সংলাপ শব্দটিকে আমাদের সরকারের নিকট হয় গালি বলে বিবেচিত হয়৷ তা না হলে আতঙ্কজনক শব্দ বলে মনে হয়৷ আর এজন্যই যারা সংলাপের কথা বলে বা সংলাপের আহবান জানায় সরকার তাদেরকে বিভিন্ন নোংরা বিশেষণে বিশেষায়িত করে৷ তার সর্বশেষ উদাহরণ হল নাগরিক সমাজের সদস্যরা 'এক এগারোর কুশীলব৷'
বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি তার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ সমাধান হল সংলাপের আয়োজন৷ সেই কাজটিকে সরকার যে করেই হোক এড়িয়ে যেতে প্রস্তুত৷ কিন্তু কোনভাবেই এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না৷ কারণ দেশের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে যেদিকে যাচ্ছে তাতে সরকারের পক্ষে দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে৷
সরকার মনে করেছিল বিএনপিকে খুব সহজেই ধ্বংস করে ফেলা যাবে৷ এজন্য বিএনপিকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা সেই ২০১৪ এর নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির বিভিন্ন বড় বড় নেতার সাথে যোগাযোগ করিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দল থেকে বের করে আনার প্রচেষ্টাকে সফল করতে পারে নাই৷ আর তাই বিএনপিকে ভাঙ্গার চিন্তা বাদ দিয়ে দেশের চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে মনোনিবেশ করতে হচ্ছে৷
ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী এমপিরাও 'শ্যুট অ্যাট সাইট' 'এনকাউন্টার' শব্দগুলো ব্যবহার করে অবস্থার কোন উন্নতি ঘটাতে পারে নাই৷ এমনকি প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোন একশানের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষনা দিয়েও কোন ফল হচ্ছে না৷ এদিকে চারিদিকের সংলাপের চাপ সরকারকে পুরোপুরি কোনঠাসা করে ফেলেছে৷
সংলাপ শব্দটি শুনলেই সরকারী নেতাকর্মীদের মাঝে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে বসে৷ কোন মানুষকে গালি দিলে সে যতটা না কষ্ট পায়, সরকার সংলাপের কথা শুনলে তার চেয়ে অনেক বেশি রাগে-ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে উক্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করে৷ 'সংলাপ' শব্দটি সরকারের নিকট একটি ধীরে ধীরে একটি অশ্লীল শব্দে পরিণত হচ্ছে৷
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



