somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষণীয় রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ও এক টুকরো চির সবুজ স্মৃতি।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩ ডিসেম্বর সকাল ১০ টা রাজধানীর সোহারাওয়ার্দি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুষদে সন্মান ২য় বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়েছে আসন্ন পরীক্ষা,ব্যাবহারিক ক্লাস,শিক্ষা সফর ও আড্ডা দেওয়ার জন্য।কিন্তু বিধিবাম জাকিয়া লাইলা ম্যামের সাথে কুশল বিনিময় করতে গিয়ে আমাদের উদ্দেশ্য হাসিল হল না।তিনি আমাদের অফিস কক্ষের বর্ধিত অংশে তার জন্য অপেক্ষা করতে বললেন,তিনি পাঠদান করবেন।আমরা বেশ হতাশ হচ্ছিলাম,আড্ডা দিব তা না করে ক্লাস :( ।অনিচ্ছা সত্যেও ক্লাশে ঢুকলাম।ম্যাম এসে যথারীতি হাজিরা নিলেন এবং রাকিবকে একগুচ্ছ বাঁশ উপহার দিলেন।


বাঁশ উপহার পর্বে শেষে ম্যাম হঠাৎ করে হার্বেরিয়াম এর কথা আমদের জিজ্ঞেস করলেন।অনেকেই খুব আগ্রহে এবং উত্তেজনার সাথে জানাল তারা হার্বেরিয়াম সম্পর্কে জানে।তবুও ম্যাম হার্বেরিয়াম করা একটা নমুনা কাথা আমাদের দেখালেন এবং হঠাৎ বললেন“চলো আজকে আমরা নমুনা সংগ্রহ করি”।আমরা আনন্দের সাথে শিক্ষিকার সাথে সহমত পোষণ করলাম।
হার্বেরিয়াম উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহের একটি বিশেষ পদ্ধতি।


আমরা তখনো জনতাম না আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে।প্রথমে আমাদের ক্যাম্পাস :p ঘুরলাম যদিও তেমন তেমন কিছু পেলাম না।এরপর লক্ষ্মীবাজার দিয়ে একটু এগিয়ে বাংলাবাজার হয়ে আমরা ঢু মেরেছিলাম প্যারিদাস রোডের বেশ কয়েকটি ঐতিয্যবাহি পুরানো সনাতন ধর্মালম্বিদের বাড়িতে।এখনো বাড়িগুলোতে আজ্ঞিনা আছে,আছে ওষধিসহ নানা রকমের সোভা বর্ধনকারী বাহারি গাছের সমাহার।আমারা বাড়ির আজ্ঞিনায় এবং পরিত্যক্ত জায়গায় ও রাস্তার পাশে পুরনো বাড়ির দেওয়াল জন্মানো বিভিন্ন উদ্ভিদের নমুনা জাকিয়া লাইলা ম্যামের নির্দেশনায় সংগ্রহ করছিলাম।আমরা পুরো পথ পায়ে হেটে নমুনা সংগ্রহ করছিলাম।এক সময়ে পৌঁছে গেলাম শ্রী শী রায় বল্লভ মন্দিরে।সেখানে একটা সুন্দর সাম্প্রদায়িক মেলবন্ধনের ছবি দেখলাম,পাশাপাশি মন্দির ও মসজিদ।সন্ধ্যাবেলা যখন মসজিদে মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে যায় ঠিক তখন হিন্দুরা তার পাশের মন্দিরে উলুধ্বনি ও শাঁখ বাজায়।
সেখান থেকে একটু এগোলেই শ্রীশদাস লেন।আর এই লেনে ঢুকলেই বাম পাশে চোখে পরবে ছোট একটা সাইন বোর্ড ।খুব বেশি ঝিকিমিকি নয়,অতিসাধারণ।তবে সেটাই বিখ্যাত ‘বিউটি বোর্ডিং’।কবি-সাহিত্যিকদের কাছে এই বিউটি আড্ডার কেন্দ্রস্থল। যারা শিল্প-সাহিত্যের খোজ রাখেন -তাদের কাছে এই নাম রক্তে নাচন ধরায়


ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল ফিকে হলুদ রঙের একটি দোতলা বাড়ি। বাড়ির সামনে প্রশস্ত উঠোন। শ্যামল-সবুজে ঘেরা। একেবারে আড্ডার উপযোগী জায়গা। পাশে খাবার ঘর, শোবার ঘর, পেছনে সিঁড়িঘর সবই পুরনো বাড়ির রূপকথার গল্পের মতো সাজানো। এই বিউটি বোর্ডিং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র বা ইতিহাসের ভিত্তিভূমি। যেন একটি জ্যান্ত ইতিহাস সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিউটি বোর্ডিং ও এর আড্ডার ইতিহাস চল্লিশের দশক থেকেই সুখ্যাতি লাভ করেছিল। সমমনা লোকদের তখন বিভিন্ন বিষয়ে চলত তোলপাড় করা সব আড্ডা। অনেক কবি-সাহিত্যিকেরই এভাবে লেখা তৈরির বহু ইতিহাস রয়েছে এই বিউটি বোর্ডিংয়ে।আমরা বিউটির সৌন্দয্য ঘুরে দেখলাম।এরপর কথা হলো বিউটির বর্তমান মালিক তারক সাহার সাথে। বিউটি বোডিং নিয়ে গল্প শেষ হবে না।সে আরেক দিন করব।
অবশেষে আমরা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরলাম।সেখান হালকা নাস্তা ও আড্ডা শেষে প্রস্থান করলাম। দারুন সময় কাটালাম।নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম একটা চির সবুজ সময় কাটালাম।অনেক অনেক ধন্যবাদ সবাইকে সুন্দর একটা অভিজ্ঞতার সঙ্গী করার জন্য।
আর হ্যা আমরা কিন্তু প্রচুর ছবি তুলেছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫




ব্লগে মাঝে মাঝে কোন লোক থাকে না। মাঝে মাঝে কম লোক থাকে। সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন-নিস্তব্ধতা হিরম্ময়।এ অবস্থা বিরাজমান হওয়াতে ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো। কোখাও কেউ নেই। ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

×