somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষের ছায়া---অ্যাসিমো

২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোটর গাড়ি নির্মাতা হোন্ডা ১৯৮৬ সালে ঘরের কাজের সাহায্যের জন্য প্রথম মানবাকৃতির রোবট তৈরির কাজ শুরু করে। হোন্ডার প্রকৌশলীরা জানতেন এই রোবটকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে এটি সহজে ঘরের ভেতর ও এর চারপাশে ঘোরাফেরা করতে পারে। আর সে জন্য তাঁরা প্রথমে উদ্যোগ নেন রোবটের পা তৈরি করার। একপর্যায়ে হাঁটার যন্ত্রপাতি ছাড়াও বাহু, হাত এবং অবশেষে তাঁরা রোবটের মাথা তৈরি করে ফেললেন।
১৯৮৬—ধীরে ধীরে হাঁটা
হোন্ডা প্রথমে যে মানবাকৃতির রোবট তৈরি করেছিল তার নাম ছিল ই৩। ই৩ খুব আস্তে আস্তে হাঁটত। একটি পদক্ষেপ নিতে সময় নিত ২০ সেকেন্ড। ওজনের ভারসাম্য ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আরেক পদক্ষেপ ফেলত না।
ফলে খুব বেশি পথ এগোতে পারত না ই৩। কাজেই এ ব্যাপারে হোন্ডার গবেষণা অব্যাহত থাকে।
১৯৮৭—গতিশীল হাঁটা
ই৩ তৈরি করার এক বছরের মধ্যে হোন্ডার প্রকৌশলীরা একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন, যা রোবটকে মানুষের মতো হাঁটতে সক্ষম করল। টুকটুক করে হাঁটা শুরু করল রোবট। এই রোবটের নাম দেওয়া হয় ই১।
১৯৯১
ই১ রোবটের অনুকৃতি ই৪, ই৫ ও ই৬-এ হোন্ডার প্রকৌশলীরা রোবটের হাঁটাকে আরও যথাযথ করলেন। এসব রোবট ঢালুপথে, সিঁড়ি ও বন্ধুর পথেও স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারে।
১৯৯১—মানুষের সঙ্গে বেশি মিল
শরীর, বাহু, হাত ও মাথাসহ পরবর্তী প্রজন্মের (পি১, পি২ ও পি৩) প্রটোটাইপগুলোর অনেক বেশি মিল ছিল মানুষের সঙ্গে। ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা ও ৩৮৬ পাউন্ড ওজনের এসব রোবটও স্বচ্ছন্দে সব জায়গায় হাঁটতে পারত। হাঁটা ছাড়াও এরা হাত দিয়ে যেকোনো জিনিস আঁকড়ে ধরতে পারত। পি২ রোবটকে কেউ ধাক্কা দিলে তা পড়ে না গিয়ে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করত। পি৩ রোবট তার পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক দ্রুত ও আরও স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারত। এর উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি, ওজন ছিল ২৮৭ পাউন্ড।
১৯৯৭—অ্যাসিমো
হোন্ডা তার মানবাকৃতির নতুন নাম দেয় অ্যাসিমো। এরই মধ্যে এর ব্যাপক পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করা হয়। এটি হাঁটতে থাকে সুন্দরভাবে এবং সব পরিবেশের সঙ্গে অ্যাসিমো নিজেকে মানিয়ে নেয়। পশ্চােদশ সংযোজন করায় এটি শরীর ঘোরাতে পারে স্বচ্ছন্দে। অ্যাসিমোকে ঘর-গেরস্থালির কাজসহ অন্যান্য কাজে লাগানোর জন্য প্রকৌশলীরা এর উচ্চতা কমিয়ে চার ফুটে নিয়ে এলেন। এ রকম উচ্চতা দেওয়ার ফলে অ্যাসিমোর পক্ষে টেবিল পরিষ্কার, লাইটের সুইচ জ্বালানো ও নেভানো এবং দরজার নক ঘোরানোসহ অনেক টুকিটাকি কাজ করা সহজ হয়ে যায়। প্রকৌশলীরা অ্যাসিমোর ওজন কমিয়ে ১১৫ পাউন্ড বা ৫২ কেজিতে নিয়ে এলেন। ‘প্রেডিক্টেড মুভমেন্ট কন্ট্রোল’ নামের একটি প্রযুক্তি অ্যাসিমোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।
২০০৫—শক্তিশালী অ্যাসিমো
হোন্ডার প্রকৌশলীরা অ্যাসিমোর গতিব্যবস্থাকে আরও হালনাগাদ করেন। এর হাঁটার গতি বাড়িয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত করেন। অ্যাসিমো এখন প্রতি ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটার দৌড়াতে পারে। এর উচ্চতা দেওয়া হয়েছে চার ফুট তিন ইঞ্চি বা ১৩০ সেন্টিমিটার। তবে ওজন মাত্র ১১৯ পাউন্ড। অ্যাসিমো চলে লিথিয়াস ব্যাটারিতে। এতে সংযোজন করা হয়েছে আইসি কমিউনিকেশন কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে অ্যাসিমো লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ও কথা বলতে পারে। এক যুগ পেরিয়ে অ্যাসিমো এখন অনেকটাই উন্নত।
২০১০ এর অ্যাসিমো এর কথা আর একদিন লিখব।কারণ সে এখন এতই উন্নত যে তার কথা লিখতে গেলে মহাকাব্য লেখা হয়ে যাবে।।
হোন্ডার ওয়েবসাইট অবলম্বনে
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×