somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাসের ইতিহাস

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারেক কি জাহাজগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিল?

আমাদের আন্দালুস-স্পেনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে গেলে বর্তমানে একটি কথা বেশি শোনা যায়।তা হল,যে "আন্দালুস অভিযানে মুসলিম বাহিনী স্পেনে পৌছার পর সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ রহঃ নাকি জাহাজগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। যাতে করে কেউ আর ফিরে যেতে না পারে"
আসলে কি ঘটনা এমন!?
অথচ স্পেনের নির্ভরযোগ্য কোন ইতিহাস গ্রন্থে তা পাওয়া যায় না।এমন আন্দালুসের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বড় ইতিহাসগ্রন্থ, আল্লামা মুকাররী'র "নাফহুত-তীবে"ও এ ঘটনার কোন উল্লেখ নাই।
>>আল্লামা উছমানী* বলেন,"তারেক বিন জিয়াদের অগ্নিঝরা বক্তব্য থেকে হয়ত এই ঘটনাটাকে অনুমান করা হয়েছে--(দুনিয়া মেরে আগে)
বাস্তব ইতিহাস হচ্ছে,তারেক বিন জিয়াদ রহঃ কোন জাহাজ পুড়াননি;বরং জাহাজ পুড়ানোর 'ইতিহাস'টা 'সভ্য'(!)ইউরোপিয়ানদের বানানো কাহিনী ।
কারণ, ইউরোপিয়ান-ফিরিঙ্গীদের বিস্ময়ের ঘোর কাটে না,যে মুসলমানরা অপরিচিত-আজনবি, অন্যের ভূ-খন্ডে এসে অল্প-অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মাত্র বার হাজার পায়দল মুজাহিদ কীভাবে একলক্ষ অস্ত্রে সজ্জিত ঘোড়সওয়ার সেনা বাহিনীকে পরাজিত এবং নাস্তবাবুদ করে ছাড়ল!শেষফল সমগ্র স্পেন, ফ্রান্সের কিছু অংশসহ তারা বিজয় করে নিল!
মুসলিম মুজাহিদদের এই সাহসীকতা-বীরত্ব এবং খৃস্টানদের ব্যর্থতা-কে লুকানোর জন্য তারা কাহিনী তৈরি করল,যে "তারেক জাহাজগুলোকে জ্বালিয়ে দিয়ে মুসলিম সৈন্যদেরকে যুদ্ধ করতে বাধ্য করল।
আসলে এই সমস্ত খৃস্টান-কাফেররা অন্ধের জাতি।তারা কুর'আনের এই বাণীগুলো বুঝে না।

"...সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।--- সূরা বাকারা "
আসলে যুদ্ধের ময়দানে ইসলামি বাহিনীর আসল হল সংখ্যায় 'কম' হওয়া।আর দুশমন 'বেশি' হওয়া।আর এই কমসংখ্যক মুজাহিদ নিয়ে মুসলামনার আল্লাহর সাহায্য পেত,দুশমনদের উপর বিজয়ী হত।
বরং আশ্চার্য হচ্ছে মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি হয়ে যদি 'হুনাইনে'র মত অবস্থা ঘটত!!!

" আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্তেও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।= তাওবা "


=== রহস্যময় আদমচূড়া!


শ্রীলংকার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপাডা প্রদেশে অবস্থিত রহস্যময় 'আদমচূড়া '।
হাজার বছর ধরে মানুষের কাছে রহস্যের সাক্ষর বহন করছে এই এড্যাম পিক বা আদমচূড়া।
বলা হয় এই চূড়াতেই বেহেশত থেকে সরাসরি নামানো হয় আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)কে।
চারিদিকে সবুজে ঘেরা,উঁচু -নিচু পাহাড়ি টিলার মাঝে অবস্থিত এই চূড়াটি।আশে পাশে রয়েছে ছোট বড় নদি-নালা।সব মিলিয়ে নয়নাভিরাম এক দৃশ্য।
এই চূড়ার উচ্চতা ৭৩৬২ফুট।২২৪৩মিটার।
চূড়াটি-তে হযরত আদম আঃ এর যে পদচিহ্ন (আল্লাহ মা'লুম) রয়েছে,তার পরিমাপ হচ্ছে ৫ফুট ৭ইঞ্চি।বলা হয়ে থাকে, খৃস্টপূর্ব ৩০০অব্দ আগে এই পদচিহ্ন টি আবিস্কার হয়।এর পর এটাকে ঘুরে রাখা হয়।
যুগ যুগ ধরে এই চূড়াটিতে অনেক পর্যটক পরিভ্রমণ করে।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,ইবনে বতুতা এবং মার্কো পলো।

আরো রহস্য হচ্ছে চূড়ার যে স্থানে হযরত আদম আঃ এর পদচিহ্ন রয়েছে,সে স্থানে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যের আলো আর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মেঘের ঘনঘটা বা বৃষ্টি পড়ে না।বছরের পর বছর অবিকল রয়েগেছে এই চূড়াটি।
মানুষের কাছে এই চূড়াটি পবিত্র এবং দর্শনীয় হিসেবে পরিচিত।

(আল্লাহু আ'লামু বিস-সাওয়াব)
কারো কাছে সঠিক তথ্য থাকলে যানাবেন।
* আল্লামা মুফতি তক্কী উছমানী >> দুনিয়া মেরে আগে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×