ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে এখন পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ ৯–১০টা সেতু পার হতে হয়। ভয়ংকর ব্যাপার! একের পর এক সেতু! মানুষ আর ফেরিতে কষ্ট পায় না, ২৪ ঘণ্টা নষ্ট করে না—এই যে কী সর্বনাশ!
আশির দশকে, আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন এসব সেতু ছিল না। তখন কুয়াকাটা থেকে ঢাকায় আসতে ১৮–২০ ঘণ্টা লাগত, কখনো ২৪ ঘণ্টা। মাঝপথে ফেরি নষ্ট, লাইনে রাত কাটানো, পদ্মার পাড়ে অনিশ্চয়তা-এই ছিল জীবনের আসল চলন্ত রোমাঞ্চ। এখন সেই রোমাঞ্চ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মাত্র ৬ ঘণ্টায় ঢাকা! কি লজ্জা, কি লজ্জা !
উপদেষ্টা মহোদয়ের ঐতিহাসিক আবিষ্কার অনুযায়ী, শুধু পদ্মা সেতুর কারণেই যদি চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে যায়, তাহলে কুয়াকাটা থেকে ঢাকায় আসার পথে থাকা ৯–১০টা সেতুর জন্য চালের দাম কমপক্ষে ২০০ টাকা হওয়া উচিত ছিল। বাজারে তো এখনো ৬০ টাকায় চাল পাওয়া যায়-এটা তো রীতিমত জাতীয় ষড়যন্ত্র!
এই সেতুগুলো না থাকলে আজ আমরা ১০ টাকায় চাল খেতাম, আহা কি আফসোস, ফেরিতে বসে পচা ডাল আর ভাগ্য ভরসায় জীবন কাটাতাম। কৃষক মাঠে ফসল ফলাত না, ট্রাক আটকে থাকত, পণ্য পৌঁছাত না—কিন্তু চাল হতো সস্তা! অর্থনীতি ধ্বংস, কিন্তু যুক্তি অটুট!
তাই আমি ধিক্কার জানাই শেখ হাসিনাকে-এত সেতু বানানোর জন্য। ধিক্কার জানাই খালেদা জিয়া ও এরশাদকেও-আপনারাও কম যান না। একটার পর একটা সেতু, সড়ক, মহাসড়ক বানিয়ে দেশটাকে নরক করে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখানে মানুষ সময় বাঁচায়, উৎপাদন বাড়ায়, জীবন সহজ করে ফেলে। এ আবার কেমন রাষ্ট্রচিন্তা?
কে আপনাদের বলেছিল এসব বানাতে? দেশের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা লাগে-এই ভয়ংকর ভুল ধারণা আপনাদের মাথায় ঢুকলো কীভাবে? একটু আগে যদি এই উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতেন, তাহলে হয়তো এখনো আমরা গরুর গাড়িতে চড়ে, নৌকায় ভেসে, চাল ৫ টাকায় কিনে সুখে থাকতাম।
জোকস apart- এই মানুষটার কি সত্যিই কেউ নেই? কোনো মুরুব্বি, কোনো সহকর্মী, কোনো বন্ধু? অন্তত অফিসে চা খাওয়ার সময় কেউ তো বলতে পারতো- “ভাই, এই কথাটা টিভিতে না বললেও চলে।”
কারণ সমস্যা মতামতে না। সমস্যা হলো অজ্ঞতাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করা। আর সেটাই যখন রাষ্ট্রের উপদেষ্টার মুখ থেকে আসে, তখন সেটা আর কৌতুক থাকে না—তা হয়ে ওঠে জাতীয় দুর্ভাগ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


