somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমাধি

১৪ ই নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন দিবসের অপরাহ্নে আসি
শীর্ণ বৃদ্ধ দাদু রহিয়াছে বসি,
চিবুকে রাখি হাত, চোখ সুদূরে,
হারাইয়া গিয়াছে যেন
কি এক ঘোরে

কোথা হতে নাতি তার ছুটি ছুটি আসে
বয়স সাত কি আট -
ছটফটে মন, চঞ্চল প্রাণ,
শুরু করে চোটপাট-
''দাদু! দাদু!! দাদু!!! ভাল আছ নাকি?
বসে কেন চুপচাপ? মোর সাথে চল দিঘীতে নাইতে
ঘাট থেকে দিবো ঝাঁপ''।

নির্বোধ উক্তি শুনিয়া বালকের
বৃদ্ধ হাসিয়া শেষ,
''ওরে মোর সোনা মানিক, মোরে
মারিবি 'ত শেষমেশ!
ঘুণে ধরা বুড়ো হাড় মোর, এতো
জোর কোথা পাই 'ক
লাফ-ঝাঁপ যদি করি তোর মত
ভাঙিয়া হইবে 'শ,

দু'দিনের তরে এসেছিনু দাদু
শীঘ্রই যাব চলে,
অলুক্ষনে কথা শুনিয়া নাতির,
চোখ ভরে নোনা জলে।

''সেকি গো দাদু! সত্যই নাকি
যাইবে আমায় ফেলে?''
কহিতে কহিতে নাতির বুকে
কান্না আসিছে ঠেলে।

মূর্খ বালকের কান্না দেখিয়া
দাদু বিব্রত হন,
চিনি মাখা ভাবে, মোলায়েম স্বরে
কান্না রোধীতে কন-

''আরে আরে বাছা, থাম দিকি বাবা
কাঁদার কি কিছু হল?
খোদা যদি মোর লিখি রাখে হায়াত
মরিব কেমনে বল?

কে বাঁচিবে শত কুড়ি আর
কে টিকিবেনা বেলা,
সবই তাহার ইচ্ছা মানিক
বিরাট শিশুর খেলা,

এই দেখ দাদু-নাতি মোরা মিলি
বসিয়া রইছি বেশ
যদি হয় তার ইচ্ছা সোনা
চোখের পলকে শেষ।

ছোট কাঁচা প্রাণে ভারি ভারি কথা
নাতির সয়না আর,
ঝটকা দিয়া খাড়াইয়া সে
নিমেষে পগারপার।

বৃদ্ধ দাদু হইয়া একা
ঠায় বসিয়া র'ন
নিমীলত চোখে, অতীত স্মৃতিতে
চলিছে রোমন্থন।
হঠাৎ মনে কি আসিল বিঁধি
তন্দ্রা টুটিল তার,
ছুটি আসিতেছে ছেলে তার দিকে
করিতেছে চিৎকারঃ

''বা'জান বা'জান সোনা নাতি তোর
দিঘীতে যে দিল ঝাঁপ
কতক্ষণ ধরি ভাসেনা মানিক
হারালুম তারে বাপ''

বৃদ্ধ দাদু উঠিয়া সটান
ছুটিলেন দিঘী পারে,
শুনিতে পাইলেন পুত্রবধূর
চিৎকার তারস্বরে।

বৃদ্ধ দাদু নির্বাক চোখে
তাকাইয়া দেখেন জল।
''ওরে রাক্ষুসি, নাতি মোর তুই
রাখিছিস কোথা বল''

উৎসুক লোকে জাল ফেলি শেষে
পাইল নাতির দেহ।
বৃদ্ধ শোকে মূর্ছিত হন
দেখিল না সে'ত কেহ।

''হে আল্লাহ্‌, রাহমান খোদা
এই কি তোমার খেল?
না নিয়া মোরে, কেন দিলা তুমি
বাঁধিয়া বুকেতে শেল?
মোর সমাধিতে কেন মোর নাতির
দিতে হইবে গোর?''
শোকে চিৎকারে কাঁপি উঠে দাদু
বুকে নাহি বল-জোর।
জবাবের আশে কান পাতি থাকে
জবাব আসেনা কভু
দুরে আযানে মাগরেবি গান
রবি বিভা নিভু নিভু।।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আগুন জ্বলে কেন: শিশুবুদ্ধি, পুরাণ এবং আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪


বার্ট্রান্ড রাসেল লিখেছিলেন: "ধর্মের ভিত্তি ভয়। অজানার ভয়, পরাজয়ের ভয়, মৃত্যুর ভয়। ভয় থেকে নিষ্ঠুরতা জন্মে। তাই নিষ্ঠুরতা আর ধর্ম পাশাপাশি চলে।" রাসেলের সৌভাগ্য যে তিনি এ সময়ের বাংলাদেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হা হুতাশে লাভ নেই, সময় সে যাবেই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯

এত হা হুতাশ করে লাভ নেই । ব্লগ আগের মত নাই। তাতে কী হয়েছে। যে যাবার সে যাবেই, যে আসবে তাকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে। অনেকেই কয়েক মাস যাবত, পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিতীয় তলার মানুষ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩

আমাকে সবাই সম্রাট বলে ডাকে।
নামটা আমি নিজে রাখিনি।
নাম মানুষকে দেওয়া হয়—যাদের কেউ মনে রাখে।

সম্রাট শাসন করে।
আমি শুধু অধিকার করে নিয়েছিলাম—
কারও না থাকা জায়গাগুলো।

আমি ভবঘুরে—এই শব্দটা মানুষ ব্যবহার করে
নিজেদের অপরাধবোধ ঢাকতে।
কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভৌতিক নয় গোয়েন্দা কাহিনী বলা যেতে পারে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



আমি গভীর ঘুমে। ঘুম আসে ক্লান্তি থেকে।
সাধারনত অপরিচিত জায়গায় আমার একেবারেই ঘুম আসে না। অথচ এই জঙ্গলের মধ্যে পুরোনো বাড়িতে কি সুন্দর ঘুমিয়ে গেলাম। পাহাড় ঘেষে ঠান্ডা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জোকস্ অফ দ্যা-ন্যাশান!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে এখন পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ ৯–১০টা সেতু পার হতে হয়। ভয়ংকর ব্যাপার! একের পর এক সেতু! মানুষ আর ফেরিতে কষ্ট পায় না, ২৪ ঘণ্টা নষ্ট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×