somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জোকস্ অফ দ্যা-ন্যাশান!

২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে এখন পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ ৯–১০টা সেতু পার হতে হয়। ভয়ংকর ব্যাপার! একের পর এক সেতু! মানুষ আর ফেরিতে কষ্ট পায় না, ২৪ ঘণ্টা নষ্ট করে না—এই যে কী সর্বনাশ!

আশির দশকে, আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন এসব সেতু ছিল না। তখন কুয়াকাটা থেকে ঢাকায় আসতে ১৮–২০ ঘণ্টা লাগত, কখনো ২৪ ঘণ্টা। মাঝপথে ফেরি নষ্ট, লাইনে রাত কাটানো, পদ্মার পাড়ে অনিশ্চয়তা-এই ছিল জীবনের আসল চলন্ত রোমাঞ্চ। এখন সেই রোমাঞ্চ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মাত্র ৬ ঘণ্টায় ঢাকা! কি লজ্জা, কি লজ্জা !

উপদেষ্টা মহোদয়ের ঐতিহাসিক আবিষ্কার অনুযায়ী, শুধু পদ্মা সেতুর কারণেই যদি চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে যায়, তাহলে কুয়াকাটা থেকে ঢাকায় আসার পথে থাকা ৯–১০টা সেতুর জন্য চালের দাম কমপক্ষে ২০০ টাকা হওয়া উচিত ছিল। বাজারে তো এখনো ৬০ টাকায় চাল পাওয়া যায়-এটা তো রীতিমত জাতীয় ষড়যন্ত্র!

এই সেতুগুলো না থাকলে আজ আমরা ১০ টাকায় চাল খেতাম, আহা কি আফসোস, ফেরিতে বসে পচা ডাল আর ভাগ্য ভরসায় জীবন কাটাতাম। কৃষক মাঠে ফসল ফলাত না, ট্রাক আটকে থাকত, পণ্য পৌঁছাত না—কিন্তু চাল হতো সস্তা! অর্থনীতি ধ্বংস, কিন্তু যুক্তি অটুট!

তাই আমি ধিক্কার জানাই শেখ হাসিনাকে-এত সেতু বানানোর জন্য। ধিক্কার জানাই খালেদা জিয়া ও এরশাদকেও-আপনারাও কম যান না। একটার পর একটা সেতু, সড়ক, মহাসড়ক বানিয়ে দেশটাকে নরক করে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখানে মানুষ সময় বাঁচায়, উৎপাদন বাড়ায়, জীবন সহজ করে ফেলে। এ আবার কেমন রাষ্ট্রচিন্তা?

কে আপনাদের বলেছিল এসব বানাতে? দেশের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা লাগে-এই ভয়ংকর ভুল ধারণা আপনাদের মাথায় ঢুকলো কীভাবে? একটু আগে যদি এই উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতেন, তাহলে হয়তো এখনো আমরা গরুর গাড়িতে চড়ে, নৌকায় ভেসে, চাল ৫ টাকায় কিনে সুখে থাকতাম।

জোকস apart- এই মানুষটার কি সত্যিই কেউ নেই? কোনো মুরুব্বি, কোনো সহকর্মী, কোনো বন্ধু? অন্তত অফিসে চা খাওয়ার সময় কেউ তো বলতে পারতো- “ভাই, এই কথাটা টিভিতে না বললেও চলে।”

কারণ সমস্যা মতামতে না। সমস্যা হলো অজ্ঞতাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করা। আর সেটাই যখন রাষ্ট্রের উপদেষ্টার মুখ থেকে আসে, তখন সেটা আর কৌতুক থাকে না—তা হয়ে ওঠে জাতীয় দুর্ভাগ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধ ভাঙার আওয়াজ : সামুতে দশ বছর

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৯





কিছু আওয়াজ থাকে,যা কানে শোনা যায় না, ভেতরে ভেতরে ভাঙে।
কিছু বাঁধ থাকে, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু মানুষকে থামিয়ে রাখে বছরের পর বছর।
সেই অদৃশ্য বাঁধ ভাঙারই এক নাম
বাঁধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অবমাননা ও দোসর: তকমা দেওয়ার মানদণ্ড আসলে কে নির্ধারণ করবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৯


ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষককে যেভাবে তড়িঘড়ি করে অপসারণ করা হয়েছে, তা আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার এক গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং সহযোগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হা হুতাশে লাভ নেই, সময় সে যাবেই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯

এত হা হুতাশ করে লাভ নেই । ব্লগ আগের মত নাই। তাতে কী হয়েছে। যে যাবার সে যাবেই, যে আসবে তাকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে। অনেকেই কয়েক মাস যাবত, পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভৌতিক নয় গোয়েন্দা কাহিনী বলা যেতে পারে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



আমি গভীর ঘুমে। ঘুম আসে ক্লান্তি থেকে।
সাধারনত অপরিচিত জায়গায় আমার একেবারেই ঘুম আসে না। অথচ এই জঙ্গলের মধ্যে পুরোনো বাড়িতে কি সুন্দর ঘুমিয়ে গেলাম। পাহাড় ঘেষে ঠান্ডা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জোকস্ অফ দ্যা-ন্যাশান!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে এখন পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ ৯–১০টা সেতু পার হতে হয়। ভয়ংকর ব্যাপার! একের পর এক সেতু! মানুষ আর ফেরিতে কষ্ট পায় না, ২৪ ঘণ্টা নষ্ট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×