জীবন দিবসের অপরাহ্নে আসি
শীর্ণ বৃদ্ধ দাদু রহিয়াছে বসি,
চিবুকে রাখি হাত, চোখ সুদূরে,
হারাইয়া গিয়াছে যেন
কি এক ঘোরে
কোথা হতে নাতি তার ছুটি ছুটি আসে
বয়স সাত কি আট -
ছটফটে মন, চঞ্চল প্রাণ,
শুরু করে চোটপাট-
''দাদু! দাদু!! দাদু!!! ভাল আছ নাকি?
বসে কেন চুপচাপ? মোর সাথে চল দিঘীতে নাইতে
ঘাট থেকে দিবো ঝাঁপ''।
নির্বোধ উক্তি শুনিয়া বালকের
বৃদ্ধ হাসিয়া শেষ,
''ওরে মোর সোনা মানিক, মোরে
মারিবি 'ত শেষমেশ!
ঘুণে ধরা বুড়ো হাড় মোর, এতো
জোর কোথা পাই 'ক
লাফ-ঝাঁপ যদি করি তোর মত
ভাঙিয়া হইবে 'শ,
দু'দিনের তরে এসেছিনু দাদু
শীঘ্রই যাব চলে,
অলুক্ষনে কথা শুনিয়া নাতির,
চোখ ভরে নোনা জলে।
''সেকি গো দাদু! সত্যই নাকি
যাইবে আমায় ফেলে?''
কহিতে কহিতে নাতির বুকে
কান্না আসিছে ঠেলে।
মূর্খ বালকের কান্না দেখিয়া
দাদু বিব্রত হন,
চিনি মাখা ভাবে, মোলায়েম স্বরে
কান্না রোধীতে কন-
''আরে আরে বাছা, থাম দিকি বাবা
কাঁদার কি কিছু হল?
খোদা যদি মোর লিখি রাখে হায়াত
মরিব কেমনে বল?
কে বাঁচিবে শত কুড়ি আর
কে টিকিবেনা বেলা,
সবই তাহার ইচ্ছা মানিক
বিরাট শিশুর খেলা,
এই দেখ দাদু-নাতি মোরা মিলি
বসিয়া রইছি বেশ
যদি হয় তার ইচ্ছা সোনা
চোখের পলকে শেষ।
ছোট কাঁচা প্রাণে ভারি ভারি কথা
নাতির সয়না আর,
ঝটকা দিয়া খাড়াইয়া সে
নিমেষে পগারপার।
বৃদ্ধ দাদু হইয়া একা
ঠায় বসিয়া র'ন
নিমীলত চোখে, অতীত স্মৃতিতে
চলিছে রোমন্থন।
হঠাৎ মনে কি আসিল বিঁধি
তন্দ্রা টুটিল তার,
ছুটি আসিতেছে ছেলে তার দিকে
করিতেছে চিৎকারঃ
''বা'জান বা'জান সোনা নাতি তোর
দিঘীতে যে দিল ঝাঁপ
কতক্ষণ ধরি ভাসেনা মানিক
হারালুম তারে বাপ''
বৃদ্ধ দাদু উঠিয়া সটান
ছুটিলেন দিঘী পারে,
শুনিতে পাইলেন পুত্রবধূর
চিৎকার তারস্বরে।
বৃদ্ধ দাদু নির্বাক চোখে
তাকাইয়া দেখেন জল।
''ওরে রাক্ষুসি, নাতি মোর তুই
রাখিছিস কোথা বল''
উৎসুক লোকে জাল ফেলি শেষে
পাইল নাতির দেহ।
বৃদ্ধ শোকে মূর্ছিত হন
দেখিল না সে'ত কেহ।
''হে আল্লাহ্, রাহমান খোদা
এই কি তোমার খেল?
না নিয়া মোরে, কেন দিলা তুমি
বাঁধিয়া বুকেতে শেল?
মোর সমাধিতে কেন মোর নাতির
দিতে হইবে গোর?''
শোকে চিৎকারে কাঁপি উঠে দাদু
বুকে নাহি বল-জোর।
জবাবের আশে কান পাতি থাকে
জবাব আসেনা কভু
দুরে আযানে মাগরেবি গান
রবি বিভা নিভু নিভু।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

