প্রায় দুই বৎসর আগে এই প্রোফাইলটা চালু করেছিলাম। তখন মনে খুব শখ ছিল আমার লিখাগুলা মানুষ পড়বে। ৮ বছর বয়স থেকে লিখছি। কবিতা লিখেছি, গল্প লিখেছি এমনকি একবার উপন্যাস লিখার চেষ্টাও করেছি। সব হার্ডড্রাইভ আর খাতার চতুর্ক্ষেত্রে আটকে ছিল। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমি ভেবেছিলাম এইবার ওদের দিনের আলোয় আনব।
তবে সেরকম কিছু হয় নাই। দুই একটা লিখা ঘাঁটাঘাঁটি করে বের করে এনেছি। দুই একটা নূতন করে লিখেছি তারপর ধাম করে একদিন সব বন্ধ করে দিলাম। হাতে কলম/কি বোর্ড কোন কিছুই ধরা হয় না।
মাথার চিন্তাগুলা কালো কালিতে ঝাড়তে না পারলে সব একসময় ঝাপসা হয়ে আসতে চায়। চোখ কুঁচকে মনে করতে হয় ছয়মাস আগে আমি কে ছিলাম, কি ভাবতাম। এখন আমি কে? আমার এখন চিন্তাধারা কেমন? নিয়মিত কলম নিয়ে বসা গেলে যা হবে তা হল স্মৃতি বলে কিছু থাকবে না। সবকিছুই বর্তমান মনে হবে। জানা দরকার, অতীত স্মৃতির চেয়ে বড় বেঈমান আর কিছুই হতে পারে না। স্মৃতি দুঃখের অভিজ্ঞতাকে আনন্দের আর আনন্দের অভিজ্ঞতাকে নিরানন্দের মোড়কে মুড়ে দিতে পারে।
আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুটা দুই বছর আগে একটা দুর্ঘটনাক্রমে মারা যায়। সেদিনই আমি কিছু লিখে রেখেছিলাম। এখন দুঃখগুলা ফিকে হয়ে এসেছে। আবেগের জায়গায় মগজের ডানদিক আক্রমণ করছে। আমি তাই লিখাটা পড়ি। আমার অনুভূতিগুলাকে হয়তো সে লিখা আবার জীবিত করতে পারে না। কিন্তু আমি ঠিকই মনে করতে পারি আমি কেমন বোধ করছিলাম। এটা স্মৃতি চারণ না, এটা হচ্ছে বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় সত্তা হিসাবে নিজের অতীত সত্তাকে দেখতে পাওয়া। আমি আশাবাদী আমি আবার লিখতে শুরু করব। লিখা-লিখি আবেগ আর যুক্তির মাঝখানে সীমারেখাটা ধরে রাখে, যাতে করে জীবনে বেসামাল হওয়া না লাগে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

