে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা তৈরি করে সেভাবেই নিজের মত গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমতায় থাকে। আবার কেউ কাগুজে বাঘের মত হুঙ্কার দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মিডিয়ায় সরকার পতনের হুঙ্কার দেয়। কিন্তু বাস্তবে তাদের মাঠে পাওয়া যায় না। কেউ আবার বলে সব জাতীয়তাবাদী শক্তি এক হওয়ার জন্য বিএনপিকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া উচিত।

সবাই ক্ষমতার পাগল। কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় সেটা নিয়েই ব্যস্ত। একারণেই জাতীয় পার্টি নিজে ক্ষমতায় থাকার আশায় সরকারেও থাকে বিরোধী দলেও থাকে। আবার সরকার পতনের আন্দোলনেও থাকতে চায়। আর সরকারের কথা আর কি বলব তারা তো একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই বিশ্ববেহায়ার মত ক্ষমতায়। এদিকে বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নেই বিভোর। তাদের আন্দোলনের হাঁকডাক শুধুই ক্ষমতার যাওয়ার নেশায়। জনগণের কথা তার কখনোই ভাবে না। আর একারণেই জনগণ তাদের ক্ষমতায় পাঠানোর জন্য আন্দোলনে অংশ নেয় না। অথচ তারা যদি জনস্বার্থে আন্দোলন করত তাহলে তাদের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণের আকাল পড়ত না। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ২০১১ সালের আড়িয়াল বিলের আন্দোলন। একমাত্র আন্দোলন যেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল এবং সরকার সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

আজ দেশে সরকার তার ইচ্ছামত একের পর এক সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সংবিধান সংশোধন করে যা ইচ্ছা তাই করছে। জনগণ সবকিছু মেনে নিতেও বাধ্য হচ্ছে। এর মূল কারণ শক্তিশালী কোন বিরোধীদল নেই বা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করার মত কোন নেতৃত্বও নেই। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বিএনপি যদি জনস্বার্থে আন্দোলন করত তাহলে জনগণ তাতে স্বতস্ফুর্ত অংশ নিত। প্রচুর ইস্যু এই মুহুর্তে রয়ে গেছে যেগুলোতে জনগণ আন্দোলন করতে প্রস্তুত ছিল। যেমনঃ বিদ্যুতের দাম আকাশচুম্বী হওয়া স্বত্তেও জনগণ মুখ বুজে সহ্য করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এটা নিয়ে আন্দোলন করলে নিশ্চিত জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। আবার আমাদের দেশের ঐতিহ্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যনাগ্রোভ বন সুন্দরবন ধ্বংসের জন্য সেখানে কয়লা বিদ্যুৎ কারখানা করছে সরকার। আমরা ক্রিকেট নিয়ে অনেক গর্ব করি। কিন্তু ইংরেজ উপনিবেশিক দেশগুলোর লোকজন ছাড়া বেশির ভাগ দেশের মানুষ জানেই না ক্রিকেট নামে কোন খেলা আছে। আর সেখানে বাংলাদেশ খেলে কি খেলে না এটা তো জানার প্রশ্নই ওঠে না। অনেকেই হয়ত বিশ্বাস করতে চাইবে না রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা টাইগার অব বেঙ্গল পৃথিবীর সবাই চেনে। বিভন্ন দেশের পাথ্য বিয়ে আছে এই টাইগারের কথা। বাংলাদেশের নাম বললেই অনেকেই বলে টাইগার অব বেঙ্গলের দেশ? এই সুন্দরবন রক্ষার জন্য বিএনপি আন্দোলন করে না। এধরনের অনেক ইস্যু খুঁজে পাওয়া যাবে যাতে জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। কাউকে ক্ষমতায় পাঠানোর জন্য এদেশের জনগণ আন্দোলনে অংশ নিবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ জনগণ ভালভাবেই জেনে গেছে কে ক্ষমতায় গেল আর না গেল এতে তাদের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হবে না। সবই মুদ্রার এপিঠওপিঠ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাধা উন্নয়ন প্রকল্প এবং একটি ভালো কলেজের গল্প

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

নটর ডেম কলেজে আমাদের সময় একটা প্রকল্প ছিল। নাম ‘অ্যাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’, সংক্ষেপে এডিপি। বাংলায় বললে ‘গাধা উন্নয়ন প্রকল্প’। নাম শুনে মনে হতে পারে, কোনো প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি। বাস্তবে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×