somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্প : বলি

২২ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ঘটনা শুনেছেন, দাদা?”
অন্যমনস্ক হয়ে ছিল প্রণয়। চমকে মুখ তুলে দেখলো বত্রিশটা দাঁত বের করে কবির তাকিয়ে আছে ওর দিকে। কবিরটা বড্ড নিঃশব্দে হাঁটে। একদম বিড়ালের মতো। বিরক্ত বোধ করলো প্রণয়। এই অবেলায় কি শুনাতে এসেছে কে জানে!
হাতের বইটা ধীরেসুস্থে বন্ধ করে কবিরের উদ্দেশ্যে বলল,“কি হয়েছে, কবির?”
কবির একটা মোড়া টেনে নিল। বসতে বসতেই বলল,“আজ্ঞে, তেমন কিছু না। ঠাকুরমশাই এসেছিলেন। আপনার খোঁজ করেছেন। নেই জেনে আপনাকে বলতে বলেছেন, বলি ছাড়া ঐ কাজ সম্পন্ন হবে না। কোন কাজ সে আমি জানি নে। আপনি জানেন?”
মুহুর্তেই প্রণয়ের মুখটা কালো হয়ে গেল। বেশ চিন্তায় পড়ে গেছে যেন। ব্যাপারটা চোখ এড়ালো না কবিরের। জিজ্ঞেস করল,“আমি কি কোনভাবে সাহায়্য করতে পারি,দাদা?”
এবার প্রণয় হাসলো। প্রথমে কিছুটা দ্বিধান্বিত মনে হলেও পরমুহুর্তেই মিলিয়ে গেছে সেটা। কিছু না বলে বইটা আরামকেদারার উপর রেখে উঠে দাঁড়াল। দেখাদেখি কবিরও উঠল। ছেলেটা বয়সে বিশ-একুশ বছরের বেশি হবে না। কথায় বয়স্কদের মতো ধাঁচ আছে। তবে সহজ সরল, প্রাণচঞ্চল ছেলে। অনেক বছর আগে প্রণয়ই ওকে একটা এতিমখানা থেকে নিয়ে এসেছিল।
কবিরের কাঁধে হাত রাখলো ও। মুখে উচ্চারণ করলো,“চল, কবির। একটু বেড়িয়ে আসি।”
কবির কিছু বলল না। চুপচাপ দুজনে এসে হাজির হল বাড়ির পেছন দিকে। সেখানে একটা পোড়ো বাড়ি আছে। আগে কাছারিঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন কেউ পাও মাড়ায় না। প্রণয় ভেতরে ঢুকে ঘরটার এক কোণার মেঝে থেকে একটা বড়সড় তক্তা সরিয়ে নিল। তক্তা সরাতেই চতুর্ভুজাকৃতির একটা গর্ত বেরিয়ে এলো। মুখে সিঁড়ির ধাপও দেখা যাচ্ছে। প্রণয় নেমে পড়ল সেখানে। ইশারায় কবিরকেও আসতে বলল। এর আগেও অনেকবার নিচের ঘরে গিয়েছে কবির। অবশ্য ওরা দুজন ছাড়া আর কেউ জানে না এই বেসমেন্টের কথা। কয়েক লাফে নেমে এলো সেও। বেসমেন্টটা মাঝারি আকারের। কম ওয়াটের বাল্বে হালকা আলোকিত হয়ে আছে সেটা। এখানে প্রণয় তার ব্যক্তিগত শখের কাজগুলো করে থাকে। যেগুলোর কথা শুনলেই অন্য মানুষ তাকে পাগল ঠাউরাবে। ঘরটার মাঝে ছোট্ট একটা টেবিল আর তিনটে চেয়ার রাখা। টেবিলের পেছনে অনেকগুলো বুকশেলফ। একদিকে একটা কম্পিউটার রাখা। কবিরকে একটা চেয়ারে বসতে বলে প্রণয় নিজে এগিয়ে গেল বুকশেলফগুলোর দিকে। কাছে গিয়ে ঝুঁকে শেলফের তলা থেকে নিঃশব্দে তুলে নিল তার বিশস্ত তলোয়ার 'নগোরান'। মনস্থির করে ফেলেছে ও। বলিটা দেবে। আজ আর তাকে কেউ আটকাতে পারবে না। অমরত্ব এখন হাতের মুঠোয়!
ভাবনাটা শেষ করার সুযোগ পেলো না প্রণয়। তার আগেই হকি স্টিকের জোড়ালো বাড়িতে ধুপ্ করে পড়ে গেল মাটিতে। পতনের জোরে চারপাশে ধুলোর কুয়াশা তৈরি হয়ে গেল। স্টিকটা মাথার উপর তুলতে তুলতে চিৎকার করে উঠলো কবির,“অমরত্ব এত সহজ নয় রে, শালা!”
জ্ঞান হারানোর আগে প্রণয় দেখতে পেল, কবিরের বাহুতে ঠাকুরমশাইয়ের মতো উল্কি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:১৬
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ মায়া

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২৩


মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো পরিচয় দেওয়া যায় না। তাদের সঙ্গে ভালোবাসা থাকে, অথচ তাকে ভালোবাসা বলা যায় না। শ্রদ্ধা থাকে, অথচ শুধু শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×